রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ০৬:৪২ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বের ৫০তম বছর

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৪ মার্চ, ২০২১
  • ১২৩ Time View

এ কে এম আতিকুর রহমান  

বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্ব ৫০তম বছরে পা রাখল। এই সম্পর্ক শুধু দুটি দেশ বা জনগণের মধ্যে সম্পর্ক নয়, বরং একই দর্শন, ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ত্যাগ থেকে জন্ম নেওয়া দুটি আত্মার মধ্যকার সম্পর্ক। এই সম্পর্ক আমাদের মুক্তি এবং স্বাধীনতাসংগ্রামের কঠিন দিনগুলো থেকে উদ্ভূত। এই সম্পর্ক পারস্পরিক বিশ্বাস, সমঝোতা এবং শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি সম্পর্ক। এই সম্পর্ক এমন এক সম্পর্ক, যা দুই দেশের বীর শহীদদের মিশ্রিত রক্তধারার ওপর নির্মিত। এই সম্পর্ক একটি চিরস্থায়ী সম্পর্ক, যেমনভাবে ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে কলকাতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্ব চিরকাল অটুট থাকবে। বিশ্বের কোনো শক্তিই এটিকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না।

বাংলাদেশের বাতাসে একই সুর প্রতিধ্বনিত হয়েছিল ১৯৭২ সালের মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশ সফরকালে  বলেছিলেন, ‘ভারতীয় সৈন্যরা বাংলাদেশের মাটিতে তাদের রক্ত ঝরিয়েছিল এবং তাদের রক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল এবং তা দুই দেশের বন্ধুত্বকে শক্তিশালী করেছে।’ মিসেস গান্ধী আরো বলেছিলেন, ‘অনেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন মতামত রয়েছে, তবে প্রতিটি দেশের উচিত নিজস্ব পথ অনুসরণ করা। বন্ধুত্বের ভিত্তি পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে হওয়া উচিত।’ সত্যি বলতে এটিই ছিল দুই দেশের বন্ধুত্বের ভিত্তির মূল চেতনা।

যদিও ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল; কিন্তু অনানুষ্ঠানিক স্বীকৃতিটি অনেক আগেই দেওয়া হয়ে গিয়েছিল, যখন ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নৃশংসতার শিকার বাংলাদেশের মানুষ জীবন বাঁচাতে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শুরু করে। পাকিস্তানের দখল থেকে মাতৃভূমিকে মুক্ত করার জন্য ভারত বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র প্রশিক্ষণের পর অস্ত্রসহ বাংলাদেশের ভেতর পাঠিয়ে দিয়েছিল। আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির আগেই ঘটে যাওয়া এসব ঘটনা কি ভারত কর্তৃক একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গ্রহণ করে নেওয়া ছিল না? আমাদের সম্পর্কের বন্ধনটা তো তখনই বাঁধা পড়ে গিয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু ভারত সফর করেছিলেন (যাত্রাবিরতিসহ) পাঁচবার, যা একটি দেশে বঙ্গবন্ধুর সর্বোচ্চসংখ্যক সফর ছিল। এমনকি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডন হয়ে স্বদেশে ফেরার পথে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যাত্রাবিরতি করেছিলেন ভারত সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য। বঙ্গবন্ধুর আমন্ত্রণে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি এবং প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধীও বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। দুই দেশ যে তাদের সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছিল, এ সফরগুলো তো তারই প্রতিফলন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পর এই সম্পর্ক থমকে দাঁড়িয়ে যায়। অগণতান্ত্রিক সামরিক সরকার ক্ষমতা দখলের পর বাংলাদেশকে তার মহান বন্ধু ভারতের সঙ্গে খুবই শীতল সম্পর্কের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়েছিল। তবে ১৯৯১ সালে সামরিক সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য হলে গণতন্ত্রের আলো আবারও বাংলাদেশের আকাশকে আলোকিত করতে শুরু করে। যদিও ১৫ বছরের সামরিক শাসনের সময় বাংলাদেশের মানুষকে দুর্ভোগের এক কালো অধ্যায় পার করতে হয় এবং এ সময়ে গণতান্ত্রিক বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান সম্পর্কের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছিল।

