মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন

সংকটে সুস্থভাবনার প্রতিফলন ডিএনসিসি করোনা হাসপাতাল

ভয়েস রিপোর্ট, ঢাকা
  • প্রকাশ: সোমবার, ২ আগস্ট, ২০২১
  • ৯২

ছবি সংগৃহিত

“৫০০ বেডে করোনা ডেটিকেটেড হাসপাতালটিতে যুক্ত হতে যাচ্ছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন, আওতা বাড়বে মুমুর্যু রোগীর চিকিৎসাসেবা”

যেকোন সংকটকেই উৎরানো সম্ভব সুস্থ চিন্তার পথ বেয়ে। নানা মততো থাকছেই। সমালোচনারও কমতি থাকে না ভালো কাজের গতি থামাতে। কিন্তু আগামীর কল্যাণে বাধা উৎরে গিয়ে কাজটি সম্পন্ন হলেই পরবর্তীতে বাহবা মেলে।

১৮ এপ্রিল হাসপাতাল উদ্বোধনের পর পরির্দশন  করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক

এমনি কাজটিই করা হয়েছিলো ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মহাখালির এই মার্কেট ঘিরে। গড়া হয়েছিলো খোলা মেলা আধুনিক একটি কাঁচা বাজার। গাড়ি পার্কিংয়ের বিশাল চত্বর।

চারিদিকে অঢেল খোলা জায়গা। এখানে গাড়ি রেখে এক বাজারেই মিলবে গৃহস্থালির নিত্যচাহিদা মাফিক পণ্য।

কিন্তু সময় সেই জায়গা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করেছে। যার পেছনে রয়েছে বৃহত্তর মানবকল্যাণের গল্প। নিদানকালে সংকট যখন উঁচু দেওয়াল হয়ে সামনে দাঁড়ায়, তখন সুষ্ঠু চিন্তা

দিয়ে তাকে ভেঙ্গে ফেলে বেড়িয়ে আসাটাই সফলতার ঝান্ডা উড়ায়। অবশেষে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাতারাতি একটি মার্কেট পরিণত হলো কভিড ডেডিগেটেড হাসপিতালে।

স্বস্তির নিঃশ্বাস নিল প্রশাসন। ভরসা শক্তিযোগালো সাধারণ মানুষকে। শুরু হলো হাসপাতাল। এখন সেখানে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা সেবা পেয়ে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরছেন। যাবার সময় একবার তাকিয়ে দেখে নিছেন হাসপাতালটিকে। এই সফলতা অবশ্য সুস্থ চিন্তারই ফসল।

৫০০ বিছানার এই হাসপাতালে সিলিন্ডার অক্সিজেন সরবরাহ করে অপেক্ষাকৃত কম সংকটাপন্ন করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে। সেক্ষেত্রে হাসপাতালের বিছানার সঙ্গে অক্সিজেন সংযোগ (সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন) যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জানা গিয়েছে, এই কভিড হাসপাতালটিতে দিন দিন নিবিড় পরিচ্চর্যা ইউনিট (আইসিইউ) চাহিদা বাড়ছে। এখানে আইসিইউর বেড খালি নেই। একারণে অনেক মুমুর্যু রোগী ফিরে যাচ্ছেন। যদিও

সিলিন্ডারযুক্ত ৫০০ বেডের অধিকাংশই খালি। মুমুর্যু কভিড আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিক সেবার আওতায় আনতেই সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্র্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে

কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। ৪ আগস্টের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হবে। তখন রোগীদের আর ফিরে যেতে হবে না।

১৮ এপ্রিল স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক হাসপাতালের উদ্বোধন করেন। এখানে কভিড রোগীর জন্য ১ হাজার শয্যা রয়েছে। যার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) শয্যার সংখ্যা ২১২টি,

এইচডিইউ (উচ্চ নির্ভরতা বা হাই ডিপেন্ডেসি ইউনিট) শয্যা সংখ্যা ২৫০টি, আইসোলেটেড কক্ষ (একক) রয়েছে ৪৩৮টি এবং জরুরি বিভাগে শয্যা রয়েছে ৫০টি (৩০টি পুরুষ ও ২০টি নারী)।

পাশাপাশি আরটি-পিসিআর ল্যাব, প্যাথলজি ল্যাব, রেডিও থেরাপি সেন্টার, এক্সরে সুবিধাসহ অন্য নানা সুবিধা থাকছে।

অবশ্য হাসপাতালটির জল ও বাথরুমের কিছুটা সমস্যা রয়েছে। এটি মূলত একটি মার্কেট হিসেবে নির্মাণ করার কারণেই এমন সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই সমস্যার দ্রুত কাটিয়ে ওঠার ব্যবস্থায়ও হাত লাগিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2017 voiceekattor
কারিগরি সহযোগিতায়: সোহাগ রানা
11223