ঢাকা ১২:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাতীয় কবির জন্মোৎসব উদযাপনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট গবেষণা গবেষণা : জলবায়ুঝুঁকিতে খুলনার কয়রার ৯৭ ভাগ পরিবার, বেশি ভুগছেন নারীরা জিম্মি ভোক্তা ভোজ্যতেলের বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বিচার প্রক্রিয়া আরও সুস্পষ্ট হলো যুদ্ধের দমবন্ধ পরিস্থিতি পেরিয়ে অবশেষে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে বাংলাদেশের জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ দিল্লিতে জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক, একান্ত আলোচনায় খলিলুর রহমান সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন ২০২৬ পাস যুদ্ধের সমাপ্তি নয় ‘আঙুল ট্রিগারেই’ যুদ্ধবিরতি নিয়ে মোজতবা খামেনির সতর্ক বার্তা ইরান যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে কাঁপছে ইসরায়েলি রাজনীতি: নেতানিয়াহুকে ‘ব্যর্থ’ বললেন লাপিদ আজ রাতেই একটি গোটা সভ্যতার ধ্বংস হবে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

গবেষণা গবেষণা : জলবায়ুঝুঁকিতে খুলনার কয়রার ৯৭ ভাগ পরিবার, বেশি ভুগছেন নারীরা

আমিনুল হক ভূইয়া
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৮:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

জলবায়ুঝুঁকিতে খুলনার কয়রার ৯৭ ভাগ পরিবার, বেশি ভুগছেন নারীরা: ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার সকালগুলো এখন আর আগের মতো স্বাভাবিক নয়। লবণাক্ত পানির তীব্রতা, ঘূর্ণিঝড়ের আতঙ্ক আর জলোচ্ছ্বাসের স্মৃতি মিশে আছে মানুষের প্রতিদিনের জীবনে।

সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, এই অঞ্চলের প্রায় ৯৭ শতাংশ পরিবার জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমাত্রিক ঝুঁকিতে বসবাস করছে, যা শুধু পরিবেশ নয়, মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলছে।

জলবায়ুর এই চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে নারীদের ওপর। লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে দীর্ঘদিন থাকার ফলে অনেক নারী জরায়ু ক্যানসার, চর্মরোগ, এমনকি শ্রবণ সমস্যায় ভুগছেন। তবুও তাদের কষ্টের গল্প অনেকটাই অদেখা থেকে যায়।

জলবায়ুঝুঁকিতে খুলনার কয়রার ৯৭ ভাগ পরিবার, বেশি ভুগছেন নারীরা
এক কলস খাবার পানি সংগ্রহ করতে উপকূল অঞ্চলের নারীদের মাইলের পর মাইল হাঁটতে হয়: ছবি সংগ্রহ

আশ্রয়কেন্দ্রেও নিরাপত্তার অভাব তাদের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করে। প্রায় ৮৯.৩ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, সাইক্লোন শেল্টারে নারীদের জন্য আলাদা ও নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই। ফলে অনেক নারী ঝুঁকি জেনেও আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চান না।

ইতোপূর্বে কয়রা ও আশপাশের এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন পেশাজীবী নারী এবং বেসরকারি সংস্থার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।

জলবায়ুঝুঁকিতে উপকূলের মানুষ, বেশি ভুগছেন নারীরা
জলবায়ুঝুঁকিতে উপকূলের মানুষ, বেশি ভুগছেন নারীরা: ছবি সংগ্রহ

সম্প্রতি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক কয়রা অঞ্চলের দুর্যোগ ও জলবায়ু ঝুঁকি নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় জানিয়েছেন, কয়রার মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড়।

গবেষণা বলছে, প্রায় ৮৪.৯ শতাংশ মানুষ লবণাক্ততার প্রভাবকে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন, আর ৭৪.৭ শতাংশের মতে ঘূর্ণিঝড়ই তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা। বিশেষ করে মে ও নভেম্বর মাসে এই ঝুঁকি চরম আকার ধারণ করে।

অন্যদিকে, বসবাসের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ এখনো কাঁচা ঘরে থাকেন, যার মধ্যে ৬০.৩ শতাংশ ঘরের কোনো উঁচু ভিত্তি নেই। ফলে বন্যা বা জলোচ্ছ্বাসে ঘরবাড়ি সহজেই পানিতে তলিয়ে যায়।

জলবায়ুঝুঁকিতে উপকূলের মানুষ, বেশি ভুগছেন নারীরা
জলবায়ুঝুঁকিতে উপকূলের মানুষ, বেশি ভুগছেন নারীরা: ছবি সংগ্রহ

দুর্যোগের পর যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়ে, ৮২.৮ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় জরুরি সহায়তা পেতে দেরি হয়।

