February 28, 2021, 4:04 am

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬৫ লাখ পিপিই রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, July 22, 2020,
  • 183 Time View

বর্হিবিশ্বে পোশাক বাজার সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন বাজার সৃষ্টির চেষ্টা অব্যাহত রাখতে
ইউরোপীয় দেশের বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত ও মিশন প্রধানদের তাগিদ বিদেশমন্ত্রীর

ভয়েস রিপোর্ট :
বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, দেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলো বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ও আইএলও’র নির্দেশনা মেনে উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে কিছুদিন পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬৫ লাখ পিপিই রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। দেশের ঔষধ শিল্পের অভাবনীয় উন্নতির ফলে করোনা চিকিৎসায় বিভিন্ন ঔষধ উৎপাদন ও রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে।
রাজধানীর অদূরে সভারের রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের পোশাকখাতের যে উন্নয়ন হয়েছে, তাকে বিস্ময়কর এবং বিশ^মানের বলে মন্তব্য করেছিলেন তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। স্বাধনিতার পরবর্তী সময়ে উন্নয়ন বাংলাদেশের ধারাবাহিকতায় পোশাকখাতের উত্থান দুনিয়ার সামনে এক বিস্ময়কর ঘটনা, এটাকে এক বাক্যে সবাই কবুল করেন। যার কারণে এখানে ছুটে আসেন ইউরোপের পৃথিবীখ্যাত ব্যবসায়ীরা। আশাপাশের দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অনেক এগিয়ে বাংলাদেশ। এই ঈর্ষনীয় অবস্থানে আঘাত হেনেছে করোনা নামক অদেখা এক মহামারি। যার ছোবলে গোটা দুনিয়া ভিত নড়ে গেছে। তছনছ করে দিয়েছে অর্থনীতির প্রবাহ। থমকে দিয়েছে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা। যা থেকে বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই।
আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ করে ইউরোপে তৈরি পোশাকের বাজার ধরে রাখা এবং সম্প্রসারণে অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। যার ধারাবাহিকতায় ইউরোপের রাষ্ট্রদূত ও মিশন প্রধান নিয়ে বৈঠক করেন মন্ত্রী। এসময় তিনি বলেছেন, যে করেই হোক বাংলাদেশের পোশাক বাজার ধরে রাখার পাশাপাশি আরও সম্প্রসারণের তাগিদ দেন ড. মোমেন।
প্রসঙ্গত, রপ্তানি তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৯ সালের মার্চ মাসের তুলনায় গত মার্চে পোশাক রপ্তানি কমেছে ২৬ দশমিক ৭ শূন্য শতাংশ আর এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে কমছে প্রায় ৮৪ শতাংশ। আর বিজিএমইএর তরফে বলা হয়েছে, আগামী ৬ মাস থেকে একবছর কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। পৃথিবী জুড়ে কার্যাদেশ কমতে পারে ৪০ ভাগ। যে অবশিষ্ট কার্যাদেশ ৬০ ভাগ থাকবে তার জন্য বাংলাদেশকে লড়তে ভিয়েতনাম-কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলো ভালো অবস্থানে থাকা দেশগুলোর কথা মাথায় রেখেই।
বৈঠকে বিদেশমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে সরকার করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা প্রদানের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের চাকা সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে সাময়িকভাবে যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে তা মোকাবিলায় ১২.১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। যা প্রায় ৫ কোটি মানুষের হাতে নগদ সহায়তা হিসেবে তুলে দেওয়া হয়েছে।

ড. এ কে আবদুল মোমেন বৈঠকে বলেন, করোনা মহামারির কারণে যে নাজুক বিশ্বপরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে দাড়িয়ে দেশের রপ্তানি আয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে কাজ করতে হবে। তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান বাজার সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন নতুন বাজার অনুসন্ধানের জন্য ইউরোপে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের প্রতি আহবান জানান ড. মোমেন। নিজ দপ্তর থেকে মঙ্গলবার ইউরোপে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের সাথে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে যুক্ত বিদেশমন্ত্রী মি. মোমেন।
এসময় ড. মোমেন নতুন নতুন শ্রম বাজার খোঁজার জন্য রাষ্ট্রদূতদের প্রতি অনুরোধ করেন। তিনি করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের প্রনোদনা প্যাকেজসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ স্বস্ব দেশের সরকার ও প্রবাসীদের অবহিত করার জন্যও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের পরামর্শ দেন। সভায় বিশ্বে বাংলাদেশের বিপক্ষে নেতিবাচক প্রচারণার বিষয়েও রাষ্ট্রদূতদের সতর্ক থাকার অনুরোধ করেন ড. মোমেন।
বিদেশ প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আলম এবং বিদেশ সচিব মাসুদ বিন মোমেন বিদেশ মন্ত্রকের বৈঠকে যুক্ত হন। এছাড়া বিজিএমই’র সভাপতি ড. রুবানা হক সংযুক্ত ছিলেন। ড. রুবানা হক তৈরি পোশাক শিল্পের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে রাষ্ট্রদূতদের অবহিত করেন এবং তাদের সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রদূতগণ সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের বিষয়ে বিজিএমই’র সভাপতিকে আশ্বস্ত করেন। এ ভার্চুয়াল সভায় যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্স, সুইডেন, বেলজিয়াম, গ্রিস, স্পেন, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, জার্মান, সুইজারল্যান্ড এবং অস্ট্রিয়ায় নিয়োজিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতগণ অংশগ্রহণ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2017 voiceekattor
কারিগরি সহযোগিতায়: সোহাগ রানা
11223