ঢাকা ০৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

৪৯ বছর পর শহীদ লে. কর্ণেল কাদিরের জন্মভিটায় স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৫:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২০ ৪১৫ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক 

স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর লে. কর্নেল মুহম্মদ আব্দুল কাদিরের জন্মভিটায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের চিকলী নদীর তীরে ওই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন করেন রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের এমপি আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক। এ সময় শহীদ আব্দুল কাদিরের পুত্র সাংবাদিক নাদীম কাদির, উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি সুইটসহ মুক্তিযোদ্ধাগণ উপস্থিত ছিলেন।

শহীদ লে. কর্নেল আব্দুল কাদিরের পুত্র সাংবাদিক নাদীম কাদির বলেন, নিখোঁজ হওয়ার ছত্রিশ বছর পর বাবার কবরের সন্ধান পাই। পরিত্যক্ত অবস্থায় কবরটি পড়ে ছিল। এই দীর্ঘ সময় বাবার কবরের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছি। বাবার কবরের স্মৃতি পেয়ে তার জন্মভিটায় স্মৃতিস্তম্ভসহ একটি কমপ্লেক্স নির্মাণ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের মোস্তাপুর গ্রামের আবুল হোসেন মিয়ার সন্তান শহীদ লেফট্যানেন্ট কর্নেল মুহম্মদ আব্দুল কাদির। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তার নামেই নাটোরের কাদিরাবাদ সেনানিবাসের নামকরণ করা হয়। ১৯২৯ সালের ২ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন কর্নেল কাদির। ১৯৪৯ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। তিনি চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ৭০ নম্বর সরকারি বাড়িতে পরিবারসহ বসবাস করতেন।

পাকিস্তানি সেনারা জানতে পেরে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় তাকে। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন কর্নেল কাদির। ৩৬ বছর পর ২০০৭ সালে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশে বাবার কবর খুঁজে পান পুত্র সাংবাদিক নাদীম কাদির। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০১১ সালে দেহাবশেষ তার নামে করা নাটোরের কাদিরাবাদ সেনানিবাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পুনরায় সমাহিত করা হয়। স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর দেশের গর্বিত এই বীর সেনানীর জন্মভিটা বদরগঞ্জে তার নামে স্মৃতি কমপ্লেক্স ও চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন সাংবাদিক নাদীম কাদির।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published.

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

৪৯ বছর পর শহীদ লে. কর্ণেল কাদিরের জন্মভিটায় স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন

আপডেট সময় : ০৪:১৫:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২০

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক 

স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর লে. কর্নেল মুহম্মদ আব্দুল কাদিরের জন্মভিটায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের চিকলী নদীর তীরে ওই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন করেন রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের এমপি আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক। এ সময় শহীদ আব্দুল কাদিরের পুত্র সাংবাদিক নাদীম কাদির, উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি সুইটসহ মুক্তিযোদ্ধাগণ উপস্থিত ছিলেন।

শহীদ লে. কর্নেল আব্দুল কাদিরের পুত্র সাংবাদিক নাদীম কাদির বলেন, নিখোঁজ হওয়ার ছত্রিশ বছর পর বাবার কবরের সন্ধান পাই। পরিত্যক্ত অবস্থায় কবরটি পড়ে ছিল। এই দীর্ঘ সময় বাবার কবরের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছি। বাবার কবরের স্মৃতি পেয়ে তার জন্মভিটায় স্মৃতিস্তম্ভসহ একটি কমপ্লেক্স নির্মাণ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের মোস্তাপুর গ্রামের আবুল হোসেন মিয়ার সন্তান শহীদ লেফট্যানেন্ট কর্নেল মুহম্মদ আব্দুল কাদির। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তার নামেই নাটোরের কাদিরাবাদ সেনানিবাসের নামকরণ করা হয়। ১৯২৯ সালের ২ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন কর্নেল কাদির। ১৯৪৯ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। তিনি চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ৭০ নম্বর সরকারি বাড়িতে পরিবারসহ বসবাস করতেন।

পাকিস্তানি সেনারা জানতে পেরে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় তাকে। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন কর্নেল কাদির। ৩৬ বছর পর ২০০৭ সালে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশে বাবার কবর খুঁজে পান পুত্র সাংবাদিক নাদীম কাদির। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০১১ সালে দেহাবশেষ তার নামে করা নাটোরের কাদিরাবাদ সেনানিবাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পুনরায় সমাহিত করা হয়। স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর দেশের গর্বিত এই বীর সেনানীর জন্মভিটা বদরগঞ্জে তার নামে স্মৃতি কমপ্লেক্স ও চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন সাংবাদিক নাদীম কাদির।