ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি ও এপার-ওপার যাতায়তে আয় জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি এখনও তাজা, শহীদ ও আহতরা শুধু সংখ্যার অংশ নয় পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন সন্তান হারা মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ যেন হাজারো গুমের শিকার পরিবারের নীরব চিৎকার গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা

আপিলে হেরে গেলেন ইমরান-বুশরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০২৪ ২০২ বার পড়া হয়েছে

আপিলে হেরে গেলেন ইমরান-বুশরা

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

অবৈধ বিয়ের মামলায় প্রাপ্ত সাজা থেকে অব্যাহতি চেয়ে যে আপিল করেছিলেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তার তৃতীয় স্ত্রী বুশরা বিবি, তা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদের একটি জেলা ও সেশন আদালত এই রায় ঘোষণা করেছেন।

এর ফলে ইমরান-বুশরা সাজা বহাল থাকল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছে পিটিআই।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বুশরা বিবির সঙ্গে ইমরান খানের বিয়ে হয়। এই বিয়ের কয়েক মাস পরেই প্রথমবারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী হন ইমরান। কিন্তু পাকিস্তানের অন্যান্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের মতোই মেয়াদ অসম্পূর্ণ রেখে তাকে বিদায় নিতে হয়। ২০২২ সালের ১০ এপ্রিল পার্লামেন্টের বিরোধী এমপিদের অনাস্থা ভোটের জেরে যখন ক্ষমতাচ্যুত হন ইমরান খান, তখনও তার মেয়াদের দেড় বছরের বেশি সময় বাকি ছিল।

ইমরান-বুশরার বিয়ের পর বুশরার সাবেক স্বামী খাওয়ার মানেকা এই বিয়ে অবৈধ দাবি করে ইসলামাবাদের আদালতে মামলা করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, বুশরা বিবির সঙ্গে খাওয়ার মানেকার আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয়েছে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে। তারপর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বুশরাকে বিয়ে করেন ইমরান।

ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী, স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটলে বা স্বামী মারা গেলে পরবর্তী বিয়ের জন্য মুসলিম নারীদের অন্তত ৩ মাস অপেক্ষা করতে হয়। এই সময়কালকে বলা হয় ‘ইদ্দত’। খাওয়ার মানেকার অভিযোগ, ‘ইদ্দত’ পার হওয়ার আগেই বুশরাকে বিয়ে করেছেন ইমরান। সুতরাং এই বিয়ে অবৈধ।

ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই মামলার বিচার কার্যক্রম বন্ধ ছিল; কিন্তু ২০২২ সালে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ফের মামলটি সচল হয়। তারপর ২০২৩ সালে মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারিক আদালত। সেই রায়ে ইমরান-বুশরাকে দোষী সাব্যস্ত করে ৭ বছর কারাবাসের সাজা দেওয়া হয়।

বিচারিক আদালতের রায় বাতিল চেয়ে ইসলামাদের ওই জেলা ও সেশন আদালতে আপিল করেছিলেন ইমরান খানের আইনজীবীরা। আজ বৃহস্পতিবার তার রায় ঘোষণা করলেন ওই আদালতের বিচারক আফজাল মাজোকা।

রায় ঘোষণার পর হতাশা জানিয়েছে ইমরান খানের রাজনৈতিক দল তেহরিক-ই ইনসাফ। দলের অন্যতম মুখপাত্র সৈয়দ জুলফিকার বুখারি এই রায়কে ‘হাস্যকর’ ও ‘রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট’ উল্লেখ করে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘আজ পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থার জন্য একটি কালো দিন। ক্ষমতাবানরা যখন তাদের ক্রোধ মেটানোর জন্য বিচারব্যবস্থাকে ব্যবহার করা শুরু করেন, তখন বুঝতে হবে যে দেশের যাবতীয় প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব হুমকির মুখে।’

সূত্র: জিও টিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আপিলে হেরে গেলেন ইমরান-বুশরা

আপডেট সময় : ০৮:৫২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০২৪

 

অবৈধ বিয়ের মামলায় প্রাপ্ত সাজা থেকে অব্যাহতি চেয়ে যে আপিল করেছিলেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তার তৃতীয় স্ত্রী বুশরা বিবি, তা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদের একটি জেলা ও সেশন আদালত এই রায় ঘোষণা করেছেন।

এর ফলে ইমরান-বুশরা সাজা বহাল থাকল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছে পিটিআই।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বুশরা বিবির সঙ্গে ইমরান খানের বিয়ে হয়। এই বিয়ের কয়েক মাস পরেই প্রথমবারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী হন ইমরান। কিন্তু পাকিস্তানের অন্যান্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের মতোই মেয়াদ অসম্পূর্ণ রেখে তাকে বিদায় নিতে হয়। ২০২২ সালের ১০ এপ্রিল পার্লামেন্টের বিরোধী এমপিদের অনাস্থা ভোটের জেরে যখন ক্ষমতাচ্যুত হন ইমরান খান, তখনও তার মেয়াদের দেড় বছরের বেশি সময় বাকি ছিল।

ইমরান-বুশরার বিয়ের পর বুশরার সাবেক স্বামী খাওয়ার মানেকা এই বিয়ে অবৈধ দাবি করে ইসলামাবাদের আদালতে মামলা করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, বুশরা বিবির সঙ্গে খাওয়ার মানেকার আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয়েছে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে। তারপর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বুশরাকে বিয়ে করেন ইমরান।

ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী, স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটলে বা স্বামী মারা গেলে পরবর্তী বিয়ের জন্য মুসলিম নারীদের অন্তত ৩ মাস অপেক্ষা করতে হয়। এই সময়কালকে বলা হয় ‘ইদ্দত’। খাওয়ার মানেকার অভিযোগ, ‘ইদ্দত’ পার হওয়ার আগেই বুশরাকে বিয়ে করেছেন ইমরান। সুতরাং এই বিয়ে অবৈধ।

ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই মামলার বিচার কার্যক্রম বন্ধ ছিল; কিন্তু ২০২২ সালে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ফের মামলটি সচল হয়। তারপর ২০২৩ সালে মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারিক আদালত। সেই রায়ে ইমরান-বুশরাকে দোষী সাব্যস্ত করে ৭ বছর কারাবাসের সাজা দেওয়া হয়।

বিচারিক আদালতের রায় বাতিল চেয়ে ইসলামাদের ওই জেলা ও সেশন আদালতে আপিল করেছিলেন ইমরান খানের আইনজীবীরা। আজ বৃহস্পতিবার তার রায় ঘোষণা করলেন ওই আদালতের বিচারক আফজাল মাজোকা।

রায় ঘোষণার পর হতাশা জানিয়েছে ইমরান খানের রাজনৈতিক দল তেহরিক-ই ইনসাফ। দলের অন্যতম মুখপাত্র সৈয়দ জুলফিকার বুখারি এই রায়কে ‘হাস্যকর’ ও ‘রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট’ উল্লেখ করে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘আজ পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থার জন্য একটি কালো দিন। ক্ষমতাবানরা যখন তাদের ক্রোধ মেটানোর জন্য বিচারব্যবস্থাকে ব্যবহার করা শুরু করেন, তখন বুঝতে হবে যে দেশের যাবতীয় প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব হুমকির মুখে।’

সূত্র: জিও টিভি