ঢাকা ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা ছড়িয়ে গাদাগাদি করে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ: সর্বাত্মক লকডাউনে ৮টি পার্শ্বেল ট্রেন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১ ১৪২ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

লকডাউন আগে কাতারে কাতারে মানুষ ঢাকা ছাড়ছে। এতে করে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশিষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেছেন, এর আগে সপ্তাহের ঘোষিত লকডাউন কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।

রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন

বুধবার থেকে ফের একসপ্তাহের সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হচ্ছে। এঅবস্থায় গাদাগাদি করে যে হারে মানুষ যাতায়ত করছে, তাতে করোনা সংক্রণের যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। সরকার বলছে, এবারে কঠোর লকডাউল চলবে। অফিস-আদালত সব বন্ধ থাকার পাশাপাশি ঘরের বাইরে মানুষের চলাচলও বন্ধ।

এ অবস্থায় গ্রামে চলে যাওয়া ছাড়া গতি নেই খেটে খাওয়া মানুষদের। ক্ষুদ্রব্যবসায়ী ও দীনমজুরেরা পড়েছে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে। তাই বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছেন তারা।

সাংবাদিক বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রী

গত বছরের ন্যায় এবারে লকডাউননে ৮টি পার্শ্বেল ট্রেন চালাচল করবে। ১৪ এপ্রিল থেকে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের ছয়টি রুটে ৮টি পার্শ্বেল ট্রেনে ২৫% রেয়াতি মূল্যে কৃষিজাত পণ্য পরিবহন করা হবে। পার্শ্বেল মালামাল পরিবহনের সুবিধার্থে ট্রেন চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলমন্ত্রক।

বাংলাদেশের রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন মঙ্গলবার রেলভবনে সাংবাদিক বৈঠকে এসে জানালেন রেলপথ মন্ত্রক গেল বছরেও করোনাকালীন সময়ে পার্শ্বেল ট্রেন চালু  রেখেছিলো। এবারেও তার ব্যত্যয় ঘটবে না। বরং সেবার মান বাড়াতে যা যা প্রয়োজন তার সবটাই করবে রেলমন্ত্রক।

রাত পোহালেই লকডাউন : ঢাকা ছাড়ছেন  বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ , গাদাগাদি করে ফেরিতে পদ্মা পারের দৃশ্য

করোনার উর্ধমুখি সংক্রমণ রুখতে বুধবার থেকে সাত দিনের সার্বত্মক লকডাউনের পথে হাটবে বাংলাদেশ। এসময় সরকারী-বেসরকারী সকল অফিস বন্ধ থাকবে। চাকা ঘুরবেনা গণপরিবনের। বন্ধ থাকবে ট্রেন এবং আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট।

এর আগের ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ঘোষিত এক সপ্তাহের লকডাউন কার্যত সফল হয়নি। এবারে সর্বাত্মক লকডাউনে অভ্যন্তরীণ জরুরি সেবা ছাড়া সরকারি-অফিস আদালতসহ সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এমন কি মানুষের চলাচলও বন্ধ থাকবে। জরুরী কাজে চলাচলের জন্য পুলিশ পাস লাগবে। রেলমন্ত্রী বলেন, আমের মৌসুমে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন, ক্যাটল ট্রেনসহ পার্শ্বেল ট্রেন পরিচালনার পাশাপাশি  তেল, সারসহ অন্যান্য মালামাল পরিবহন করছে রেল।

বুধবার থেকে লকডাউন যে করেই হোক বাড়ি ফেরা চাই

গত বছর করোনা প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়লে পণ্যপরিহন বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধুরাষ্ট্র ভারত থেকে নিত্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করা হয়ে থাকে।  করোনার কারণে শ’ শ’ পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে বিভিন্ন সীমান্তে। এ অবস্থায়  বাংলাদেশ ও ভারত সরকার আলোচনা করে রেলযোগে পণ্যপরিবহন সেবা চালু করে। তাতে গত জুন মাসেই ১০৩টি পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করেছে।

ফেরিঘাট মুখো পণ্যবাহী ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের লম্বা লাইন

এঅবস্থায় উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের আগ্রহ থাকায় পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি পার্শ্বেল ট্রেনও চালু করেছে বাংলাদেশ-ভারত সরকার। তাতেও বেশ সাড়া মিলছে। এবারের লকডাউনে গত বছরের তুলনায় পণ্যপরিবহনে ট্রেনের সংখ্যা বাড়বে। প্রতিমাসে ১৫০টি পণ্যবাহী ট্রেন বাংলাদেশে চলাচল করবে এমন অভাসই দিয়েছেন  রেলভবনের একজন আধিকারীক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published.

