ঢাকা ০১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি ও এপার-ওপার যাতায়তে আয় গণঅভ্যুত্থানে শহীদ-আহতদের পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন সন্তান হারা মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ যেন হাজারো গুমের শিকার পরিবারের নীরব চিৎকার গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা

ইস্তানবুল ব্রিজ : নতুন পথে চীন রাশিয়ার ইউরোপ বাণিজ্য

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৭:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২৫৯ বার পড়া হয়েছে

নতুন পথে চীন ও রাশিয়ার ইউরোপ বাণিজ্য সংগৃহীত ছবি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২০ সেপ্টেম্বর চীনের ইস্তানবুল ব্রিজ নামের একটি কন্টেইনার জাহাজ নিংবো-ঝৌশান বন্দর থেকে যাত্রা করবে

জলবায়ু পরিবর্তনের থাবায় আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলে গিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পথের সন্ধান মিলেছে। চীন ও রাশিয়া এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন বাঁকে নিতে যাচ্ছে।

রাশিয়া বরাবরই আর্কটিক অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়ে এসেছে। রাশিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে চীন আর্কটিক সাগরপথ ব্যবহার করে ইউরোপে পণ্য পাঠানোর একটি পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু করতে চলেছে।

আগামী ২০ সেপ্টেম্বর চীনের ইস্তানবুল ব্রিজ নামের একটি কন্টেইনার জাহাজ নিংবো-ঝৌশান বন্দর থেকে যাত্রা করবে। ১৮ দিনের এই যাত্রায় জাহাজটি রাশিয়ার উত্তর উপকূল দিয়ে আর্কটিক সাগরপথ ধরে যুক্তরাজ্যের ফেলিক্সটো বন্দরে পৌঁছাবে। এই রুটে বরফ-ঢাকা পথ পাড়ি দিতে জাহাজটিকে সাহায্য করবে একটি বিশেষ ধরনের আইসব্রেকার।

আর্কটিক ইনস্টিটিউটের মাল্টে হ্যাম্পার্টের মতে, আর্কটিক অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তন সরাসরি ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিচ্ছে। কারণ, এই অঞ্চলটি খনিজ সম্পদ এবং নতুন বাণিজ্যিক পথের কারণে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে প্রভাবিত করছে।

বর্তমানে বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুয়েজ খাল, ভূমধ্যসাগর এবং সিঙ্গাপুরের মতো ঐতিহ্যবাহী পথ দিয়েই হয়ে থাকে। তবে, আর্কটিক সাগরপথ প্রচলিত পথের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম দূরত্বে পণ্য পরিবহন করতে সক্ষম। এর ফলে সময় এবং খরচ দুইই বাঁচবে।

ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক পথগুলোতে সম্প্রতি নানা ধরনের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা গেছে। যেমন, হর্ন অফ আফ্রিকার কাছে জলদস্যুদের আক্রমণ এবং লোহিত সাগরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বাধ্য করছে। এমন পরিস্থিতিতে, আর্কটিক সাগরপথ একটি নিরাপদ এবং কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বারবার আর্কটিক অঞ্চলের উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে এই পথে বার্ষিক পণ্য পরিবহনের পরিমাণ ৭০ থেকে ১০০ মিলিয়ন টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।

এছাড়াও, রাশিয়া তার নিজস্ব পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকার দিয়ে সারা বছর এই পথে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা করতে চায়। রাশিয়ার মুরমানস্কের মতো পুরোনো বন্দরগুলোর সম্প্রসারণ এবং নতুন বন্দর নির্মাণেরও পরিকল্পনা চলছে।

পুতিন আরও বলেছেন, আর্কটিক অঞ্চলে তেল, গ্যাস, ধাতু এবং অন্যান্য দুর্লভ খনিজের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে। তিনি চীন, ভারত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোকে যৌথ উদ্যোগে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

