ডিজিটাল ফুয়েল পাস, এপ্রিল থেকে চালু, জ্বালানি ব্যবস্থায় নতুন দিশা
- আপডেট সময় : ০৩:০৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
ডিজিটাল ফুয়েল পাস দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় এক নতুন দিশা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়া এবং দেশে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সমস্যা বৃদ্ধি পাওয়ায়, সরকার জ্বালানি ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে ডিজিটাল ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনা রোধ করা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানো হবে।
জ্বালানি বিভাগের তত্ত্বাবধায়নে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক এই সিস্টেমটি প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের জন্য চালু করা হবে। নিবন্ধিত যানবাহন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি কিনতে পারবে, যা সরাসরি সরকারের নজরদারিতে থাকবে।
জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জানান, আমরা ইতিমধ্যেই একটি অ্যাপস ডেভেলপ করছি। আশা করছি, এক সপ্তাহের মধ্যে দুই-একটি স্থানে টেস্ট হিসেবে এটি চালু করতে পারব।
তিনি আরও বলেন, সারা দেশে একসঙ্গে এই ব্যবস্থা চালু করা সহজ নয়। তাই প্রথমে কিছু নির্দিষ্ট যানবাহন লক্ষ্য করে দ্রুত কার্যকর পর্যায়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত এই ডিজিটাল ফুয়েল পাস ব্যবস্থার মূল কাঠামো হলো কিউআর কোডের মাধ্যমে নিবন্ধিত যানবাহনের জ্বালানি বিতরণ। প্রতিটি যানবাহনকে একটি অনন্য কিউআর কোড প্রদান করা হবে, যা মোবাইল অ্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।
ব্যবহারকারীকে প্রথমে অ্যাপের মাধ্যমে নিজের পরিচয় এবং যানবাহনের নিবন্ধন তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর ওই যানবাহনের জন্য একটি কিউআর কোড তৈরি হবে।
ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নেওয়ার সময় পাম্পকর্মী মোবাইল ফোন দিয়ে সেই কোড স্ক্যান করবেন। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই যানবাহনের জ্বালানি গ্রহণের তথ্য সিস্টেমে যুক্ত হবে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কতটুকু জ্বালানি নেওয়া যাবে, সেটিও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
এটি সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত মজুত করা থেকে বিরত রাখবে এবং বাজারে জ্বালানির সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিজিটাল ফুয়েল পাস সময়োপযোগী উদ্যোগ। এটি শুধু বর্তমান তেল সংকট মোকাবেলায় সহায়তা করবে না, বরং সরকারের ডিজিটালাইজেশন প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও ধরা হচ্ছে।
এটি একদিকে জনগণের জন্য জ্বালানি বিতরণে স্বচ্ছতা এবং নিয়ন্ত্রণ আনবে, অন্যদিকে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ এবং প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলবে।
সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে, তেল সংকট এবং অতিরিক্ত জ্বালানি মজুতের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আসবে।
ডিজিটাল ফুয়েল পাসের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় এক নতুন দিশা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে।









