রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০২:০৫ অপরাহ্ন

৩৭০ ধারা বাতিল: ২ বছরে জম্মু-কাশ্মীরের উন্নয়নে ভারত সরকারের নানা পদক্ষেপ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট, ২০২১
  • ৮০

দুই বছর আগে ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে ভারতশাসিত কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা রোহিত করা হয়। এর মধ্য দিয়ে জম্মু-কাশ্মীরে একটি নতুন যুগের সূচনা করেছিল ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার। যদিও করোনা মহামারী পূর্ণ অগ্রগতি ও

উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করেছে। তবে এর মধ্য দিয়ে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ যোগসূত্রের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এরই মধ্যে সেখানে অবকাঠামো থেকে শুরু করে উন্নয়নের প্রতিটি দিকসহ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দিয়েছে ভারত সরকার। যখন পাকিস্তান সীমান্তে সন্ত্রাসবাদের প্রচারের কৌশল

অব্যাহত রেখেছে, তখন সম্পদের ন্যায্য ভাগ এবং পরিকল্পিত উন্নয়ন জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণকে দেওয়ার ক্ষেত্রে সচেষ্ট ভারত।

ভারত সরকারের কৌশল সিদ্ধান্ত ৩৭০ ধারা বাতিল নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু আমরা ভুলে যাই, ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আবদুল্লাহও এই ধারা বাতিলের পক্ষেও সমর্থন করেছিলেন।

১৯৮১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি, শেখ আবদুল্লাহ গভর্নরের ধন্যবাদ ভাষণে বলেছিলেন, “রাজ্যের জন্য নতুন উন্নয়নের দিগন্তে পদার্পণ করা অনিবার্য। সরকার ও বিরোধী দলের সর্বসম্মত প্রচেষ্টায় জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। আজ রাজ্যের বিধানসভায়, গুরুত্বপূর্ণ বিল

৩৭০ ধারা প্রবর্তিত হচ্ছে। আমি অবশ্যই বলব এই ধারাকে শেষ কথা হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। যদি মানুষ চায়, তাহলে জম্মু ও কাশ্মীরের কর্তৃত্ব বিষয়ে ইউনিয়ন সরকারকে আরও কিছু দেওয়া হবে।”

মজার ব্যাপার হল, ২০১৯ সালে নরেন্দ্র মোদির সরকার ৩৭০ ধারা বাতিলের মধ্য দিয়ে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখে দুটি নতুন ইউনিয়ন সরকার গঠনের ঘোষণা দিলে সেই বক্তব্যেরই প্রতিফলন

ঘটে। এতে কেন্দ্রশাসিত জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের সঙ্গে ভারতের বাকি অংশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে। এতে প্রশাসন আরও প্রতিক্রিয়াশীল এবং জনবান্ধব হয়ে উঠেছে। এতে

উন্নয়ন বৃদ্ধি পেয়েছে। রাষ্ট্রীয় তৎপরতায় কমেছে সন্ত্রাসবাদ। যদিও ভারতের অন্যান্য অংশের সঙ্গে যোগাযোগ পুনরুজ্জীবনসহ অনেক চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে, তবে সেখানে কৃষি ও শিল্প এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি করা স্বাধীন তথা বন্দুকের ভয় মুক্ত।

এরই মধ্যে ভারত সরকার জম্মু-কাশ্মীরের উন্নয়নে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে- হাইড্রো পাওয়ার প্রজেক্টস। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে সেখানে ৮৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নিয়েছে ভারত সরকার।

সেই সঙ্গে সেখানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় ডিস্ট্রিক্ট ডেভালপমেন্ট কাউন্সিল (ডিসিসি) নির্বাচনের প্রবর্তন করা হয়েছে। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলো স্বাধীনভাবে রাজনীতি চর্চার

সুযোগ পাচ্ছে। সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনার সুযোগের ক্ষেত্রও সৃষ্টি হয়েছে।

সেখানকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। যোগাযোগ উন্নয়নে নতুন নতুন রাস্তাঘাট নির্মাণসহ ৩.৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে

৫টি টানেল তৈরি করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে যুব সমাজের উন্নয়নের খেলাধুলার প্রতিও বিশেষ নজর দিচ্ছে ভারত সরকার।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2017 voiceekattor
কারিগরি সহযোগিতায়: সোহাগ রানা
11223