ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন প্রত্যেকটি অন্যায়ের বিচার চাইলে গণতান্ত্রিক সরকার অপরিহার্য, তারেক রহমান গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল: ডা. এফ এম সিদ্দিকীর গুরুতর অভিযোগ কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ: রংপুরে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় সমাবেশ ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস: ঋণ-বিবাদে নৃশংসভাবে খুন মা ও কিশোরী মেয়ে

বেশি আক্রান্ত যুবক মৃত্যু বয়স্ক ব্যক্তি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৩:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১ ৩১৬ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

গত বছর ৮ মার্চ প্রথম করোনা শনাক্ত হবার পর থেকে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর ক্ষেত্রে সিংহভাগই ছিলেন বয়স্ক মানুষ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে তাই মিলছিলো। কিন্তু এরই মধ্যে এক বছর পেরিয়ে গিয়েছে মহামারীকাল।

চলতি বছরে করোনার সংক্রমণ হার ২% এর কাছাকাছি চলে আসে। আর তখনই শুরু হয় মানুষের লাগামহীন চলাচল। বাংলাদেশের কক্সবাজার, কুয়াকাটা, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, সিলেটসহ এমন কোন পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র ছিলা না, যেখানে উপছে মানুষের ভিড় ছিলো না। কক্সবাজারে পর্যকের এতোটাই চাপ ছিলো যে, থাকার জায়গা না পেয়ে খোলা আকাশ এবং গাছ তলায় রাত কাটাতে হয়েছে।

এরই মার্চ মাসের প্রথম দিকে করোনার গ্রাপ উর্ধমুখি। একপর্যায়ে আক্রান্ত এবং মৃত্যু যে প্রতিযোগিতা। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে শনাক্তর হার। রাস্তায় শোনা যায় অ্যাম্বুলেন্সের পিলে চমকালো সাইরেন। হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল। কোথাও মিলছে না একটি বিছানা।

পরিস্থিতি যখন এমন নাজুক, তখনই লকডাউনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন বিশেষজ্ঞ চিতিকৎসকরা। প্রাথমিক অবস্থায় ৫ থেকে ১১ এপ্রিল এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোসণা করা হয়। কিন্তু এই চেষ্টা ভ্যাস্তে যায়। গণপরিবহন ও ট্রেনচলাচল বন্ধ থাকলেও প্রাইভেটকারসহ সকল প্রকারের যানবাহন রাস্তায় ছুটে বেড়ায়।

কার্যত একসপ্তাহের লকডাউন ব্যর্থ। এতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়, আশঙ্কার বাণী! তাদের তরফে পরামর্শ আসে লকডাউন হতে হবে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ।
কারণ, করোনা ভাইরাস মানবদেহে ১৪দিন পর্যন্ত ঘাপটি মেরে থাকে এবং সংক্রমণ ঘটাতে সক্ষম।

অবশেষে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে ১৪ থেকে এক সপ্তাহের সার্বিক লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। এবারের লকডাউনে রাস্তায় চলাচলের জন্য মুভমেন্ট পাস প্রয়োজন হচ্ছে। রাস্তায় কেউ চলতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ছেন। মুভমেন্ট পাস দেখাতে ব্যর্থদের জরিমানা করে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এ অবস্থায় নতুন তথ্য হচ্ছে, বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্তদের বেশিরভাগই যুবক। আর মৃত্যুহার বয়স্ক মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়ির বাইরে যুবকদের চলাচল বেশি। তাই আক্রান্তর সংখ্যাও বেশি। তাছাড়া শারীরিক জটিলতার কারণে বয়স্ক মানুষের মৃত্যুর হার বেশি।

স্বাস্থ্য অদিদপ্তরের তথ্যে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত আক্রান্তর সংখ্যা ৭ লাখ। তার মধ্যে প্রায় ৪ লাখই যুবক। তাদের বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। আর মৃত ১০ হাজার ৮১জনের মধ্যে ৮ হাজারের বেশি মানুষের বয়স পঞ্চাশ বছরের ওপরে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আক্রান্তদের সবচেয়ে বেশি ৫৪ দশমিক ৭ শতাংশের বয়স ২১ থেকে ৪০ বছর। সংখ্যার হিসাবে তা ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩৪ জন।

যার মধ্যে ২৭ দশমিক ৬ শতাংশের (১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫) বয়স ২১ থেকে ৩০ বছর। ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ২৭ দশমিক ১ শতাংশ বা ১ লাখ ৯০ হাজার ৫৫৯ জন।

শনাক্ত রোগীদের ২ দশমিক ৯ শতাংশের বয়স ১০ বছরের কম। ১১ থেকে ২০ বছর বয়সের ৭ দশমিক ৩ শতাংশ, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সের ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ, ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সের ১১ দশমিক ২ শতাংশ এবং ষাটোর্ধ্ব ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে যে ১০ হাজার ৮১ জন মারা গেছেন, তাদের মধ্যে পঞ্চাশোর্ধ্ব মানুষই ৮০ দশমিক ৮৯ শতাংশ অর্থাৎ, ৮ হাজার ১৫৫ জন। মোট মৃত্যুর ৫৬ দশমিক ২৯ শতাংশ অর্থাৎ ৫ হাজার ৬৭৫ জনের বয়স ৬০ বছরের বেশি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বেশি আক্রান্ত যুবক মৃত্যু বয়স্ক ব্যক্তি

