জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ১৮৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
- আপডেট সময় : ১০:৩২:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৯৯ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬কে সামনে রেখে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন, যশোরের আওতাধীন ১৮টি জেলার ১০৮টি উপজেলার ৬২টি সংসদীয় আসনে মোট ১৮৩ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় বেনাপোলের আমড়াখালী বিজিবি চেকপোস্টে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নির্বাচনকালীন সময়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটারদের ভোটাধিকার সুরক্ষায় বিজিবি একটি পেশাদার ও নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সব নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করাই বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়।
দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় উপজেলা ভেদে সর্বোচ্চ ছয় প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এ অঞ্চলে ৯৩টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে এবং ১০৮টি উপজেলায় বিজিবি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
এছাড়া যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ তিনটি জেলার ১৬টি উপজেলার ১১টি সংসদীয় আসনে প্রায় ৩১ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এসব এলাকায় ১১টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষায়িত কে-নাইন ডগ স্কোয়াড, ড্রোন ও বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পারাপার, অস্ত্র ও গোলাবারুদের অনুপ্রবেশ এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা রোধে চেকপোস্ট স্থাপনসহ নিয়মিত তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নে কাজ চলছে।
দেশব্যাপী নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সুরক্ষিত রেখে ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টিতে বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবে।
যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম (র্যাট), কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) এবং হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
বিজিবি কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করে জানায়, সরকার, নির্বাচন কমিশন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।











