কোন সুখের স্বপ্নে বিএনপিকে ভোট দেবে: শেখ হাসিনা
- আপডেট সময় : ০৯:৪৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অক্টোবর ২০২১ ৩১৬ বার পড়া হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাফাইল ছবি
কোনো সম্ভাবনা নেই বলেই বিএনপির নির্বাচন নিয়ে এত ক্ষোভ
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোনো সম্ভাবনা নেই বলেই বিএনপির নির্বাচন নিয়ে এত ক্ষোভ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অংশগ্রহণ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। সোমবার বিকালে গণভবন থেকে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।
নির্বাচন কমিশন কিভাবে গঠিত হবে এবং ভোটারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সরকার কি করছে, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনারা তো বেশ কয়েকটি নির্বাচন
দেখলেন। সর্বশেষ নির্বাচনে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে। তবে অনেকে নির্বাচন নষ্ট করতে চায়। এরপরও নির্বাচন হয়েছে। শেখ হাসিনা আরও বলেন, বিএনপি যে নির্বাচন নিয়ে এতো
প্রশ্ন তোলে, তাদের জন্মটা কিভাবে? তারা কি কখনো জনগণের দাবি আদায়ে কোনো আন্দোলন করেছে? তারা জানে নির্বাচনে তাদের কোনো সম্ভাবনা নেই। এ কারণেই তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ
করতে নানা করা বলছে। তাদেরকে বাংলাদেশের মানুষ ভোট দেবে কেনো? তাদের এটা জিজ্ঞাসা করেন। তারা ক্ষমতায় আসার পর মানুষ কি পেয়েছে? কোনো সম্ভাবনা নেই, কোনো সুবিধা পাচ্ছে না বলেই নির্বাচন নিয়ে বিএনপির এত ক্ষোভ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন মানুষ বিএনপির সময়ে কী পেয়েছে আর আওয়ামী লীগ সময়ে কী পেয়েছে, তা তুলনা করতে হবে। জনগন কাকে ভোট দেবে? আওয়ামী লীগের বাইরে আর কে আছে? শেখ হাসিনা বলেন, কোন সুখের স্বপ্নে, কোন আশায় বিএনপিকে ভোট দেবে?
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ ও সফর নিয়ে সোমবার গণভবনে সাংবাদিক বৈঠকে এসব কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের
জবাবও প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপি জানে নির্বাচনে জিততে পারবে না। জেতার সম্ভাবনা নেই বলেই বিএনপি নির্বাচনকে বিতর্কিত করছে, মানুষের মধ্যে দ্বিধা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণ তাদের (বিএনপিকে) ভোট দেবে কেন? জনগণ ভোট দিতে পারছে না এই প্রশ্ন যারা করে, আওয়ামী লীগের বাইরে আর কে আছে? কাকে ভোট দেবে?
কার কাছ থেকে মানুষ কী পেয়েছে? ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬, ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত মানুষ কী পেয়েছে? সে তুলনা করে বিবেচনা করেন। ক্ষমতা আমার কাছে ভোগের বস্তু না। শুধু ক্ষমতা
পাওয়ার জন্য ক্ষমতা না। ক্ষমতায় গেলে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে করতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, একটা দল কীভাবে জিতবে? তাদের নেতৃত্ব কোথায়? একজন এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে সাজাপ্রাপ্ত আসামি। আরেকজন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র
মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি, দেশান্তরী। বিএনপি তাদের নেতৃত্বে রেখেছে। জনগণ কোন ভরসায় এই দলকে ভোট দেবে? তারা তো ইলেকশনও করতে পারবে না। তারা যে নির্বাচনে জিতবে বা যেতে পারে এই বিশ্বাস তাদের নেই। তারা জানে তাদের কোনো সম্ভাবনা নেই।
করোনার মধ্যেও ভোটাররা নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। নির্বাচন যেন ঠিকভাবে না হয়,
মানুষ যেন অংশ না নেয়, সে জন্য অগ্নি সন্ত্রাস থেকে হেন কোনো কাজ নেই, যা করা হয়নি। তারপরেও নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনের পরে স্থিতিশীল পরিবেশ ছিল বলেই আজ যত উন্নয়ন তা করা সম্ভব হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা উন্নয়ন কার্যক্রমে কিছুটা বাধা দিয়েছে। কিন্তু বসে থাকিনি। অনেক দেশে খাদ্যাভাব। কিন্তু আমাদের দেশে অভাব হয়নি। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ চলে গিয়েছে। ডিজিটাল
বাংলাদেশ করে দিয়েছি। টেলিভিশন দিয়েছি, মোবাইল ফোন দিয়েছি, বিদ্যুৎ দিয়েছি। এত সুবিধা পেয়েও গালিটা আমাকে বা আওয়ামী লীগকেই দিচ্ছে। বাঙালির চরিত্রেই আছে, ভালো করলে মুখ
ঘুরিয়ে বসে থাকা। আমরা করলাম কেন? বিএনপির প্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে বিএনপিসহ যারা কথা বলে, তারা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলে এই দলের জন্ম কীভাবে? এই দল কী নির্বাচিত কোনো জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে হয়েছে? বা এমন
কোনো নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত যারা জনগণের মৌলিক চাহিদা নিয়ে সংগ্রাম করেছে? তা তো না। সুবিধাবাদী ও অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীর হাতে তৈরি করা সংগঠন।





