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা ছড়িয়ে গাদাগাদি করে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ: সর্বাত্মক লকডাউনে ৮টি পার্শ্বেল ট্রেন

আপডেট সময় : ০৭:৫৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

লকডাউন আগে কাতারে কাতারে মানুষ ঢাকা ছাড়ছে। এতে করে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশিষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেছেন, এর আগে সপ্তাহের ঘোষিত লকডাউন কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।

রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন

বুধবার থেকে ফের একসপ্তাহের সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হচ্ছে। এঅবস্থায় গাদাগাদি করে যে হারে মানুষ যাতায়ত করছে, তাতে করোনা সংক্রণের যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। সরকার বলছে, এবারে কঠোর লকডাউল চলবে। অফিস-আদালত সব বন্ধ থাকার পাশাপাশি ঘরের বাইরে মানুষের চলাচলও বন্ধ।

এ অবস্থায় গ্রামে চলে যাওয়া ছাড়া গতি নেই খেটে খাওয়া মানুষদের। ক্ষুদ্রব্যবসায়ী ও দীনমজুরেরা পড়েছে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে। তাই বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছেন তারা।

সাংবাদিক বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রী

গত বছরের ন্যায় এবারে লকডাউননে ৮টি পার্শ্বেল ট্রেন চালাচল করবে। ১৪ এপ্রিল থেকে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের ছয়টি রুটে ৮টি পার্শ্বেল ট্রেনে ২৫% রেয়াতি মূল্যে কৃষিজাত পণ্য পরিবহন করা হবে। পার্শ্বেল মালামাল পরিবহনের সুবিধার্থে ট্রেন চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলমন্ত্রক।

বাংলাদেশের রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন মঙ্গলবার রেলভবনে সাংবাদিক বৈঠকে এসে জানালেন রেলপথ মন্ত্রক গেল বছরেও করোনাকালীন সময়ে পার্শ্বেল ট্রেন চালু  রেখেছিলো। এবারেও তার ব্যত্যয় ঘটবে না। বরং সেবার মান বাড়াতে যা যা প্রয়োজন তার সবটাই করবে রেলমন্ত্রক।

রাত পোহালেই লকডাউন : ঢাকা ছাড়ছেন  বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ , গাদাগাদি করে ফেরিতে পদ্মা পারের দৃশ্য

করোনার উর্ধমুখি সংক্রমণ রুখতে বুধবার থেকে সাত দিনের সার্বত্মক লকডাউনের পথে হাটবে বাংলাদেশ। এসময় সরকারী-বেসরকারী সকল অফিস বন্ধ থাকবে। চাকা ঘুরবেনা গণপরিবনের। বন্ধ থাকবে ট্রেন এবং আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট।

এর আগের ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ঘোষিত এক সপ্তাহের লকডাউন কার্যত সফল হয়নি। এবারে সর্বাত্মক লকডাউনে অভ্যন্তরীণ জরুরি সেবা ছাড়া সরকারি-অফিস আদালতসহ সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এমন কি মানুষের চলাচলও বন্ধ থাকবে। জরুরী কাজে চলাচলের জন্য পুলিশ পাস লাগবে। রেলমন্ত্রী বলেন, আমের মৌসুমে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন, ক্যাটল ট্রেনসহ পার্শ্বেল ট্রেন পরিচালনার পাশাপাশি  তেল, সারসহ অন্যান্য মালামাল পরিবহন করছে রেল।

বুধবার থেকে লকডাউন যে করেই হোক বাড়ি ফেরা চাই

গত বছর করোনা প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়লে পণ্যপরিহন বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধুরাষ্ট্র ভারত থেকে নিত্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করা হয়ে থাকে।  করোনার কারণে শ’ শ’ পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে বিভিন্ন সীমান্তে। এ অবস্থায়  বাংলাদেশ ও ভারত সরকার আলোচনা করে রেলযোগে পণ্যপরিবহন সেবা চালু করে। তাতে গত জুন মাসেই ১০৩টি পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করেছে।

ফেরিঘাট মুখো পণ্যবাহী ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের লম্বা লাইন

এঅবস্থায় উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের আগ্রহ থাকায় পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি পার্শ্বেল ট্রেনও চালু করেছে বাংলাদেশ-ভারত সরকার। তাতেও বেশ সাড়া মিলছে। এবারের লকডাউনে গত বছরের তুলনায় পণ্যপরিবহনে ট্রেনের সংখ্যা বাড়বে। প্রতিমাসে ১৫০টি পণ্যবাহী ট্রেন বাংলাদেশে চলাচল করবে এমন অভাসই দিয়েছেন  রেলভবনের একজন আধিকারীক।