জীবিকার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। লবণাক্ততার কারণে কৃষি ও মৎস্য খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে আয় কমে গিয়ে মানুষ দারিদ্র্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমাচ্ছেন, যা নতুন করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।

এই বাস্তবতায় গবেষকরা বলছেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বিশেষ করে নারীদের জন্য টেকসই জীবনধারণ পরিকল্পনা ও অভিযোজন ব্যবস্থা জরুরি। উপকূলীয় মানুষের এই লড়াই শুধু টিকে থাকার নয়, এটি মর্যাদার সঙ্গেও বাঁচার সংগ্রাম।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গবেষণা গবেষণা : জলবায়ুঝুঁকিতে খুলনার কয়রার ৯৭ ভাগ পরিবার, বেশি ভুগছেন নারীরা

আপডেট সময় : ০৮:৫৮:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার সকালগুলো এখন আর আগের মতো স্বাভাবিক নয়। লবণাক্ত পানির তীব্রতা, ঘূর্ণিঝড়ের আতঙ্ক আর জলোচ্ছ্বাসের স্মৃতি মিশে আছে মানুষের প্রতিদিনের জীবনে।

সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, এই অঞ্চলের প্রায় ৯৭ শতাংশ পরিবার জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমাত্রিক ঝুঁকিতে বসবাস করছে, যা শুধু পরিবেশ নয়, মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলছে।

জলবায়ুর এই চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে নারীদের ওপর। লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে দীর্ঘদিন থাকার ফলে অনেক নারী জরায়ু ক্যানসার, চর্মরোগ, এমনকি শ্রবণ সমস্যায় ভুগছেন। তবুও তাদের কষ্টের গল্প অনেকটাই অদেখা থেকে যায়।

জলবায়ুঝুঁকিতে খুলনার কয়রার ৯৭ ভাগ পরিবার, বেশি ভুগছেন নারীরা
এক কলস খাবার পানি সংগ্রহ করতে উপকূল অঞ্চলের নারীদের মাইলের পর মাইল হাঁটতে হয়: ছবি সংগ্রহ

আশ্রয়কেন্দ্রেও নিরাপত্তার অভাব তাদের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করে। প্রায় ৮৯.৩ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, সাইক্লোন শেল্টারে নারীদের জন্য আলাদা ও নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই। ফলে অনেক নারী ঝুঁকি জেনেও আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চান না।

ইতোপূর্বে কয়রা ও আশপাশের এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন পেশাজীবী নারী এবং বেসরকারি সংস্থার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।

জলবায়ুঝুঁকিতে উপকূলের মানুষ, বেশি ভুগছেন নারীরা
জলবায়ুঝুঁকিতে উপকূলের মানুষ, বেশি ভুগছেন নারীরা: ছবি সংগ্রহ

সম্প্রতি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক কয়রা অঞ্চলের দুর্যোগ ও জলবায়ু ঝুঁকি নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় জানিয়েছেন, কয়রার মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড়।

গবেষণা বলছে, প্রায় ৮৪.৯ শতাংশ মানুষ লবণাক্ততার প্রভাবকে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন, আর ৭৪.৭ শতাংশের মতে ঘূর্ণিঝড়ই তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা। বিশেষ করে মে ও নভেম্বর মাসে এই ঝুঁকি চরম আকার ধারণ করে।

অন্যদিকে, বসবাসের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ এখনো কাঁচা ঘরে থাকেন, যার মধ্যে ৬০.৩ শতাংশ ঘরের কোনো উঁচু ভিত্তি নেই। ফলে বন্যা বা জলোচ্ছ্বাসে ঘরবাড়ি সহজেই পানিতে তলিয়ে যায়।

জলবায়ুঝুঁকিতে উপকূলের মানুষ, বেশি ভুগছেন নারীরা
জলবায়ুঝুঁকিতে উপকূলের মানুষ, বেশি ভুগছেন নারীরা: ছবি সংগ্রহ

দুর্যোগের পর যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়ে, ৮২.৮ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় জরুরি সহায়তা পেতে দেরি হয়।

জীবিকার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। লবণাক্ততার কারণে কৃষি ও মৎস্য খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে আয় কমে গিয়ে মানুষ দারিদ্র্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমাচ্ছেন, যা নতুন করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।

এই বাস্তবতায় গবেষকরা বলছেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বিশেষ করে নারীদের জন্য টেকসই জীবনধারণ পরিকল্পনা ও অভিযোজন ব্যবস্থা জরুরি। উপকূলীয় মানুষের এই লড়াই শুধু টিকে থাকার নয়, এটি মর্যাদার সঙ্গেও বাঁচার সংগ্রাম।