প্রত্যেকটি অন্যায়ের বিচার চাইলে গণতান্ত্রিক সরকার অপরিহার্য, তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ০৫:৪২:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
গুম, খুন, নির্যাতন যাদের জীবনে নেমে এসেছে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের দীর্ঘ ছায়া, সেই মানুষগুলোর চোখের দিকে তাকিয়েই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বললেন, প্রত্যেকটি অন্যায়ের বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে আগামী দিনে বাংলাদেশে অবশ্যই একটি গণতান্ত্রিক সরকার দরকার।
শনিবার বেলা সোয়া ১১টায় রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগরের চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই মন্তব্য করেন তিনি।
সভাটির আয়োজন করে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক দুটি সংগঠন, যারা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ও নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আসছে। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে তারেক রহমান বলেন, যদি আবারও আমরা একটি দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সরকার গঠনের সুযোগ হাতছাড়া করি, তাহলে তা শুধু রাজনৈতিক ব্যর্থতা হবে না, এটি হবে আমাদের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি চরম অবমাননা।
তিনি স্মরণ করেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের, বিগত ১৬ বছরে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার মানুষদের এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলনে নিহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করা অসংখ্য মানুষের কথা।
তারেক রহমানের ভাষায়, এই প্রতিটি আত্মত্যাগের প্রতি ন্যায্য সম্মান জানাতে হলে, প্রতিটি অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করতে হলে গণতান্ত্রিক সরকার ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। গুম-খুন-নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা আজ এখানে এসেছেন বুকভরা কষ্ট নিয়ে।
আপনাদের সন্তান, স্বজনদের প্রতি যে অন্যায় হয়েছে, দেশের আইন অনুযায়ী তার বিচার পাওয়ার একমাত্র পথ হলো, বাংলাদেশে একটি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ, গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা। তারেক রহমান বলেন, সেই সরকার হবে এমন, যে সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করবে, যে সরকার নির্যাতিত ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ন্যায়ের ভিত্তিতে বিচার নিশ্চিত করবে।
সভায় তিনি সবাইকে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজকের এই উপস্থিতি যেন বৃথা না যায়। ধৈর্যের সঙ্গে, দৃঢ়তার সঙ্গে আমরা কাজ করব, যাতে আপনাদের প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিচার হয়, আপনারা ন্যায়ের ন্যায্যতা পান। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি অভিযোগ করেন, গণতন্ত্রের পথে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে।
স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের সামনে আজ একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ এসেছে। কিন্তু কেউ কেউ নানা অজুহাতে বিতর্ক তৈরি করে এই গণতান্ত্রিক পথকে ব্যাহত করতে চাইছে। এ সময় তিনি দল-মত নির্বিশেষে সব গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
যারা নানা উসিলায় গণতন্ত্রের পথ আবার নষ্ট করার চেষ্টা করছে, তারা যেন সফল না হয়, সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, বলেন তারেক রহমান। শোক, ক্ষোভ আর প্রত্যাশার আবহে এই মতবিনিময় সভা যেন আবারও সামনে এনে দিল বাংলাদেশের রাজনীতির মূল প্রশ্ন-ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র কি একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠতে পারবে।


















