ঢাকা ০৫:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
১০ ডিসেম্বর রেকর্ড হবে সিইসির ভাষণ, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা জোরালো ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বিস্তৃত সংস্কার : কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে সীমিত আকারে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ডিএফপিতে রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত অন্তর্ভূক্তিমূলক সুরক্ষার অভাবে বাড়ছে শিশুদের অনলাইন যৌন শোষণ এই সপ্তাহেই নির্বাচনি তফসিল, ভোটের সময় বাড়ছে এক ঘণ্টা শিশুশ্রম নিষিদ্ধে আইন নীতিমালা সংশোধনের দাবি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় নির্বাচনের আগে-পরে এক মাস সেনা মোতায়েনের দাবি জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে ঢাকায় মৈত্রী দিবসের ৫৪তম বার্ষিকী উদযাপন ভারত বাদ, বাংলাদেশ-চীনসহ কয়েকটি দেশ নিয়ে আলাদা জোট করতে চায় পাকিস্তান

সাগরিকা জামালীর ‘ফুটলনা ফুলের মুকুল’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মার্চ ২০২৩ ২৫৯ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা 

গাছটির পাতা আজ আর একটুও নড়ছেনা , নির্বাক !!
একটু আগে বুলেটের শব্দে কেঁপে উঠেছিল গাছের পাতা —
ভাবছিল কি অপরাধ ছিল চৌদ্দ বৎসরের কিশোরটির ???
রোজ গাছের তলায় বসে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখত বলে ??
জয় বাংলা বলে নারকেলের পাতা দিয়ে চশমা বানিয়ে –
মুজিব মুজিব সেজেছিল বলে ?
না কি গাছের তলায় মাটি, ঘাস আর গাছের
ফুলপাতা দিয়ে স্বপ্নের স্বাধীন দেশের ছবি সাজিয়েছিল বলে ?

টগর ফুলের গাছটিও আজ অঝোরে কাঁদছিল।
গতকালও ছেলেটি তার ঝরে পড়া সাদা টগর ফুল দিয়ে –
শান্তির কবুতর বানিয়ে আকাশে উড়িয়েছিল খেলার ছলে ।
ফুল গুলো নিজের ঝরে পড়াকে স্বার্থক বলে মনে করছিল !!

গাছে বসে থাকা কোকিলটি স্তব্ধ হয়ে গেছে আজ !
শুধু একটা গুলির শব্দ আর ছেলেটির বুকের
তাজা রক্ত দেখে ও সুর ভুলে গিয়েছে !–ভেবেছিল গতকালও,ছেলেটি সারাক্ষণ যে গানটি গাইত, সে ও তার সাথে গাইবে –“আমার মুক্তি আলোয় আলোয় , এই আকাশে –”
স্বাধীন দেশের স্বাধীন আকাশে ওড়ার গান ।।

ছেলেটি পতাকা বানিয়ে , খেলনা মন্চ সাজিয়ে
মুজিব সেজে যখন কিশোর গলার ভাঙা স্বর
যতটা ভারী করা সম্ভব, সে রকম করে বলছিল–
“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম ,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম “-

ওর খেলনা চশমা পড়ে অভিনয় দেখে তারা
অবাক হয়ে ওকে দেখছিল , ওর আনন্দে
আনন্দিত হচ্ছিল !—-হঠাৎ শেষ বিকেলের নিস্তব্ধতার বুকে
বুটের মচ মচ শব্দে আতঙ্কিত হয়ে উঠল চারিদিক !!
কিছু মুহূর্ত–একটি পাকিস্তানী সৈনিক ক্রুর হাসি হেসে
তার রাইফেলটি ছেলেটির দিকে তুলে ধরেই বলে ওঠে-
শালা ! স্বধীনতার কথা বলছে -তারপর গুলি করল…
লুটিয়ে পড়ল ছেলেটি গাছের তলায়, ওর হাতে
ধরা ছিল কলাপাতা দিয়ে তৈরী সবুজ রং -এর পতাকা ,
বুকের ছিটকে পড়া তাজা রক্তে কলাপাতার
বুক রঙীন হয়ে গেল —
শেষ মুহূর্তে ওর নরম ঠোঁট
বিড় বিড় করে স্বধীনতার কথাই বলছিল —
তারপর সে চলে গেল চির যাত্রার অজানা পথে —
অবুঝ কিশোর জানলোওনা, সে কী দিয়ে গেল আজ

তাঁর সাধের স্বপ্নের ভূখন্ডটিকে ! স্বপ্নের বীজ বপন
করল মানুষের মনে –স্বাধীন দেশ , স্বাধীন আকাশ , স্বাধীন চেতনা–কেউ জানলোনা সেই
কিশোরের কথা !!!
শুধু গাছ, টগর ফুল আর কোকিল তাদের ভাষায়
চিৎকার করে বলে উঠল— আমরা তোমাকে ভুলবনা , কোনদিন ভুলবনা —-
তোমার স্বপ্নের দেশে পাতা হব, ফুল ফোটাব আর গান গাইব !!!!!

