ঢাকা ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চলে বিজিবির মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী সমন্বিত উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের নতুন গতি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিখিয়ে শিশু-কিশোরদের তৈরি  করতে হবে: ববি হাজ্জাজ পাসপোর্ট-ভিসা জালিয়াতি প্রকৃত মালিকের আগেই ইতালি গেলেন অন্য নারী ক্ষমতার আড়ালে লীলাখেলা বিশ্ব রাজনীতি কাঁপানো যত নারী কেলেঙ্কারি অনুপ্রবেশ কালে মিয়ানমারের সেনাসদস্যসহ আটক ৩ কর্মদক্ষতায় সন্তুষ্ট না হলে মন্ত্রিসভায় রদবদলের ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রী এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটি তিতাস এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট, বিপাকে শিল্প-কারখানা ও নগরজীবন বন্যায় প্রাণিসম্পদ খাতে শতকোটি টাকার ক্ষতি, আক্রান্ত ৩০ লাখের বেশি হাঁস-মুরগি ও প্রায় ৪ লাখ গবাদিপশু সরকারের পাঁচ মাসের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিবর্তনের নতুন অধ্যায়

সফল দেশের স্বীকৃতি ফল উৎপাদনে নতুন উচ্চতায় বাংলাদেশ, বিশ্বে গড়ছে দৃষ্টান্ত

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:২২:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ ১৯০ বার পড়া হয়েছে

ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে  শীর্ষে

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্যমতে, ফল উৎপাদন বৃদ্ধির হার ও হেক্টরপ্রতি ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে  শীর্ষে রয়েছে। গত এক দশকে দেশে ফলের উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে মৌসুমি ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে অন্যতম।  একসময় বছরে যেখানে দেশে প্রায় এক কোটি টন ফল উৎপাদিত হতো, সেখানে এখন উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে দেড় কোটিরও বেশি টনে। ফল উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি, হেক্টরপ্রতি উৎপাদন এবং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফল চাষে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম সফল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, ফল উৎপাদন বৃদ্ধির হার এবং হেক্টরপ্রতি ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বের শীর্ষ ১০টি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফল উৎপাদনকারী দেশের তালিকায়ও জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ।

বর্তমানে বার্ষিক কাঁঠাল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয়, আম উৎপাদনে সপ্তম এবং পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম অবস্থানে রয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্যিক চাষের সম্প্রসারণ, উন্নত জাতের ব্যবহার এবং কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধির ফলে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে  শীর্ষে
ফল মেলা প্ররিদর্শনে কৃষিমন্ত্রী

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ৩৩ হাজার টন ফল উৎপাদন হয়েছে, যা চাষ করা হয়েছে ৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ হেক্টর জমিতে। অথচ ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ফল উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৯৯ লাখ ৭২ হাজার টন এবং ফলের আবাদি জমি ছিল ৬ লাখ ৭৮ হাজার ১৪৫ হেক্টর।

দেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ২৭ লাখ টন আম, ২২ লাখ টন কলা এবং ১৮ লাখ টন কাঁঠাল উৎপাদিত হচ্ছে। এছাড়া প্রায় ১২ লাখ টন তরমুজ, ৬ লাখ টন করে পেঁপে ও পেয়ারা উৎপাদন হয়। আনারস, লিচু, বরই, ড্রাগনসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ফলের উৎপাদনও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

শুধু উৎপাদনেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের ফলের চাহিদা বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নিয়মিত আম, কাঁঠালসহ নানা ধরনের ফল রপ্তানি হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে ফল রপ্তানি আরও সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে  শীর্ষে
ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে  শীর্ষে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সাফল্য ধরে রাখতে নিরাপদ ও মানসম্মত ফল উৎপাদন নিশ্চিত করতে ‘উত্তম কৃষি চর্চা’ (GAP) নীতিমালার পূর্ণ বাস্তবায়ন জরুরি। একই সঙ্গে আধুনিক জাত উদ্ভাবন, পর্যাপ্ত কোল্ড চেইন ও হিমাগার নির্মাণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের সম্প্রসারণ এবং রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। পাশাপাশি কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং ফলের অপচয় কমাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করছেন তারা।

কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, মানুষের খাদ্যাভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ক্রয়ক্ষমতা বাড়ার কারণে ফলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে অনেক কৃষক ধানের পরিবর্তে লাভজনক ফল চাষে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষিত উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন নতুন ফলের বাগান গড়ে উঠছে।

কৃষি গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এক দশক আগে দেশে ৫৬ ধরনের ফল উৎপাদিত হলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ৭৮টিতে পৌঁছেছে। দেশীয় ফলের পাশাপাশি ড্রাগন, মাল্টা, স্ট্রবেরিসহ প্রায় ১২ ধরনের বিদেশি ফলও এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, নিরাপদ উৎপাদন, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিকাশ এবং রপ্তানি সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা গেলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ফল উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সফল দেশের স্বীকৃতি ফল উৎপাদনে নতুন উচ্চতায় বাংলাদেশ, বিশ্বে গড়ছে দৃষ্টান্ত

আপডেট সময় : ১০:২২:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্যমতে, ফল উৎপাদন বৃদ্ধির হার ও হেক্টরপ্রতি ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে  শীর্ষে রয়েছে। গত এক দশকে দেশে ফলের উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে মৌসুমি ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে অন্যতম।  একসময় বছরে যেখানে দেশে প্রায় এক কোটি টন ফল উৎপাদিত হতো, সেখানে এখন উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে দেড় কোটিরও বেশি টনে। ফল উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি, হেক্টরপ্রতি উৎপাদন এবং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফল চাষে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম সফল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, ফল উৎপাদন বৃদ্ধির হার এবং হেক্টরপ্রতি ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বের শীর্ষ ১০টি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফল উৎপাদনকারী দেশের তালিকায়ও জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ।

বর্তমানে বার্ষিক কাঁঠাল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয়, আম উৎপাদনে সপ্তম এবং পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম অবস্থানে রয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্যিক চাষের সম্প্রসারণ, উন্নত জাতের ব্যবহার এবং কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধির ফলে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে  শীর্ষে
ফল মেলা প্ররিদর্শনে কৃষিমন্ত্রী

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ৩৩ হাজার টন ফল উৎপাদন হয়েছে, যা চাষ করা হয়েছে ৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ হেক্টর জমিতে। অথচ ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ফল উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৯৯ লাখ ৭২ হাজার টন এবং ফলের আবাদি জমি ছিল ৬ লাখ ৭৮ হাজার ১৪৫ হেক্টর।

দেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ২৭ লাখ টন আম, ২২ লাখ টন কলা এবং ১৮ লাখ টন কাঁঠাল উৎপাদিত হচ্ছে। এছাড়া প্রায় ১২ লাখ টন তরমুজ, ৬ লাখ টন করে পেঁপে ও পেয়ারা উৎপাদন হয়। আনারস, লিচু, বরই, ড্রাগনসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ফলের উৎপাদনও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

শুধু উৎপাদনেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের ফলের চাহিদা বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নিয়মিত আম, কাঁঠালসহ নানা ধরনের ফল রপ্তানি হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে ফল রপ্তানি আরও সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে  শীর্ষে
ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে  শীর্ষে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সাফল্য ধরে রাখতে নিরাপদ ও মানসম্মত ফল উৎপাদন নিশ্চিত করতে ‘উত্তম কৃষি চর্চা’ (GAP) নীতিমালার পূর্ণ বাস্তবায়ন জরুরি। একই সঙ্গে আধুনিক জাত উদ্ভাবন, পর্যাপ্ত কোল্ড চেইন ও হিমাগার নির্মাণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের সম্প্রসারণ এবং রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। পাশাপাশি কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং ফলের অপচয় কমাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করছেন তারা।

কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, মানুষের খাদ্যাভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ক্রয়ক্ষমতা বাড়ার কারণে ফলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে অনেক কৃষক ধানের পরিবর্তে লাভজনক ফল চাষে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষিত উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন নতুন ফলের বাগান গড়ে উঠছে।

কৃষি গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এক দশক আগে দেশে ৫৬ ধরনের ফল উৎপাদিত হলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ৭৮টিতে পৌঁছেছে। দেশীয় ফলের পাশাপাশি ড্রাগন, মাল্টা, স্ট্রবেরিসহ প্রায় ১২ ধরনের বিদেশি ফলও এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, নিরাপদ উৎপাদন, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিকাশ এবং রপ্তানি সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা গেলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ফল উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।