মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ১২:২৯ পূর্বাহ্ন

১৫ অগাস্ট জাতীয় শোক দিবস পালনে জাতি প্রস্তুত

ভয়েস রিপোর্ট, ঢাকা
  • প্রকাশ: শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২১
  • ৯০

বনানীতে আওয়ামী লীগের নেতাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি

বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রাহমানের ৪৬তম শাহাদৎ পালনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। রবিবার ভোর থেকে ঢাকা ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ অবনত মস্তকে শ্রদ্ধা অর্পণ করবেন।

জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে দিবসটি পালন করবে। এবারে করোনার কারণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করা হবে।

 

১৯৭৫ এর এদিনে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার দীর্ঘসময় পর ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয় অর্জন করে। মেখ হাসিনা দেশ পরিচালনায় দায়িত্বভার নেওয়ার পরই দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস হিসাবে পালন করা হচ্ছে।

২০০২ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় এসে জাতীয় শোক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছিলো।

১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সাল

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর রাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপদগামী সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। যারা একে একে প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।

জঘন্যতম হত্যাকান্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবি ও সুকান্তবাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল

জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এদিন সৌভাগ্যক্রমে বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।

দেশে করোনা মহামারি বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগস্ট মাসের শুরু থেকেই জাতীয় শোক দিবস নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠন।

স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন। টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দলের শ্রদ্ধা নিবেদন। দিবসটি উপলক্ষে দেশের সকল মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও

প্যাগোডায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। জাতীয় দৈনিক ও সাময়িকীতে ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। বিভিন্ন মন্ত্রক, অধিদপ্তর ও সংস্থা জাতীয় শোক দিবসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্ব স্ব কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে। জেলা ও

উপজেলা পর্যায়ে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে জাতীয় শোক দিবস পালনের জন্য সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার বিষয়টি অনেক বুদ্ধিজীবী মেনে নিতে পারেননি। তারা শোককাতর হন এবং বিভিন্ন মন্তব্য করেন। একজন মানুষকে কতটুকু ভালোবাসলে অবলিলায় এমন মন্তব্য

করা যায়। তারই প্রমাণ মেলে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক নীরদ সি চৌধুরীর বেলায়। তিনি বাঙালিদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, বাঙালি জাতির

স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি বিশ্বের মানুষের কাছে নিজেদের আত্মঘাতী চরিত্রই তুলে ধরেছে।

দ্য টাইমস অব লন্ডন এর ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট সংখ্যায় উল্লেখ করা হয় ‘সবকিছু সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে সব সময় স্মরণ করা হবে। কারণ, তাঁকে ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই।

একই দিন লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের লাখ লাখ লোক শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকান্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করবে।

শেখ মুজিবের সুচিন্তা থেকে আজকের বাঙালিরও শেখার আছে উল্লেখ করে ভারতীয় বাঙালী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন সম্প্রতি বলেছেন, তাঁকে ‘বাংলাদেশের জনক’ বা বঙ্গবন্ধু বলাটা

নিতান্তই কম বলা। তিনি এর চেয়ে বড় কোনও অভিধা এবং নাম কিনতে চাননি। মানুষ তাঁকে অন্তর থেকে ভালবাসতেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2017 voiceekattor
কারিগরি সহযোগিতায়: সোহাগ রানা
11223