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সাগরিকা জামালীর ‘ফুটলনা ফুলের মুকুল’

আপডেট সময় : ০৯:৩৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মার্চ ২০২৩

বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা 

গাছটির পাতা আজ আর একটুও নড়ছেনা , নির্বাক !!
একটু আগে বুলেটের শব্দে কেঁপে উঠেছিল গাছের পাতা —
ভাবছিল কি অপরাধ ছিল চৌদ্দ বৎসরের কিশোরটির ???
রোজ গাছের তলায় বসে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখত বলে ??
জয় বাংলা বলে নারকেলের পাতা দিয়ে চশমা বানিয়ে –
মুজিব মুজিব সেজেছিল বলে ?
না কি গাছের তলায় মাটি, ঘাস আর গাছের
ফুলপাতা দিয়ে স্বপ্নের স্বাধীন দেশের ছবি সাজিয়েছিল বলে ?

টগর ফুলের গাছটিও আজ অঝোরে কাঁদছিল।
গতকালও ছেলেটি তার ঝরে পড়া সাদা টগর ফুল দিয়ে –
শান্তির কবুতর বানিয়ে আকাশে উড়িয়েছিল খেলার ছলে ।
ফুল গুলো নিজের ঝরে পড়াকে স্বার্থক বলে মনে করছিল !!

গাছে বসে থাকা কোকিলটি স্তব্ধ হয়ে গেছে আজ !
শুধু একটা গুলির শব্দ আর ছেলেটির বুকের
তাজা রক্ত দেখে ও সুর ভুলে গিয়েছে !–ভেবেছিল গতকালও,ছেলেটি সারাক্ষণ যে গানটি গাইত, সে ও তার সাথে গাইবে –“আমার মুক্তি আলোয় আলোয় , এই আকাশে –”
স্বাধীন দেশের স্বাধীন আকাশে ওড়ার গান ।।

ছেলেটি পতাকা বানিয়ে , খেলনা মন্চ সাজিয়ে
মুজিব সেজে যখন কিশোর গলার ভাঙা স্বর
যতটা ভারী করা সম্ভব, সে রকম করে বলছিল–
“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম ,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম “-

ওর খেলনা চশমা পড়ে অভিনয় দেখে তারা
অবাক হয়ে ওকে দেখছিল , ওর আনন্দে
আনন্দিত হচ্ছিল !—-হঠাৎ শেষ বিকেলের নিস্তব্ধতার বুকে
বুটের মচ মচ শব্দে আতঙ্কিত হয়ে উঠল চারিদিক !!
কিছু মুহূর্ত–একটি পাকিস্তানী সৈনিক ক্রুর হাসি হেসে
তার রাইফেলটি ছেলেটির দিকে তুলে ধরেই বলে ওঠে-
শালা ! স্বধীনতার কথা বলছে -তারপর গুলি করল…
লুটিয়ে পড়ল ছেলেটি গাছের তলায়, ওর হাতে
ধরা ছিল কলাপাতা দিয়ে তৈরী সবুজ রং -এর পতাকা ,
বুকের ছিটকে পড়া তাজা রক্তে কলাপাতার
বুক রঙীন হয়ে গেল —
শেষ মুহূর্তে ওর নরম ঠোঁট
বিড় বিড় করে স্বধীনতার কথাই বলছিল —
তারপর সে চলে গেল চির যাত্রার অজানা পথে —
অবুঝ কিশোর জানলোওনা, সে কী দিয়ে গেল আজ

তাঁর সাধের স্বপ্নের ভূখন্ডটিকে ! স্বপ্নের বীজ বপন
করল মানুষের মনে –স্বাধীন দেশ , স্বাধীন আকাশ , স্বাধীন চেতনা–কেউ জানলোনা সেই
কিশোরের কথা !!!
শুধু গাছ, টগর ফুল আর কোকিল তাদের ভাষায়
চিৎকার করে বলে উঠল— আমরা তোমাকে ভুলবনা , কোনদিন ভুলবনা —-
তোমার স্বপ্নের দেশে পাতা হব, ফুল ফোটাব আর গান গাইব !!!!!