আগস্টে ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী টাকার মান
- আপডেট সময় : ০৮:২৯:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫ ৫৬ বার পড়া হয়েছে
আগস্ট মাসে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে তারল্য বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের দুর্বলতার প্রভাবে টাকার মান কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্ট মাসে ডলারের বিপরীতে টাকার মান স্থিতিশীল রাখায় সফল হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারিত হস্তক্ষেপ।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জুলাই মাসের শেষে যেখানে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ দশমিক ৩০ টাকা, সেখানে ১০ আগস্ট তা কমে দাঁড়ায় ১২১ দশমিক ৪০ টাকায়। মাস শেষে আন্তব্যাংক বাজারে গড়ে বিনিময় হার দাঁড়ায় প্রতি ডলারে ১২১ দশমিক ৬৯ টাকা। অর্থাৎ, আগস্টে টাকার মান ডলারের বিপরীতে প্রায় ০.৬১ টাকা বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, আগস্ট মাসে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে এবং টাকার অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে মোট ৪৫ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে। এই হস্তক্ষেপের ফলে বাজারে তারল্য বেড়েছে এবং ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে বলা হয়, আগস্টে বাজারে লেনদেন কার্যক্রম কিছুটা মন্থর হয়ে পড়ে। প্রতিদিন গড় স্পট লেনদেন কমে দাঁড়ায় ৩ কোটি ৩২ লাখ ডলার, যা জুলাই মাসে ছিল ৪ কোটি ৭ লাখ ডলার। একই সময়ে আন্তব্যাংক লেনদেনে স্পট ট্রেডের অংশ ৩২ দশমিক ১৪ শতাংশ থেকে কমে ৩০ দশমিক ২২ শতাংশে নেমে আসে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুন থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং আমদানি প্রবৃদ্ধি মন্থর থাকায় ব্যালেন্স অব পেমেন্ট (বিওপি) ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। এর ফলে টাকার ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মুদ্রা বাজারে প্রভাব ফেলেছে।
অন্যদিকে, বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী আগস্ট মাসের শেষে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬১৮ কোটি ডলার, যা জুলাইয়ের ২ হাজার ৪৭৮ কোটি ডলার থেকে প্রায় ১৪০ কোটি ডলার বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, রিজার্ভ বৃদ্ধির এই প্রবণতা মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার ক্রয় কার্যক্রম ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (আকু) পরিশোধের জন্য জমা দেওয়া আমানতের বৃদ্ধির ফলাফল।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ডলারের বাজারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্রিয় উপস্থিতি টাকার মান স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে তারা সতর্ক করেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ও বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লে পুনরায় ডলারের চাহিদা বাড়তে পারে, যা ভবিষ্যতে টাকার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে আগস্ট মাসে মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকলেও, আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আগামী মাসগুলোতে আরও সতর্ক অবস্থান নিতে হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



















