ঢাকা ০৯:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেনাপোল পুটখালী সীমান্ত এলাকায় বিজিবি অভিযানে ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার শিগগির ঢাকার সক্রিয় চাঁদাবাজদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, তেলের দাম লাগামছাড়া চাউলের দাম বৃদ্ধির খবরে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রথানমন্ত্রীর নির্দেশ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে হাই কোর্টের রুল সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা দূতাবাসের ঈদযাত্রা ঘিরে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু, টার্মিনাল ও স্টেশনে ভিড় দুবাই ছাড়তে ধনকুবেরদের হুড়োহুড়ি, প্রাইভেট জেটের ভাড়া কয়েক গুণ বৃদ্ধি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে গতি আনতে একমত ঢাকা-দিল্লি চাঁদাবাজি-ছিনতাই দমনে জিরো টলারেন্স: মাঠ পর্যায়ে কঠোর বার্তা আইজিপির

কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক রাতেই দুই অগ্নিকাণ্ড, ভস্মীভূত হাসপাতাল

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:২৪:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৩৪ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক রাতেই দুই অগ্নিকাণ্ড, ভস্মীভূত হাসপাতাল : ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শীতের ভোরে যখন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে উখিয়ার পাহাড়ঘেরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প, ঠিক তখনই আগুনের লেলিহান শিখা কেড়ে নিল আশ্রিত মানুষের শেষ ভরসাটুকু। কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক রাতের ব্যবধানে ঘটে গেল দুটি অগ্নিকাণ্ড।

এর মধ্যে একটিতে পুড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে রোহিঙ্গা স্থানীয়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি হাসপাতাল। সৌভাগ্যক্রমে কোনো প্রাণহানি না হলেও এই আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মানুষের নিরাপত্তা, চিকিৎসা আর স্বস্তির অনুভূতি।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের মধুরছড়া নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি ব্লকের একটি হাসপাতালে আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে বাঁশ, ত্রিপল কাঠে তৈরি স্থাপনাটিতে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ক্যাম্পবাসীদের প্রায় আড়াই ঘণ্টার সম্মিলিত চেষ্টায় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে হাসপাতালটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ভস্মীভূত হয় মূল্যবান চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, ওষুধ নথিপত্র।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিতেওবাট হেলথ পোস্টনামে এই হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করে দাতব্য সংস্থা ওবাট হেলপারস ইউএসএ। বর্তমানে আন্তর্জাতিক সংস্থা হিউম্যান ইন্টারন্যাশনাল ইউএসএর সহায়তায় ওবাট হেলপারস বাংলাদেশ এটি পরিচালনা করছিল।

এখান থেকে রোহিঙ্গা আশপাশের স্থানীয় জনগোষ্ঠী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেতেন। ক্যাম্পবাসীদের কাছে এটি পরিচিত ছিলমালয়েশিয়া হাসপাতালনামে একটি নাম, যার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল আস্থা আশ্রয়ের অনুভূতি।

ওবাটের হেলথ কোঅর্ডিনেটর ডা. মাহামুদুল হাসান সিদ্দিকী রাশেদ বলেন, হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডে পুরো হাসপাতালটি পুড়ে গেছে। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি জানান, এই ঘটনায় কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাসপাতালটি পুড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি হতাশ রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। ডি ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ রফিক বলেন, এই হাসপাতালই ছিল আমাদের পরিবারের ভরসা। অসুস্থ হলে এখানেই আসতাম। এখন সব পুড়ে গেছে দেখে খুব কষ্ট লাগছে।

এর আগের রাতেই, বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে উখিয়া থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি ব্লকে আগুন লেগে পুড়ে যায় অন্তত পাঁচটি ঘর। গত বছরও ২৪ ডিসেম্বর কুতুপালং ১ডব্লিউ ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সহস্রাধিক ঘর পুড়ে যায় এবং প্রাণ হারান একজন।

শীতের মৌসুমে বারবার অগ্নিকাণ্ডের এমন ঘটনা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে। ঘনবসতিপূর্ণ এই ক্যাম্পে প্রতিটি আগুন শুধু ঘর নয়, পুড়িয়ে দেয় মানুষের নিরাপত্তা ভবিষ্যতের আশা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক রাতেই দুই অগ্নিকাণ্ড, ভস্মীভূত হাসপাতাল

আপডেট সময় : ০৩:২৪:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

শীতের ভোরে যখন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে উখিয়ার পাহাড়ঘেরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প, ঠিক তখনই আগুনের লেলিহান শিখা কেড়ে নিল আশ্রিত মানুষের শেষ ভরসাটুকু। কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক রাতের ব্যবধানে ঘটে গেল দুটি অগ্নিকাণ্ড।

এর মধ্যে একটিতে পুড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে রোহিঙ্গা স্থানীয়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি হাসপাতাল। সৌভাগ্যক্রমে কোনো প্রাণহানি না হলেও এই আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মানুষের নিরাপত্তা, চিকিৎসা আর স্বস্তির অনুভূতি।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের মধুরছড়া নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি ব্লকের একটি হাসপাতালে আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে বাঁশ, ত্রিপল কাঠে তৈরি স্থাপনাটিতে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ক্যাম্পবাসীদের প্রায় আড়াই ঘণ্টার সম্মিলিত চেষ্টায় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে হাসপাতালটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ভস্মীভূত হয় মূল্যবান চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, ওষুধ নথিপত্র।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিতেওবাট হেলথ পোস্টনামে এই হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করে দাতব্য সংস্থা ওবাট হেলপারস ইউএসএ। বর্তমানে আন্তর্জাতিক সংস্থা হিউম্যান ইন্টারন্যাশনাল ইউএসএর সহায়তায় ওবাট হেলপারস বাংলাদেশ এটি পরিচালনা করছিল।

এখান থেকে রোহিঙ্গা আশপাশের স্থানীয় জনগোষ্ঠী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেতেন। ক্যাম্পবাসীদের কাছে এটি পরিচিত ছিলমালয়েশিয়া হাসপাতালনামে একটি নাম, যার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল আস্থা আশ্রয়ের অনুভূতি।

ওবাটের হেলথ কোঅর্ডিনেটর ডা. মাহামুদুল হাসান সিদ্দিকী রাশেদ বলেন, হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডে পুরো হাসপাতালটি পুড়ে গেছে। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি জানান, এই ঘটনায় কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাসপাতালটি পুড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি হতাশ রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। ডি ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ রফিক বলেন, এই হাসপাতালই ছিল আমাদের পরিবারের ভরসা। অসুস্থ হলে এখানেই আসতাম। এখন সব পুড়ে গেছে দেখে খুব কষ্ট লাগছে।

এর আগের রাতেই, বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে উখিয়া থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি ব্লকে আগুন লেগে পুড়ে যায় অন্তত পাঁচটি ঘর। গত বছরও ২৪ ডিসেম্বর কুতুপালং ১ডব্লিউ ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সহস্রাধিক ঘর পুড়ে যায় এবং প্রাণ হারান একজন।

শীতের মৌসুমে বারবার অগ্নিকাণ্ডের এমন ঘটনা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে। ঘনবসতিপূর্ণ এই ক্যাম্পে প্রতিটি আগুন শুধু ঘর নয়, পুড়িয়ে দেয় মানুষের নিরাপত্তা ভবিষ্যতের আশা।