১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাও তিনবার বৈঠক করেছিলেন। ১৯৯২ সালের মে মাসে খালেদা জিয়া দিল্লি সফরের সময় তাঁদের প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল। ১৯৯৩ সালের এপ্রিলে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে নরসিমা রাও অংশ নেওয়ার সময় দ্বিতীয়বারের মতো তাঁরা বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। তাঁরা তৃতীয়বারের মতো দিল্লিতে বৈঠক করেছিলেন, বিশেষ করে গঙ্গার পানিবণ্টন ইস্যু নিয়ে। উল্লেখ্য, ওই সফরে গঙ্গার পানিবণ্টন সমস্যার কোনো সমাধান করা সম্ভব হয়নি। তবে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পাঁচ মাসের মধ্যেই ওই সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়েছিল। ঐতিহাসিক গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তিটি দুই প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।

২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে। বিএনপি সরকার পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকলেও দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের তেমন একটা উন্নতি ঘটেনি। তবে ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করলে দুই দেশের সম্পর্ক মূলধারায় ফিরে আসে। তখন থেকেই বাংলাদেশ ও ভারত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নির্ধারিত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে চলছে এবং তাদের সম্পর্ক প্রতিদিনই দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হচ্ছে। মূলত দুই দেশের বৃহত্তর স্বার্থের জন্য সম্পর্ককে আরো জোরদার ও নিবিড় করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত নির্দেশনার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

এ পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে অনেক সর্বোচ্চ পর্যায়ের সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের জানুয়ারিতে ভারত সফর করেছিলেন। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে উন্নয়নের জন্য সহযোগিতা সম্পর্কিত একটি কাঠামোগত চুক্তি এবং ভূমি সীমানা চুক্তি, ১৯৭৪-এর অধীন একটি প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়। ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখোপাধ্যায় ২০১৩ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশ সফরে আসেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ভারত সফর করেন।

ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৫ সালের জুনে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। উল্লেখ্য, তাঁর সফরের এক মাসের মধ্যেই ১১১টি ভারতীয় ছিটমহল বাংলাদেশের ভূখণ্ডে যুক্ত হয় এবং ৫১টি বাংলাদেশি ছিটমহল ভারতীয় ভূখণ্ডে পরিণত হয়, যা বিগত ৬৮ বছরের মানবিক সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি ছিল।

শেখ হাসিনা ১৯ আগস্ট ২০১৫ ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী শ্রীমতী সুভ্রা মুখোপাধ্যায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে ভারতে গিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি তাঁর ভারতীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের সময় দুই প্রধানমন্ত্রী একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। ২০১৬ সালের অক্টোবরে ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস-বিমসটেক আউটরিচ শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের সময় শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালের এপ্রিলে এক রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গিয়েছিলেন। স্মর্তব্য, বিমানবন্দরে শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ওই সফরকালে তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতির বাসভবনে অবস্থান করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে একটি সড়কের নামকরণ ছাড়াও শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র হিন্দিতে অনূদিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। ওই সময় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে যেসব ভারতীয় সেনা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সম্মানিত করেন। এ ছাড়া দুই প্রধানমন্ত্রী রাধিকাপুর ও বিরলের মধ্যে চতুর্থ রেল যোগাযোগের উদ্বোধন করেন।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ১৯ মার্চ ২০১৮ নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সোলার অ্যালায়েন্স ফাউন্ডিং কনফারেন্সে অংশ নিতে ভারত সফর করেন। ওই বছরের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পশ্চিমবঙ্গ সফর করেছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ওই অনুষ্ঠানে এসেছিলেন।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে, দুই প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত ‘বন্ধুত্বের পাইপলাইন’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং দুটি রেল প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এ ছাড়া ২০১৯ সালের মার্চ মাসে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চারটি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। ২৯ মে ২০১৯ তারিখে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দ্বিতীয় মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারত সফর করেছিলেন।

