বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন

সুন্দরবনে বাড়ছে বাঘের সংখ্যা

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০২১
  • ৬৪ Time View

ছবি : সংগৃহীত

৪ বছরে বাঘের সংখ্যা ১০৬ থেকে বেড়ে হয়েছে ১১৪টি

রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বংশ বিস্তারের সুখবরই বলতে হবে। গেল ৪ বছরে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা ১০৬ থেকে বেড়ে ১১৪টি হয়েছে। সুন্দরবেন সর্বশেষ ক্যামেরা ট্র্যাকিং বাঘ জরিপে ১১৪ বাঘের তথ্য মিলেছে। সুন্দরবনে বনদস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা ও

চোরাশিকারির দৌরাত্ম্য কমে আসায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির সুফল ঘরে তোলা সম্ভব হয়েছে এমনটিই মত সংশ্লিষ্টদের।

বিশেজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবনই হচ্ছে এশিয়ার মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বৃহত্তম আবাসভূমি। বন বিভাগ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসভূমিকে তাদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ করতে পারেনি।

 

সুন্দরবনকে বন্য প্রাণীদের জন্য নিরাপদ করা গেলে বাঘের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। সম্প্রতি সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় বাঘের অবাধ বিচরণ ও প্রতিনিয়ত বাঘের শাবকের দেখা মিলছে বলে জানিয়েছে সুন্দরবনের জেলে-বাওয়ালিরা।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) ড. আবু নাসের মোহসীন হোসেন বলেন, ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন ৬ হাজার ১৭

বর্গকিলোমিটার। সুন্দরবনে বনদস্যুদের আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা ও চোরাশিকারির দৌরাত্ম্য কমে যাওয়ায় রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা সর্বশেষ জরিপে বেড়েছে।

ইতিমধ্যেই বাঘের প্রজনন, বংশ বৃদ্ধিসহ অবাধ চলাচলের জন্য গোটা সুন্দরবনের অর্ধেকেরও বেশি এলাকাকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে টহল ফাঁড়ি। পাশাপাশি চোরাশিকারীদের তৎপরতা বন্ধে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট পেট্রোলিং চালু করা

হয়েছে। বাঘের প্রজনন মৌসুম জুন থেকে আগস্ট সুন্দরবনের সব পাস পারমিট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে করে প্রজনন, বংশ বৃদ্ধিসহ বাঘের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা যাবে।

বন বিভাগের তথ্য মতে, ১৯৭৫ সালের জরিপে সুন্দরবনে বাঘ ছিল ৩৫০টি, ১৯৮২ সালের জরিপে ৪২৫টি এবং দুই বছর পর ১৯৮৪ সালে সুন্দরবন দক্ষিণ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের ১১০ বর্গ

কিলোমিটার এলাকায় জরিপ চালিয়ে ৪৩০ থেকে ৪৫০টি বাঘ থাকার কথা জানানো হয়। ১৯৯২ সালে ৩৫৯টি বাঘ থাকার তথ্য জানায় বন বিভাগ।

১৯৯৩ সালে সুন্দরবনের ৩৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় প্যাগমার্ক পদ্ধতিতে জরিপ চালিয়ে ধন বাহাদুর তামাং ৩৬২টি বাঘ রয়েছে বলে জানান। ২০০৪ সালে জরিপে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৪০টি। ১৯৯৬-৯৭ সালের জরিপে বাঘের সংখ্যা উল্লেখ করা হয় ৩৫০টি থেকে ৪০০টি। ঐ সময়ে বাঘের

পায়ের ছাপ পদ্ধতিতে গণনা করা হয়। ২০১৫ সালের জরিপে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা আশংকাজনক হারে কমে দাড়ায় ১০৬টিতে।

হঠাৎ করে সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা ৪০০টি থেকে ১০৬টিতে এসে দাঁড়ালে সারা বিশ্বে হইচই পড়ে যায়। সর্বশেষ বাঘ জরিপে সুন্দরবনে ১০৬ থেকে বেড়ে বর্তমানে বাঘের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে

১১৪টিতে। বর্তমানে সুন্দরবনের বাঘের আনাগোনা যেভাবে দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হয় বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সুন্দরবন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৫০টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে স্বাভাবিকভাবে মারা গেছে মাত্র ১০টি। ১৪টি বাঘ পিটিয়ে মেরেছে স্থানীয় জনতা, একটি মারা গিয়েছে ২০০৭ সালের সুপার সাইক্লোন সিডরে এবং বাকি ২৫ বাঘ মেরেছে চোরাশিকারিরা।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সুন্দরবনে চোরাশিকারি অবাধ বিচরণ ও বাঘের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে হুমকির মুখে রয়েছে রয়েলে বেঙ্গল টাইগার। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী

জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। এ অবস্থায় হারিয়ে যেতে পারে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার।

২০৭০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে বাঘের জন্য কোনো উপযুক্ত জায়গা থাকবে না। কেননা, বিশ্বের তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধিসহ নানামুখী চাপে প্রকৃতি বিপন্ন হতে থাকায় সুন্দরবনে এখনো টিকে থাকা কয়েক শত বাঘ বিলীন হওয়ার জন্য যথেষ্ট।

সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. আবু সালেহ বলেন, বর্তমান সরকার বাঘের সংখ্যা বাড়াতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সুন্দরবন দস্যুমুক্ত করা হয়েছে।

যার সুফল কিন্তু দেখা যাচ্ছে। বিগত তিন বছরে বাঘের সংখ্যা অনেকটা বেড়েছে। বন বিভাগ বাঘ সুরক্ষায় যেভাবে কাজ করছে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মনে করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2017 voiceekattor
কারিগরি সহযোগিতায়: সোহাগ রানা
11223