চলে গেলেন কল্যাণী কাজী
- আপডেট সময় : ০৭:৫৩:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ মে ২০২৩ ৩১৮ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিনিধি
কাজী নজরুল ইসলামের পুত্র কাজী অনিরুদ্ধের সহধর্মিনী নজরুল গবেষক কল্যাণী কাজী। ৮৮ বছর বয়সে বার্ধক্য জনিত কারণে প্রয়াত হলেন তিনি। ১২ মে কলকাতা থেকে ঢাকায় ফেরার পথেই খবরটি দিলেন স্বাস্থ্য বিষয়ক পত্রিকা সুস্বাস্থ্য ও সুস্বাস্থ্য প্রকাশনির কর্ণধার শ্রদ্ধেয় দেবব্রত কর।
জানালেন, কাজী নজরুল ইসলামের পুত্র কাজী অনিরুদ্ধের সহধর্মিনী নজরুল গবেষক কল্যাণী কাজী এদিন ভোর ৫ টায় কলকাতার পি জি হসপিটালে ৮৭ বছর বয়সে বার্ধক্য জনিত কারণে প্রয়াত হয়েছেন। তাঁকে শ্রদ্ধা জানাই । নজরুল ইসলাম বাঙালির এক বিরাট আবেগের জায়গা। কবি নজরুলের পুত্রবধূ কল্যাণীকে প্রণাম।

প্রতিথযশা নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ও গবেষক কল্যাণী কাজীর সঙ্গে ঢাকায় দেখা হয়েছে। কবি প্রয়ানের পর তিনি কলকাতীয় স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। দেবব্রত বাবু কল্যাণী কাজীর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেন, কল্যাণী কাজীর মৃত্যুর সাথে সাথে ইতিহাসের এক বিরাট অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।
জানা গিয়েছে, বার্ধক্যজনিত কারণে গত নভেম্বর থেকেই কলকাতার যোধপুর পার্কের কাছে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন কল্যাণী কাজী। পরে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সহায়তায় তার চিকিৎসা চলছিল কলকাতার মাল্টি সুপার স্পেশালিটি এসএসকেএম হাসপাতালে।
সেখানেই পেসমেকার বসানো হয় তার। যদিও অবস্থান উন্নতি হয়নি। হাসপাতালেই দীর্ঘকালীন চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকরা জানান, শুক্রবার সকালে কল্যাণী কাজীর মাল্টি অর্গান ফেইলিওর হয়ে মৃত্যু হয়।
কল্যাণী কাজীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শোকবার্তায় তিনি বলেন, বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ও কল্যাণী কাজীর প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি।

তার প্রয়াণে সংগীতজগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো। আমি কল্যাণী কাজীর আত্মীয়স্বজন ও অনুরাগীদের সমবেদনা জানাচ্ছি।
কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি ছিলেন কল্যাণী কাজী। নজরুলের গানে তার অবদানের জন্য ২০১৫ সালে সংগীত মহাসম্মান পুরস্কারে ভূষিত করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
তার মৃত্যুর খবরে এসএসকেএম হাসপাতালে ছুটে যান পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং তথ্যমন্ত্রী গায়ক ইন্দ্রনীল সেন।

১৮ বছর বয়সে পুত্রবধূ হয়ে সংসারে আসেন কল্যাণী। তার পর খুব কাছ থেকে দেখেছেন কাজী নজরুল ইসলামকে। কবির জীবদ্দশায় যারা তাকে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে দেখার সুযোগ পেয়েছেন, তাদের একজন হলেন এই পুত্রবধু কল্যাণী কাজী। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন অন্তরঙ্গ অনিরুদ্ধ শিরোনামে একটি বই। যার শুরুতে উঠে এসেছে কল্যাণী কাজীর বাল্য জীবনের কথা।
১৯৫২ সালের অক্টোবর মাসে রাঁচিতে বেড়াতে গিয়ে অপ্রত্যাশিতভাবেই কাজী অনিরুদ্ধর সঙ্গে তার প্রথম আলাপের স্মৃতি। কল্যাণী কাজীর স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে প্রনয়ের সেই দিনগুলি। এই বই কাজী অনিরুদ্ধর প্রতি তার পরিবারের এক বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে নজরুলের ঘনিষ্ট সম্পর্ক নিয়ে রবি পরিক্রমাও লিখছেন তিনি।
উল্লেখ্য তার স্বামী কবির কনিষ্ঠপুত্র গিটারবাদক কাজী অনিরুদ্ধ ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ সালে মারা যান।



















