ঢাকা ০২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি ও এপার-ওপার যাতায়তে আয় জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি এখনও তাজা, শহীদ ও আহতরা শুধু সংখ্যার অংশ নয় পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন সন্তান হারা মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ যেন হাজারো গুমের শিকার পরিবারের নীরব চিৎকার গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা

বিজয় দিবসে স্মরণকালের মানব ঢল স্মৃতিসৌধে

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৯৮ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের মানুষের পথ গিয়ে মিশেছে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। বিজয় দিবস উদযাপনে স্মরণকালের মানবঢল নামে স্মৃতিসৌধে। বহু নারী-পুরুষ সোমবার ভোরে সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন স্মৃতিসৌধে। ১৬ ডিসেম্বর কেন বাঙালির মুক্তির দিন, বিজয়ের দিন, চেতনার দিন, সেই পাঠ তারা ছেলেমেয়েদের দিয়েছেন।

১৯৭১ সালে ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত বিজয় আসার দিনটি উদযাপন করতে দেশজুড়ে দিনভর ছিল নানা আয়োজন। ছিলো বিজয় দিবসের কনসার্ট। সেখানেও ছিলো স্মরণকালের সমাবেশ।

পৌষের সকালে শীত উপেক্ষা করে জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রবেশের অপেক্ষা করছিলেন হাজারো জনতা। ভোরের আলো ফুটতেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং বাংলাদেশে সফররত পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট হোসে রামোস।

তাদের আগমন ঘিরে চারপাশে ছিল কঠোর নিরাপত্তা। তারা চলে যেতেই হাজারো মানুষের স্রোত ঢুকে পড়ে স্মৃতিসৌধে। মুহূর্তে যেন বিজয়ের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে।

নারীদের কেউ এসেছিলেন লাল-সবুজ শাড়িতে সেজে, পুরুষদের কেউ কেউ পরেছেন পাঞ্জাবি। লাল-সবুজের আধিক্য ছিল শিশুদের পোশাকেও। কারো কপালে ছিল লাল-সবুজের টিপ; কারো মাথার লাল-সবুজের পতাকা; কপালেও বেঁধেছেন কেউ কেউ। লাল-সবুজের ফুলগাছগুলোও তাদের সঙ্গে মিশে যায়।

আশুলিয়ার খেজুরবাগান এলাকা থেকে বন্ধুর সঙ্গে স্মৃতিসৌধে এসেছিলেন মোহাম্মদ জাকিরুল ইসলাম, পেশায় তিনি নির্মাণ শ্রমিক।

১৯৭১ সালে যারা মারা গেছেন, তাদের জন্য দোয়া করতে এসেছেন। এখানে এলে তাদের কথা মনে পড়ে, তাদের জন্য হৃদয় কাঁদে। যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে আছেন, তাদের দীর্ঘায়ু কামনা করেন তিনি।

এবারের বিজয় দিবসের আলাদা তাৎপর্য তুলে ধরেন অনেকে। কেন? বলেন, এই মানব ঢল বলে দিচ্ছে, মুক্ত পরিবেশে তারা উচ্ছ্বল। কতটা দূরন্তপনা শিশু-কিশোরদের মাঝে। অনাবিল এই আনন্দ হারিয়ে গিয়েছিলো প্রায়।

এই সৌধের সঙ্গে যে নানা ইতিহাস জড়িয়ে আছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চে অপারেশন সার্চলাইটের মধ্য দিয়ে গণহত্যা শুরু করে পাকিস্তানি বাহিনী। শুধু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। সেই লড়াইয়ে চূড়ান্ত বিজয় আসে ১৬ ডিসেম্বর।

বিজয় দিবসে সরকারি ছুটির দিনে দেশের সব সরকারি-আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাগুলোয় করা হয় আলোকসজ্জা। সাজানো হয় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ।

দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করে।

দেশের সব জেলা ও উপজেলায় দিনব্যাপী হয় বিজয়মেলা। শিশুদের জন্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে স্মারক ডাক টিকেট প্রকাশ করে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিজয় দিবসে স্মরণকালের মানব ঢল স্মৃতিসৌধে

আপডেট সময় : ০৭:৪৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪

 

রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের মানুষের পথ গিয়ে মিশেছে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। বিজয় দিবস উদযাপনে স্মরণকালের মানবঢল নামে স্মৃতিসৌধে। বহু নারী-পুরুষ সোমবার ভোরে সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন স্মৃতিসৌধে। ১৬ ডিসেম্বর কেন বাঙালির মুক্তির দিন, বিজয়ের দিন, চেতনার দিন, সেই পাঠ তারা ছেলেমেয়েদের দিয়েছেন।

১৯৭১ সালে ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত বিজয় আসার দিনটি উদযাপন করতে দেশজুড়ে দিনভর ছিল নানা আয়োজন। ছিলো বিজয় দিবসের কনসার্ট। সেখানেও ছিলো স্মরণকালের সমাবেশ।

পৌষের সকালে শীত উপেক্ষা করে জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রবেশের অপেক্ষা করছিলেন হাজারো জনতা। ভোরের আলো ফুটতেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং বাংলাদেশে সফররত পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট হোসে রামোস।

তাদের আগমন ঘিরে চারপাশে ছিল কঠোর নিরাপত্তা। তারা চলে যেতেই হাজারো মানুষের স্রোত ঢুকে পড়ে স্মৃতিসৌধে। মুহূর্তে যেন বিজয়ের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে।

নারীদের কেউ এসেছিলেন লাল-সবুজ শাড়িতে সেজে, পুরুষদের কেউ কেউ পরেছেন পাঞ্জাবি। লাল-সবুজের আধিক্য ছিল শিশুদের পোশাকেও। কারো কপালে ছিল লাল-সবুজের টিপ; কারো মাথার লাল-সবুজের পতাকা; কপালেও বেঁধেছেন কেউ কেউ। লাল-সবুজের ফুলগাছগুলোও তাদের সঙ্গে মিশে যায়।

আশুলিয়ার খেজুরবাগান এলাকা থেকে বন্ধুর সঙ্গে স্মৃতিসৌধে এসেছিলেন মোহাম্মদ জাকিরুল ইসলাম, পেশায় তিনি নির্মাণ শ্রমিক।

১৯৭১ সালে যারা মারা গেছেন, তাদের জন্য দোয়া করতে এসেছেন। এখানে এলে তাদের কথা মনে পড়ে, তাদের জন্য হৃদয় কাঁদে। যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে আছেন, তাদের দীর্ঘায়ু কামনা করেন তিনি।

এবারের বিজয় দিবসের আলাদা তাৎপর্য তুলে ধরেন অনেকে। কেন? বলেন, এই মানব ঢল বলে দিচ্ছে, মুক্ত পরিবেশে তারা উচ্ছ্বল। কতটা দূরন্তপনা শিশু-কিশোরদের মাঝে। অনাবিল এই আনন্দ হারিয়ে গিয়েছিলো প্রায়।

এই সৌধের সঙ্গে যে নানা ইতিহাস জড়িয়ে আছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চে অপারেশন সার্চলাইটের মধ্য দিয়ে গণহত্যা শুরু করে পাকিস্তানি বাহিনী। শুধু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। সেই লড়াইয়ে চূড়ান্ত বিজয় আসে ১৬ ডিসেম্বর।

বিজয় দিবসে সরকারি ছুটির দিনে দেশের সব সরকারি-আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাগুলোয় করা হয় আলোকসজ্জা। সাজানো হয় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ।

দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করে।

দেশের সব জেলা ও উপজেলায় দিনব্যাপী হয় বিজয়মেলা। শিশুদের জন্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে স্মারক ডাক টিকেট প্রকাশ করে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ।