ঢাকা ০৩:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি ও এপার-ওপার যাতায়তে আয় জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি এখনও তাজা, শহীদ ও আহতরা শুধু সংখ্যার অংশ নয় পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন সন্তান হারা মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ যেন হাজারো গুমের শিকার পরিবারের নীরব চিৎকার গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা

একাত্তরের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে হবে

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা 
  • আপডেট সময় : ০৭:২২:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫ ২১৭ বার পড়া হয়েছে

একাত্তরের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে হবে

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

৭১-এর গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে মাফ চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দারের ঢাকা সফরের দ্বিতীয় দিন বিদেশ উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন-ইসহাক দার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা জানান, বাংলাদেশের বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তৌহিদ বলেন, আমরা চাই হিসাবপত্র হোক এবং টাকা-পয়সার বিষয়টি সমাধান হোক।

বাংলাদেশে যে গণহত্যা হয়েছে, সেটির বিষয়ে তারা দুঃখপ্রকাশ করুক, মাফ চাক। আমরা চাই আটকে পড়া মানুষগুলোকে তারা ফেরত নিয়ে যাক। এর প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রী ইসহাক দারের দাবি, ১৯৭১ সালের বিষয়টি ১৯৭৪ ও ২০০২ সালে সমাধান হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কী জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, আমি অবশ্যই একমত না। একমত হলে সমাধান হয়ে যেত তাদের মতো করে।

তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা পরস্পরের অবস্থান তুলে ধরেছি। আমরা তিনটি বিষয়ে আমাদের অবস্থান তুলে ধরেছি। তিনি বলেন, দুই পক্ষই আমরা ঠিক করেছি এই বিষয়গুলো আমাদের সমাধান করতে হবে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে মসৃণভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এগুলোকে পেছনে ফেলতে হবে। রবিবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে দু’দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ৬টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ৬টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ৬টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়

এগুলোর মধ্যে রয়েছে, বাণিজ্যবিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, সংস্কৃতি বিনিময়, দুই দেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা, দুই দেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার (বাসস ও এপিপিসি) মধ্যে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) সঙ্গে পাকিস্তানের ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ইসলামাবাদের (আইএসএসআই) সহযোগিতার বিষয়ে হয়েছে সমঝোতা স্মারক।

ইসহাক দার দাবি করে বলেন, এই ইস্যুটির সমাধান আসলে দুইবার হয়েছে। একবার ১৯৭৪ সালে, আবার ২০০০ এর শুরুর দিকে, যখন জেনারেল (পারভেজ) মোশাররফ এখানে এসেছিলেন। তিনি গোটা পাকিস্তান জাতির পক্ষ থেকে গোটা বাংলাদেশ জাতির উদ্দেশ্যে কথাটা বলেছিলেন। ইসহাক দারের এই বক্তব্যের সঙ্গে বাংলাদেশ একমত কি-না, জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, আমি অবশ্যই একমত না।

একাত্তরের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে হবে
একাত্তরের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে হবে

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগের মধ্যে ঢাকা সফর করছেন দেশটির বিদেশ মন্ত্রী ইসহাক দার। ১৯৭১ সালে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাতে ৩০ লাখ মানুষ নিহত এবং ৩ লাখ নারী ধর্ষিত হওয়ার ঘটনায় পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ।

অর্ধ শতক পরও পাকিস্তান ৩০ লাখ মানুষ হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেনি, রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমাও চায়নি। এ অবস্থায় দুদেশের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নের আলোচনায় একাত্তরের গণহত্যার জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমাপ্রার্থনা, প্রায় সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার পাওনা পরিশোধ এবং আটকেপড়া পাকিস্তানিদের ফেরানোর অমীমাংসিত বিষয়গুলো সামনে চলে আসে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

একাত্তরের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে হবে

আপডেট সময় : ০৭:২২:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

৭১-এর গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে মাফ চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দারের ঢাকা সফরের দ্বিতীয় দিন বিদেশ উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন-ইসহাক দার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা জানান, বাংলাদেশের বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তৌহিদ বলেন, আমরা চাই হিসাবপত্র হোক এবং টাকা-পয়সার বিষয়টি সমাধান হোক।

বাংলাদেশে যে গণহত্যা হয়েছে, সেটির বিষয়ে তারা দুঃখপ্রকাশ করুক, মাফ চাক। আমরা চাই আটকে পড়া মানুষগুলোকে তারা ফেরত নিয়ে যাক। এর প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রী ইসহাক দারের দাবি, ১৯৭১ সালের বিষয়টি ১৯৭৪ ও ২০০২ সালে সমাধান হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কী জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, আমি অবশ্যই একমত না। একমত হলে সমাধান হয়ে যেত তাদের মতো করে।

তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা পরস্পরের অবস্থান তুলে ধরেছি। আমরা তিনটি বিষয়ে আমাদের অবস্থান তুলে ধরেছি। তিনি বলেন, দুই পক্ষই আমরা ঠিক করেছি এই বিষয়গুলো আমাদের সমাধান করতে হবে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে মসৃণভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এগুলোকে পেছনে ফেলতে হবে। রবিবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে দু’দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ৬টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ৬টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ৬টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়

এগুলোর মধ্যে রয়েছে, বাণিজ্যবিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, সংস্কৃতি বিনিময়, দুই দেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা, দুই দেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার (বাসস ও এপিপিসি) মধ্যে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) সঙ্গে পাকিস্তানের ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ইসলামাবাদের (আইএসএসআই) সহযোগিতার বিষয়ে হয়েছে সমঝোতা স্মারক।

ইসহাক দার দাবি করে বলেন, এই ইস্যুটির সমাধান আসলে দুইবার হয়েছে। একবার ১৯৭৪ সালে, আবার ২০০০ এর শুরুর দিকে, যখন জেনারেল (পারভেজ) মোশাররফ এখানে এসেছিলেন। তিনি গোটা পাকিস্তান জাতির পক্ষ থেকে গোটা বাংলাদেশ জাতির উদ্দেশ্যে কথাটা বলেছিলেন। ইসহাক দারের এই বক্তব্যের সঙ্গে বাংলাদেশ একমত কি-না, জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, আমি অবশ্যই একমত না।

একাত্তরের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে হবে
একাত্তরের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে হবে

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগের মধ্যে ঢাকা সফর করছেন দেশটির বিদেশ মন্ত্রী ইসহাক দার। ১৯৭১ সালে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাতে ৩০ লাখ মানুষ নিহত এবং ৩ লাখ নারী ধর্ষিত হওয়ার ঘটনায় পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ।

অর্ধ শতক পরও পাকিস্তান ৩০ লাখ মানুষ হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেনি, রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমাও চায়নি। এ অবস্থায় দুদেশের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নের আলোচনায় একাত্তরের গণহত্যার জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমাপ্রার্থনা, প্রায় সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার পাওনা পরিশোধ এবং আটকেপড়া পাকিস্তানিদের ফেরানোর অমীমাংসিত বিষয়গুলো সামনে চলে আসে।