আপডেট সময় : ১২:২৩:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

গত বছর ৮ মার্চ প্রথম করোনা শনাক্ত হবার পর থেকে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর ক্ষেত্রে সিংহভাগই ছিলেন বয়স্ক মানুষ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে তাই মিলছিলো। কিন্তু এরই মধ্যে এক বছর পেরিয়ে গিয়েছে মহামারীকাল।

চলতি বছরে করোনার সংক্রমণ হার ২% এর কাছাকাছি চলে আসে। আর তখনই শুরু হয় মানুষের লাগামহীন চলাচল। বাংলাদেশের কক্সবাজার, কুয়াকাটা, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, সিলেটসহ এমন কোন পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র ছিলা না, যেখানে উপছে মানুষের ভিড় ছিলো না। কক্সবাজারে পর্যকের এতোটাই চাপ ছিলো যে, থাকার জায়গা না পেয়ে খোলা আকাশ এবং গাছ তলায় রাত কাটাতে হয়েছে।

এরই মার্চ মাসের প্রথম দিকে করোনার গ্রাপ উর্ধমুখি। একপর্যায়ে আক্রান্ত এবং মৃত্যু যে প্রতিযোগিতা। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে শনাক্তর হার। রাস্তায় শোনা যায় অ্যাম্বুলেন্সের পিলে চমকালো সাইরেন। হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল। কোথাও মিলছে না একটি বিছানা।

পরিস্থিতি যখন এমন নাজুক, তখনই লকডাউনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন বিশেষজ্ঞ চিতিকৎসকরা। প্রাথমিক অবস্থায় ৫ থেকে ১১ এপ্রিল এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোসণা করা হয়। কিন্তু এই চেষ্টা ভ্যাস্তে যায়। গণপরিবহন ও ট্রেনচলাচল বন্ধ থাকলেও প্রাইভেটকারসহ সকল প্রকারের যানবাহন রাস্তায় ছুটে বেড়ায়।

কার্যত একসপ্তাহের লকডাউন ব্যর্থ। এতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়, আশঙ্কার বাণী! তাদের তরফে পরামর্শ আসে লকডাউন হতে হবে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ।
কারণ, করোনা ভাইরাস মানবদেহে ১৪দিন পর্যন্ত ঘাপটি মেরে থাকে এবং সংক্রমণ ঘটাতে সক্ষম।

অবশেষে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে ১৪ থেকে এক সপ্তাহের সার্বিক লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। এবারের লকডাউনে রাস্তায় চলাচলের জন্য মুভমেন্ট পাস প্রয়োজন হচ্ছে। রাস্তায় কেউ চলতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ছেন। মুভমেন্ট পাস দেখাতে ব্যর্থদের জরিমানা করে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এ অবস্থায় নতুন তথ্য হচ্ছে, বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্তদের বেশিরভাগই যুবক। আর মৃত্যুহার বয়স্ক মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়ির বাইরে যুবকদের চলাচল বেশি। তাই আক্রান্তর সংখ্যাও বেশি। তাছাড়া শারীরিক জটিলতার কারণে বয়স্ক মানুষের মৃত্যুর হার বেশি।

স্বাস্থ্য অদিদপ্তরের তথ্যে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত আক্রান্তর সংখ্যা ৭ লাখ। তার মধ্যে প্রায় ৪ লাখই যুবক। তাদের বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। আর মৃত ১০ হাজার ৮১জনের মধ্যে ৮ হাজারের বেশি মানুষের বয়স পঞ্চাশ বছরের ওপরে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আক্রান্তদের সবচেয়ে বেশি ৫৪ দশমিক ৭ শতাংশের বয়স ২১ থেকে ৪০ বছর। সংখ্যার হিসাবে তা ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩৪ জন।

যার মধ্যে ২৭ দশমিক ৬ শতাংশের (১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫) বয়স ২১ থেকে ৩০ বছর। ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ২৭ দশমিক ১ শতাংশ বা ১ লাখ ৯০ হাজার ৫৫৯ জন।

শনাক্ত রোগীদের ২ দশমিক ৯ শতাংশের বয়স ১০ বছরের কম। ১১ থেকে ২০ বছর বয়সের ৭ দশমিক ৩ শতাংশ, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সের ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ, ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সের ১১ দশমিক ২ শতাংশ এবং ষাটোর্ধ্ব ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে যে ১০ হাজার ৮১ জন মারা গেছেন, তাদের মধ্যে পঞ্চাশোর্ধ্ব মানুষই ৮০ দশমিক ৮৯ শতাংশ অর্থাৎ, ৮ হাজার ১৫৫ জন। মোট মৃত্যুর ৫৬ দশমিক ২৯ শতাংশ অর্থাৎ ৫ হাজার ৬৭৫ জনের বয়স ৬০ বছরের বেশি।