ঢাকা ০৮:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জিম্মি ভোক্তা ভোজ্যতেলের বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বিচার প্রক্রিয়া আরও সুস্পষ্ট হলো যুদ্ধের দমবন্ধ পরিস্থিতি পেরিয়ে অবশেষে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে বাংলাদেশের জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ দিল্লিতে জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক, একান্ত আলোচনায় খলিলুর রহমান সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন ২০২৬ পাস যুদ্ধের সমাপ্তি নয় ‘আঙুল ট্রিগারেই’ যুদ্ধবিরতি নিয়ে মোজতবা খামেনির সতর্ক বার্তা ইরান যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে কাঁপছে ইসরায়েলি রাজনীতি: নেতানিয়াহুকে ‘ব্যর্থ’ বললেন লাপিদ আজ রাতেই একটি গোটা সভ্যতার ধ্বংস হবে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ৪ অধ্যাদেশ রহিতের সুপারিশে জনমনে উদ্বেগ, আরও যাচাইয়ের পক্ষে এমপিরা গ্রেফতার সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে 

জিম্মি ভোক্তা ভোজ্যতেলের বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:২৭:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

বোজার থেকে উধাও ভোজ্যতেল : ফাইল ছবি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সিন্ডিকেট চক্র। বোতলজাত সয়াবিন তেল হঠাৎ করে বাজার থেকে উধাও হয়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, ইচ্ছাকৃতভাবে সরবরাহ বন্ধ রেখে দাম বাড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী কোম্পানি।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানেই নেই বোতলজাত সয়াবিন তেল। কোথাও আধা লিটার, এক লিটার বা দুই লিটারের বোতল মিলছে না। কোথাও আবার সীমিত পরিমাণে পাঁচ লিটারের বোতল পাওয়া গেলেও তা চাহিদার তুলনায় নগণ্য। বিক্রেতারা বলছেন, কোম্পানিগুলো সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে, এমনকি নতুন অর্ডারও নিচ্ছে না। ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কোম্পানিগুলো সরকারের কাছে প্রতি লিটার তেলে ১২ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের সাফ কথা, দাম না বাড়ালে সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে না। এটি স্পষ্টভাবে ভোক্তাদের জিম্মি করে মুনাফা আদায়ের একটি কৌশল। অথচ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, বিশ্ববাজারের দামের সঙ্গে বর্তমান মূল্য সামঞ্জস্যপূর্ণ; নতুন করে দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা নেই।

এদিকে বোতলজাত তেলের সংকটের সুযোগে খোলা তেলের বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে খোলা সয়াবিন ও পাম তেল। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ, যাদের দৈনন্দিন জীবনে তেল একটি অপরিহার্য পণ্য।

ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাদের অভিযোগ, কিছু পরিশোধনকারী কোম্পানি পরিকল্পিতভাবে বাজারে সংকট তৈরি করে সরকারকে চাপে ফেলতে চাইছে। এটি শুধু বাজার ব্যবস্থার জন্য হুমকি নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এত বড় সংকটের মধ্যেও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর নীরবতা। গণমাধ্যমে তারা কোনো বক্তব্য দিচ্ছে না। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি ও জ্বালানি সংকটের কারণে তারা লোকসানে আছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, লোকসানের দায় কি সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ন্যায্য?

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যতক্ষণ না সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে না।

এই পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে বাজার তদারকি জোরদার, মজুতদারদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। ভোক্তাদের জিম্মি করে মুনাফা লুটার এই অপচেষ্টা আর সহ্য করা যায় না, এবার কঠোর পদক্ষেপই একমাত্র সমাধান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জিম্মি ভোক্তা ভোজ্যতেলের বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

আপডেট সময় : ০৮:২৭:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সিন্ডিকেট চক্র। বোতলজাত সয়াবিন তেল হঠাৎ করে বাজার থেকে উধাও হয়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, ইচ্ছাকৃতভাবে সরবরাহ বন্ধ রেখে দাম বাড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী কোম্পানি।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানেই নেই বোতলজাত সয়াবিন তেল। কোথাও আধা লিটার, এক লিটার বা দুই লিটারের বোতল মিলছে না। কোথাও আবার সীমিত পরিমাণে পাঁচ লিটারের বোতল পাওয়া গেলেও তা চাহিদার তুলনায় নগণ্য। বিক্রেতারা বলছেন, কোম্পানিগুলো সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে, এমনকি নতুন অর্ডারও নিচ্ছে না। ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কোম্পানিগুলো সরকারের কাছে প্রতি লিটার তেলে ১২ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের সাফ কথা, দাম না বাড়ালে সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে না। এটি স্পষ্টভাবে ভোক্তাদের জিম্মি করে মুনাফা আদায়ের একটি কৌশল। অথচ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, বিশ্ববাজারের দামের সঙ্গে বর্তমান মূল্য সামঞ্জস্যপূর্ণ; নতুন করে দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা নেই।

এদিকে বোতলজাত তেলের সংকটের সুযোগে খোলা তেলের বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে খোলা সয়াবিন ও পাম তেল। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ, যাদের দৈনন্দিন জীবনে তেল একটি অপরিহার্য পণ্য।

ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাদের অভিযোগ, কিছু পরিশোধনকারী কোম্পানি পরিকল্পিতভাবে বাজারে সংকট তৈরি করে সরকারকে চাপে ফেলতে চাইছে। এটি শুধু বাজার ব্যবস্থার জন্য হুমকি নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এত বড় সংকটের মধ্যেও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর নীরবতা। গণমাধ্যমে তারা কোনো বক্তব্য দিচ্ছে না। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি ও জ্বালানি সংকটের কারণে তারা লোকসানে আছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, লোকসানের দায় কি সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ন্যায্য?

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যতক্ষণ না সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে না।

এই পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে বাজার তদারকি জোরদার, মজুতদারদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। ভোক্তাদের জিম্মি করে মুনাফা লুটার এই অপচেষ্টা আর সহ্য করা যায় না, এবার কঠোর পদক্ষেপই একমাত্র সমাধান।