রাজশাহী সিটি নির্বাচনে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তৃতীয় লিঙ্গের সাগরিকা
- আপডেট সময় : ০৮:০১:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জুন ২০২৩ ২১৫ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
তৃতীয় লিঙ্গের সুলতানা আহমেদ ওরফে সাগরিকাকে ভোটের মাঠে নতুন হয়েও যেন সবার চেনা। ভোট চাইতে গিয়ে নিজের পরিচয় দেওয়ার আগেই ভোটাররা বলছেন, তোমাকে চিনি, পাশে আছি, চিন্তা করো না। ভোটারদের এমন অবাক করা মন্তব্য পাওয়া গেছে সাগরিকার নির্বাচনি প্রচারণায়।
জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সাগরিকার উঠে আসার গল্পটা সহজ ছিল না। নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে এখানে আসতে হয়েছে। সচরাচর চলার পথে তৃতীয় লিঙ্গের কাউকে দেখলে অনেকে ভয়ে আঁতকে ওঠেন। কেউ স্বাভাবিকভাবে নেন, আবার কেউ বিরক্ত হন। মাঝে মধ্যে খারাপ আচরণও আচরণ করে কেউ কেউ।
প্রতিনিয়ত এসবের সম্মুখীন হওয়া মানুষগুলো সমাজের মূলস্রোতে যুক্ত হওয়ার সংগ্রাম মোটেও সহজ নয়। সেই কঠিন বাস্তবতার মধ্যে রাজশাহী সিটি নির্বাচনে সংরক্ষিত ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাগরিকা। জয়ের ব্যাপারে তিনিি আশাবাদি।
নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে অষ্টম শ্রেণি পাসের পর থেমে যায় পড়াশোনা। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হওয়ায় থেমে যাওয়া পড়াশোনা আর চালানো সম্ভব হয়নি। উল্টো বাড়ি ছাড়তে হয়েছে। অলিগলিতে কেটেছে মাসের পর মাস। নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে এখন জনগণের সেবক হতে চান।
২০০০ সালে সাগরিকার উদ্যোগে দিনের আলো হিজড়া সংঘ সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। ২০০৫ সালে মহিলা অধিদফতর ও ২০০৭ সালে সমাজসেবা অধিদফতর থেকে নিবন্ধন পায় সংগঠনটি। হিজড়াদের ভোটাধিকার, বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশীদারিত্ব নিয়ে কাজ করছেন। ২০২২ সাল থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
সাগরিকা তার কর্মীদের নিয়ে ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা বলেন, তোমাকে চিনি, পাশে আছি, চিন্তা করো না। সারবিকা নির্বাচনী প্রচালনার আগে থেকেই তার কথা লোকমুখে শুনেছেন এলাকাবাসী। সে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মানুষ। কাজেই পিছয়ে পড়া মানুষের কষ্টগুলো তার চেয়ে কেউ ভালো অনুভব করতে পারবে না। এ কারণে এবার সাগরিকাকেই ভোট দেবো আমরা।




















