আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু ঢাকায়, দাফন হয়েছে দিল্লিতে
- আপডেট সময় : ১০:১৮:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দলটিকে বিচারের মুখোমুখি করার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি দাবি করেন, দলটির ‘রাজনৈতিক দাফন’ ইতোমধ্যেই দিল্লিতে সম্পন্ন হয়েছে এবং বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের আর রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে নিষিদ্ধ কার্যক্রমে থাকা আওয়ামী লীগ ভবিষ্যতে আর বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে খুব শিগগিরই রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার’ ও ‘আমরা জুলাইযোদ্ধা’ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনে আহত জুলাইযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, আর তাদের রাজনৈতিক দাফন হয়েছে দিল্লিতে। বাংলাদেশে তাদের রাজনীতির কোনো ভবিষ্যৎ নেই।’ তিনি অভিযোগ করেন, পলাতক আওয়ামী লীগ নেতারা বিদেশে অবস্থান করে দেশের গণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন।
জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের কঠিন সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও পরামর্শের মাধ্যমে নির্ঘুম রাত কাটিয়ে আন্দোলনকে সংগঠিত করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, অরাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যানারে পরিচালিত সেই আন্দোলনই শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিয়ে সফলতা অর্জন করে।
জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে কেউ যেন ব্যবসা না করে। চেতনা বিক্রি কখনোই ভালো নয়। যারা এই চেতনাকে পুঁজি করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করবে, দেশের মানুষ তাদেরও যথাযথ জবাব দেবে।’
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতির প্রত্যাশা এখন অনেক বড়। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। সরকার পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশ পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে এবং ধাপে ধাপে জনগণ তার সুফল দেখতে পাবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত জুলাইযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।