এই অঞ্চলকে অর্থনৈতিকভাবে আরও গতিশীল করতে তিনি আর্কটিক অঞ্চলের শহরগুলোর উন্নয়ন এবং পর্যটন প্রসারেরও ঘোষণা দিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ইস্তানবুল ব্রিজ : নতুন পথে চীন রাশিয়ার ইউরোপ বাণিজ্য

আপডেট সময় : ০৫:৫৭:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

২০ সেপ্টেম্বর চীনের ইস্তানবুল ব্রিজ নামের একটি কন্টেইনার জাহাজ নিংবো-ঝৌশান বন্দর থেকে যাত্রা করবে

জলবায়ু পরিবর্তনের থাবায় আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলে গিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পথের সন্ধান মিলেছে। চীন ও রাশিয়া এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন বাঁকে নিতে যাচ্ছে।

রাশিয়া বরাবরই আর্কটিক অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়ে এসেছে। রাশিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে চীন আর্কটিক সাগরপথ ব্যবহার করে ইউরোপে পণ্য পাঠানোর একটি পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু করতে চলেছে।

আগামী ২০ সেপ্টেম্বর চীনের ইস্তানবুল ব্রিজ নামের একটি কন্টেইনার জাহাজ নিংবো-ঝৌশান বন্দর থেকে যাত্রা করবে। ১৮ দিনের এই যাত্রায় জাহাজটি রাশিয়ার উত্তর উপকূল দিয়ে আর্কটিক সাগরপথ ধরে যুক্তরাজ্যের ফেলিক্সটো বন্দরে পৌঁছাবে। এই রুটে বরফ-ঢাকা পথ পাড়ি দিতে জাহাজটিকে সাহায্য করবে একটি বিশেষ ধরনের আইসব্রেকার।

আর্কটিক ইনস্টিটিউটের মাল্টে হ্যাম্পার্টের মতে, আর্কটিক অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তন সরাসরি ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিচ্ছে। কারণ, এই অঞ্চলটি খনিজ সম্পদ এবং নতুন বাণিজ্যিক পথের কারণে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে প্রভাবিত করছে।

বর্তমানে বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুয়েজ খাল, ভূমধ্যসাগর এবং সিঙ্গাপুরের মতো ঐতিহ্যবাহী পথ দিয়েই হয়ে থাকে। তবে, আর্কটিক সাগরপথ প্রচলিত পথের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম দূরত্বে পণ্য পরিবহন করতে সক্ষম। এর ফলে সময় এবং খরচ দুইই বাঁচবে।

ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক পথগুলোতে সম্প্রতি নানা ধরনের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা গেছে। যেমন, হর্ন অফ আফ্রিকার কাছে জলদস্যুদের আক্রমণ এবং লোহিত সাগরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বাধ্য করছে। এমন পরিস্থিতিতে, আর্কটিক সাগরপথ একটি নিরাপদ এবং কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বারবার আর্কটিক অঞ্চলের উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে এই পথে বার্ষিক পণ্য পরিবহনের পরিমাণ ৭০ থেকে ১০০ মিলিয়ন টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।

এছাড়াও, রাশিয়া তার নিজস্ব পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকার দিয়ে সারা বছর এই পথে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা করতে চায়। রাশিয়ার মুরমানস্কের মতো পুরোনো বন্দরগুলোর সম্প্রসারণ এবং নতুন বন্দর নির্মাণেরও পরিকল্পনা চলছে।

পুতিন আরও বলেছেন, আর্কটিক অঞ্চলে তেল, গ্যাস, ধাতু এবং অন্যান্য দুর্লভ খনিজের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে। তিনি চীন, ভারত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোকে যৌথ উদ্যোগে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

এই অঞ্চলকে অর্থনৈতিকভাবে আরও গতিশীল করতে তিনি আর্কটিক অঞ্চলের শহরগুলোর উন্নয়ন এবং পর্যটন প্রসারেরও ঘোষণা দিয়েছেন।