ঢাকা ১২:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশে ‘বিধর্মী সংসদ সদস্য থাকতে পারে না’ জামায়াতের জনসভা ঘিরে বিতর্ক তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা সিনিয়রে আনসার, জুনিয়রে বিকেএসপি চ্যাম্পিয়ন কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বনানীতে কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান অনিশ্চয়তায় অমর একুশে বইমেলা, পহেলা ফেব্রুয়ারিতে একদিনের প্রতীকী আয়োজন দেশপ্রেমের নামে গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক করছে তারা: চরমোনাই পীর ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার দৌরাত্ম্য: সড়কে  বিশৃঙ্খলা, দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়েছে ফরিদপুরে অবৈধ অস্ত্র কারখানায় সেনা অভিযান, একাধিক সরঞ্জাম উদ্ধার পশ্চিমবঙ্গের মুড়িগঙ্গা নদীতে ডুবে গেল বাংলাদেশি জাহাজ, উদ্ধার ১২ জন অস্ট্রেলিয়ায় হাঙরের কামড়ে আহত কিশোরের মৃত্যু বাংলাদেশ ক্রিকেট ইস্যুতে মন্তব্যের পর ভারতে মুসলিম অভিনেতা কেআরকের গ্রেফতার, বিতর্ক তুঙ্গে

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, পানির নিচে ফসলি জমি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:১৬:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫ ১০০ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, পানির নিচে ফসলি জমি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি এখনও অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। জেলার নদনদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল, চর ও দ্বীপচরগুলোতে মানুষের বসবাস ও কৃষিকাজ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। যদিও তিস্তা ও দুধকুমর নদীর পানি কমতে শুরু করেছে, তবে ব্রহ্মপুত্রের পানি কিছুটা বেড়েছে। সব মিলিয়ে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি এখনও দৃশ্যমান নয়।

জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলমান বন্যায় চর ও দ্বীপচরের প্রায় ১,৮০০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রোপা আমন, শাকসবজি, চীনা বাদাম ও মাসকলাইসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে রয়েছে। ক্ষতির মুখে পড়েছে রাজারহাট, উলিপুর, চিলমারী, নাগেশ্বরী, ফুলবাড়ী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার বহু কৃষক।

রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙা ইউনিয়নের কৃষক মতিয়ার রহমান জানান, “বছরের শুরু থেকেই কয়েকবার তিস্তার পানি বেড়েছে। এতে আমার আমন ধানসহ অন্যান্য ফসল ডুবে গেছে। এখন শুধু ক্ষতির হিসাব কষছি।”

বন্যার সঙ্গে সঙ্গে নদীভাঙনের তীব্রতাও বেড়েছে। সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে গত দু’দিনে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হয়ে গেছে। গৃহহীন হয়ে অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন।

গত কয়েকদিনের ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে জেলার নদনদীর পানি বৃদ্ধি পায়। তবে মঙ্গলবার বিকেল থেকে তিস্তা নদী কাউনিয়া পয়েন্টে ৩০ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলা নদীর পানি শিমুলবাড়ি পয়েন্টে এবং দুধকুমর নদীর পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে কমলেও ব্রহ্মপুত্রের তিনটি পয়েন্টে পানি কিছুটা বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, “নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। দু-এক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি। তবে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।”

জেলার পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক হলেও পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, পানির নিচে ফসলি জমি

আপডেট সময় : ১১:১৬:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি এখনও অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। জেলার নদনদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল, চর ও দ্বীপচরগুলোতে মানুষের বসবাস ও কৃষিকাজ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। যদিও তিস্তা ও দুধকুমর নদীর পানি কমতে শুরু করেছে, তবে ব্রহ্মপুত্রের পানি কিছুটা বেড়েছে। সব মিলিয়ে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি এখনও দৃশ্যমান নয়।

জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলমান বন্যায় চর ও দ্বীপচরের প্রায় ১,৮০০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রোপা আমন, শাকসবজি, চীনা বাদাম ও মাসকলাইসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে রয়েছে। ক্ষতির মুখে পড়েছে রাজারহাট, উলিপুর, চিলমারী, নাগেশ্বরী, ফুলবাড়ী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার বহু কৃষক।

রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙা ইউনিয়নের কৃষক মতিয়ার রহমান জানান, “বছরের শুরু থেকেই কয়েকবার তিস্তার পানি বেড়েছে। এতে আমার আমন ধানসহ অন্যান্য ফসল ডুবে গেছে। এখন শুধু ক্ষতির হিসাব কষছি।”

বন্যার সঙ্গে সঙ্গে নদীভাঙনের তীব্রতাও বেড়েছে। সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে গত দু’দিনে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হয়ে গেছে। গৃহহীন হয়ে অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন।

গত কয়েকদিনের ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে জেলার নদনদীর পানি বৃদ্ধি পায়। তবে মঙ্গলবার বিকেল থেকে তিস্তা নদী কাউনিয়া পয়েন্টে ৩০ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলা নদীর পানি শিমুলবাড়ি পয়েন্টে এবং দুধকুমর নদীর পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে কমলেও ব্রহ্মপুত্রের তিনটি পয়েন্টে পানি কিছুটা বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, “নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। দু-এক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি। তবে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।”

জেলার পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক হলেও পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।