জেল হত্যা দিবস: ইতিহাসের এক কলঙ্কময় অধ্যায়
- আপডেট সময় : ০৪:০১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ নভেম্বর ২০২১ ২৯০ বার পড়া হয়েছে
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কময় দিন। মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ, মন্ত্রীপরিষদ সদস্য ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও কামরুজ্জামানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করা হয়। দিনটি জেলহত্যা দিবস হিসাবে পালিত হয়ে আসছে। কারাবন্দী জাতীয় নেতাদের হত্যা সম্ভবত এটিই প্রথম কোন ঘটনা।
এর আগে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সংঘটিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞ বাংলাদেশের ইতিহাসে আরও একটি কালো অধ্যায়।
বাঙালির পরিচয় নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। বাঙালির স্বাধীকার আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক এই শহীদ মিনার। জেল হত্যা দিবসে চার জাতীয় নেতার আত্মার শান্তি কামনায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে মঙ্গলবার মোমবাতি প্রজ্জ্বোলন কর্মসূচি পালন করে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা বলেন, ৭৫’র ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা পর কারাগারে বন্দী অবস্থায় জাতীয় চারনেতাকে হত্যা পৃথিবীর ইতিহাসে বর্বরোচিত ঘটনা হিসাবে চিহ্নিত। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা বলেন।
জাতীয় এই চার নেতার স্মরণে বুধবার নানা আয়োজনে পালিত হয় জেলহত্যা দিবস। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।
জেলহত্যার পরদিন তৎকালীন উপ-কারা মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ ২১ বছর এই বিচারের প্রক্রিয়া ধামাচাপা
দিয়ে রাখা হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার প্রক্রিয়া শুরু করে। ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর ২৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. মতিউর রহমান মামলার রায় দেন। রায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।
জাতীয় চার নেতাকে যে কক্ষে হত্যা করা হয়েছিলো, সেখানে দেওয়াসহ বিভিন্ন স্থানে গুলির চিহ্ন সংরক্ষণ করে সেলটিকে জাতীয় চার নেতা স্মৃতি জাদুঘর রূপান্তর করা হয়েছে। এরই খানিকটা দূরে রয়েছে বঙ্গবন্ধু কারা স্মৃতি জাদুঘর।
বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও জোটের যুগ্ম সম্পাদক তারিন জাহান বলেন, কারাগারে হত্যা যজ্ঞের নিন্দার জানানোর ভাষা আমাদের নেই।
২০১০ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার স্মৃতিবিজড়িত কারা জাদুঘর উদ্বোধন করেন। ২০১৩ সালের ২৮ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক কারা-২ অধিশাখা এক প্রজ্ঞাপনে বঙ্গবন্ধু ও চার নেতার স্মৃতি জাদুঘরকে জাতীয় জাদুঘরের শাখা হিসেবে ঘোষণা দেয়। কারা জাদুঘর সকলের জন্য উন্মুক্ত করার কথা থাকলেও দীর্ঘ ছয় বছরেও তা করা সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালের ২৯ জুলাই পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সব বন্দিকে সরিয়ে নেওয়া হয় কেরানীগঞ্জের নতুন কারাগারে।

জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার সূর্য উদয় ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে সংগঠনের সব স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ এবং কালো পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু করে আওয়ামী লীগ। এদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি-বিজড়িত ধানমন্ডি ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে তার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে আওয়ামী লীগ। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠনসহ মহানগরের প্রতিটি শাখার নেতাকর্মীরা যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।





















