জাহাজে পণ্য আটকে কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ: এজেন্টদের সিন্ডিকেটে বিপর্যয়ের মুখে জাহাজ শিল্প
- আপডেট সময় : ০৮:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫ ৭৪ বার পড়া হয়েছে
এজেন্টদের কারসাজি : গোটা নৌ পরিবহন খাত হুমকির মুখে পড়ছে
পণ্যভর্তি জাহাজ ভাসমান রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে কিছু এজেন্ট-এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স এসোসিয়েশন। রোববার (১৬ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা জানান, নির্ধারিত সময় পার হলেও পণ্য খালাস না করায় জাহাজ মালিকরা বিপুল লোকসান, চরম হয়রানি ও গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
সংগঠনের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে পণ্য আটকে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে, আর এই সুযোগে কিছু এজেন্ট কোটি কোটি টাকার অবৈধ মুনাফা করছে। এতে জাহাজ মালিকদের জাহাজ স্ক্রাপ হয়ে যাচ্ছে, শ্রমিকরা বেকার হচ্ছে এবং গোটা নৌ পরিবহন খাত হুমকির মুখে পড়ছে।
বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মেহবুব কবির বলেন,
প্রকাশিত পণ্য পরিবহন নীতিমালা অনুযায়ী আমরা সিরিয়াল মেনে পণ্য পরিবহন করি। কিন্তু ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে গড়ে ওঠা এজেন্ট সিন্ডিকেট এই নীতিমালা ভঙ্গ করে মাসে ৩ থেকে ৪ ট্রিপ দিচ্ছে, যেখানে আমরা ২–৩ মাসে একটি ট্রিপ পাই।
তিনি অভিযোগ করেন, কয়েকটি পণ্যের এজেন্ট শত শত কোটি টাকা বকেয়া রেখে নিজেদের জাহাজ কিনছে, অন্যদিকে সাধারণ মালিকদের জাহাজ স্ক্রাপ হয়ে যাচ্ছে এবং হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ছে।
তিনি আরও জানান, নিয়ম অনুযায়ী ছোট জাহাজ ৮ দিনে এবং বড় জাহাজ ১১ দিনের মধ্যে খালাস হওয়ার কথা থাকলেও এজেন্টরা ১০–১১ মাস ধরে জাহাজগুলোকে ভাসমান গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করছে। ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে এবং মালিকরা লোকসানের পাহাড়ে ডুবে যাচ্ছে।
নেতারা বলেন, এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে জাহাজ শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে, ফলে দেশের নিত্যপণ্য পরিবহনে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেবে। এই খাতে জড়িত লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত ১০ দফা দাবি
১. পণ্য পরিবহন নীতিমালা–২০২৪ বাস্তবায়ন করতে হবে।
২. নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের পক্ষপাতমূলক আচরণ বন্ধ করতে হবে।
৩. বিগত সরকারের আমলের এজেন্ট সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে।
৪. বিডব্লিউটিসিসি পরিচালনা পরিষদ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভিত্তিতে গঠন করতে হবে।
৫. বকেয়া ড্যামারেজের ২১১ কোটি টাকা পরিশোধসহ চলমান সমস্ত ভাড়া দিতে হবে।
৬. ভাসমান গোডাউন ব্যবহারের নামে জাহাজ আটকে রাখা বন্ধ করতে হবে।
৭. সব জাহাজকে নৌ নীতিমালা অনুযায়ী সিরিয়ালভুক্ত করতে হবে।
৮. ফ্যাক্টরি মালিকদের নীতিমালা বহির্ভূত চার্টার জাহাজের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
৯. বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের সদস্য ছাড়া পণ্য পরিবহন বন্ধ করতে হবে।
১০. সমুদ্রবন্দর থেকে বাল্কহেডে পণ্য পরিবহন বন্ধ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে কোস্টাল শীপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খুরশিদ আলম, বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মেহবুব কবিরসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



