এ বছরের শুরুতেই দুই দেশের সম্পর্ক আরো গুরুত্ব পায়, যখন ভারত কভিড-১৯ ভ্যাকসিন সরবরাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করে। এই উদ্যোগটি দুই দেশের মানুষকে অনেক ঘনিষ্ঠ করেছে, কাছাকাছি এনে দিয়েছে। অতি সম্প্রতি দুই দেশকে সংযুক্ত করে ফেনী নদীর ওপর একটি ১.৯ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্ধুত্ব সেতু নির্মিত হয়েছে, যা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দুই প্রধানমন্ত্রী শুভ উদ্বোধন করেন। এই সেতু দুই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করবে।

এখন পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সব চুক্তি, সমঝোতা স্মারক এবং প্রটোকলের শিরোনাম এখানে উল্লেখ করা সম্ভব নয়। নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সীমানা নির্ধারণ, সংযোগ, সহযোগিতা, অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সমুদ্র অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, কর, প্রতিরক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে শত শত স্বাক্ষরিত দলিল রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের মতো অসংখ্য দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে। ওই সব দলিল এবং প্রক্রিয়া দুই দেশের সহযোগিতাকে আরো সুনির্দিষ্ট এবং ফলপ্রসূ করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ২৬ মার্চ ঢাকায় আসছেন। পরের দিন দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক বা দলিল স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

যদিও বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারির হুমকি অব্যাহত রয়েছে, তারই মাঝে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর আবারও দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের গভীরতা এবং দৃঢ় বন্ধনকেই প্রকাশ করে। এটা সত্য যে একজন বিশ্বস্ত বন্ধু সর্বদাই অপর বন্ধুর পাশে থাকে এবং তারা তাদের সব আনন্দ ও দুঃখ ভাগ করে নেয়। এখানে উল্লেখ না করলেই নয় যে বাংলাদেশ সব সময়ই ভারতকে এক অকৃত্রিম বন্ধু মনে করে এবং তার সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও ভারতের সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। বাংলাদেশের জনগণও ১৯৭১ সালের সেই ভারতকেই সব সময় দেখতে চায়, যে তার হাজারো সমস্যাকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশ ও তার জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিল। আমরা আগেও এর অনেক প্রমাণ পেয়েছি এবং তারই পরিপ্রেক্ষিতে আশা করি যে দুই নেতা দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্য বিষয়গুলো, যেমন—তিস্তার পানিবণ্টন বা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশকে সমর্থন ইত্যাদি ক্ষেত্রে আন্তরিক এবং ন্যায়সংগত আলোচনার মাধমে দুই দেশের জনগণের জন্য একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধিশালী ভবিষ্যৎ রচনা করবেন। এই দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের নেতাদের ও জনগণের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতার ভিত্তি নিশ্চিত করবে দুই দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা। একটি বড় দেশ হিসেবে ভারতকেই এগিয়ে আসতে হবে, তার পরীক্ষিত বন্ধু বাংলাদেশের কথা শুনতে হবে সহযোগিতার খোলা মন নিয়ে। দুটি বন্ধু দেশের মধ্যে কোনো সমস্যাই অমীমাংসিত থাকা কাম্য হতে পারে না। এই দৃষ্টিভঙ্গি এবং লক্ষ্য সামনে রেখে, বাংলাদেশ ও ভারতকে একই উৎসাহ ও অঙ্গীকার নিয়ে অগ্রসর হতে হবে, তাদের সম্পর্কের ১০০ বছর পূর্ণ করার অনেক আগেই যেন তারা উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছে যেতে পারে—দুই দেশের জনগণ আন্তরিকভাবেই সেই প্রত্যাশা করে। বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব দীর্ঘজীবী হোক! কালের কণ্ঠের সৌজন্যে

লেখক : সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সচিব

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2017 voiceekattor
কারিগরি সহযোগিতায়: সোহাগ রানা
11223