একই কম্পাউণ্ডে মন্দির-মসজিদ, সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
- আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর ২০২১ ৩৬৯ বার পড়া হয়েছে
ছবি সংগ্রহ
ঢাকা থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দূরে সোনারগাঁও উপজেলা। সমৃদ্ধ জনপদ। চারিদিকে শিল্পকারখানা। দেশ-বিদেশের হাজারো মানুষের কর্মস্থল সোনারগাঁও। উপজেলার মোগরাপাড়া
ইউনিয়নে কয়েকশ বছরের পুরোনো ইউসুফগঞ্জ জামে মসজিদ। তারই পাশে রয়েছে শ্রী শ্রী সাধুবাবা সম্ভুনাথ ব্রহ্মচারীর সমাধি ও মন্দির। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ইউসুফগঞ্জ গ্রামে একই
সীমানায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মসজিদে নামাজ আদায় করেন এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূজা-আরতি করে থাকেন। কিন্তু শত বছরেও এখানে কোনো কিছু নিয়ে বিরোধ হয়নি। কবি নজরুলের ভাষায় ‘একই বৃন্তে দুটি ফুল হিন্দু-মুসলমান’।
সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল, সমাজিক কর্মকান্ড এমন কোন স্থান নেই, যেখানে সকল ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নেই। ইউসুফগঞ্জ জামে মসজিদ ও মন্দির সেই নিদর্শনই বহন করে চলেছে যুগ যুগ ধরে।
কথিত আছে, ইশা খাঁর আমলে বিভিন্ন দেশ থেকে বাণিজ্য করতে সোনারগাঁয়ে আসতেন মুসাফিররা। তৎকালীন সময়ে ইউসুফ সওদাগরের জাহাজ ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়লে তিনি
আল্লাহপাকের কাছে ফরিয়াদ করেন যে, হে মহান সৃষ্টিকর্তা তুমি আমার এই জাহাজ যেখানে ভিড়িয়ে দিবে, আমি সেখানেই একটি মসজিদ তৈরি করে দেবে। এক পর্যায়ে তার জাহাজটি
সোনারগাঁওয়ের মোগরাপাড়া মাঝিবাড়ি এলাকায় এসে থামে। তাই ইউসুফ সওদাগরের নাম অনুযায়ী মসজিদের নামকরণ করা হয় ইউসুফগঞ্জ জামে মসজিদ।
পাশাপাশি তৎকালীন মসজিদ সংলগ্ন একই সীমানায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা শ্রী শ্রী সাধুবাবা সম্ভুনাথ ব্রহ্মচারী সমাধিস্থলে একটি আশ্রম তৈরি করে সেখানে পূজা অর্চনা শুরু হয়। সেই সময় থেকে যে
যার মতো করে ধর্ম পালন করে আসছেন। এই দুই ধর্মের মধ্যে এখনো পর্যন্ত এই স্থানে কোনো বিরোধ বা হাঙ্গামা সৃষ্টি হয়নি।
ব্রহ্মচারী সমাধিস্থল ও মন্দিরের সেবিকা সবিতা রানী দাস জানান, তৎকালীন ঢাকা জেলার রায়পুরা থানার রায়পুরা গ্রামের ডা. জগবন্ধু দাস ৩ ভাদ্র, ২২৮৩ বঙ্গাব্দ তারিখে এই আশ্রমটি
পুনর্নির্মাণ করেন। তার শ্বশুরের আমল থেকে শুরু করে এই সমাধিস্থলের সেবা-যত্ন করে আসছেন সবিতা রানি। বিগত ৫০ বছরেও পূজা পালন নিয়ে আমরা মুসলমান ভাইদের কাছ থেকে
কোনো কটূ কথা শুনিনি। নামাজের সময় হলে আমরা পূজার সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখি এবং নামাজ শেষ হলেই পুনরায় পূজার কার্যক্রম শুরু করি। মসজিদে যাতে মুসলমান ভাইদের
নামাজের সমস্যা না হয়, সেদিকে আমরা সব সময় লক্ষ্য রাখি। এভাবেই যুগ যুগ ধরে পাশাপাশি চলে আসছে সৃষ্টি কর্তার আরাধনা। যা এক অনন্য সাধারণ দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠেছে।





















