ঢাকা ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
১০ ডিসেম্বর রেকর্ড হবে সিইসির ভাষণ, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা জোরালো ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বিস্তৃত সংস্কার : কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে সীমিত আকারে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ডিএফপিতে রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত অন্তর্ভূক্তিমূলক সুরক্ষার অভাবে বাড়ছে শিশুদের অনলাইন যৌন শোষণ এই সপ্তাহেই নির্বাচনি তফসিল, ভোটের সময় বাড়ছে এক ঘণ্টা শিশুশ্রম নিষিদ্ধে আইন নীতিমালা সংশোধনের দাবি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় নির্বাচনের আগে-পরে এক মাস সেনা মোতায়েনের দাবি জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে ঢাকায় মৈত্রী দিবসের ৫৪তম বার্ষিকী উদযাপন ভারত বাদ, বাংলাদেশ-চীনসহ কয়েকটি দেশ নিয়ে আলাদা জোট করতে চায় পাকিস্তান

শ্বেতাঙ্গ হ*ত্যা*র অভিযোগে  জি-২০ সম্মেলন বয়কট  যুক্তরাষ্ট্রের

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:০০:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫ ৯৭ বার পড়া হয়েছে

২০২৫ সালের ২১ মে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসাকে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে তোলা রয়টার্সের একটি ভিডিওর স্ক্রিনশট উপহার দিচ্ছেন, যেখানে মিথ্যাভাবে দাবি করা হয়েছে যে, এটি শ্বেতাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকানদের গণহত্যার প্রমাণ : ছবি এএফপি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের ওপর ‘নিপীড়ন ও গণহত্যা’ চলছে বলে অভিযোগ তুলে দেশটিতে অনুষ্ঠিতব্য জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, এই মাসের শেষে জোহানেসবার্গে আয়োজিত সম্মেলনে কোনো মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা অংশ নেবেন না।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে পোস্ট দিয়ে বলেন, “দক্ষিণ আফ্রিকায় জি-২০ অনুষ্ঠিত হওয়াটা সম্পূর্ণ লজ্জাজনক।” তিনি দাবি করেন, “দেশটিতে আফ্রিকানার সম্প্রদায়ের (যারা ডাচ, ফরাসি ও জার্মান বসতি স্থাপনকারীদের বংশধর) মানুষদের হত্যা, জমি দখল এবং গণহত্যা করা হচ্ছে।”

ট্রাম্পের পোস্টে আরও বলা হয়, “এই মানবাধিকার লঙ্ঘন চলতে থাকলে কোনো মার্কিন কর্মকর্তা দক্ষিণ আফ্রিকার জি-২০ সম্মেলনে অংশ নেবেন না। আমি বরং ২০২৬ সালে মায়ামিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ আয়োজনের অপেক্ষায় আছি।”

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও আর সম্মেলনে যাচ্ছেন না। আগামী ২২–২৩ নভেম্বর জোহানেসবার্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যেখানে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে “দুঃখজনক” বলে অভিহিত করেছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানাররা জাতিগত নিপীড়নের শিকার— এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং কোনো তথ্য দ্বারা সমর্থিত নয়।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আমাদের দেশের অতীতের বর্ণবৈষম্যের অভিজ্ঞতা আজ আমাদের এমন অবস্থানে এনেছে, যা দিয়ে আমরা বিশ্বকে বিভাজন মোকাবিলায় অনুপ্রাণিত করতে পারি। জি-২০ মঞ্চের মাধ্যমে আমরা প্রকৃত সংহতির ভবিষ্যতের পথে কাজ করতে চাই।”

দক্ষিণ আফ্রিকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতির প্রতি ট্রাম্পের অসন্তোষ দীর্ঘদিনের। দেশটির ভূমি সংস্কার নীতি এবং গাজার যুদ্ধে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে দায়ের করা দক্ষিণ আফ্রিকার গণহত্যা মামলাও তার এই অবস্থানের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

এর আগে চলতি বছরও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক বর্জন করেছিলেন। ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত জি-২০–এর সভাপতিত্বে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, আর এর পরবর্তী মেয়াদে সভাপতিত্ব করবে যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ঘোষণা ওয়াশিংটন ও প্রিটোরিয়ার সম্পর্ককে আরও শীতল করে তুলবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের লক্ষ্য করে ট্রাম্পের এই অবস্থান রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শ্বেতাঙ্গ হ*ত্যা*র অভিযোগে  জি-২০ সম্মেলন বয়কট  যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট সময় : ০৮:০০:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের ওপর ‘নিপীড়ন ও গণহত্যা’ চলছে বলে অভিযোগ তুলে দেশটিতে অনুষ্ঠিতব্য জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, এই মাসের শেষে জোহানেসবার্গে আয়োজিত সম্মেলনে কোনো মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা অংশ নেবেন না।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে পোস্ট দিয়ে বলেন, “দক্ষিণ আফ্রিকায় জি-২০ অনুষ্ঠিত হওয়াটা সম্পূর্ণ লজ্জাজনক।” তিনি দাবি করেন, “দেশটিতে আফ্রিকানার সম্প্রদায়ের (যারা ডাচ, ফরাসি ও জার্মান বসতি স্থাপনকারীদের বংশধর) মানুষদের হত্যা, জমি দখল এবং গণহত্যা করা হচ্ছে।”

ট্রাম্পের পোস্টে আরও বলা হয়, “এই মানবাধিকার লঙ্ঘন চলতে থাকলে কোনো মার্কিন কর্মকর্তা দক্ষিণ আফ্রিকার জি-২০ সম্মেলনে অংশ নেবেন না। আমি বরং ২০২৬ সালে মায়ামিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ আয়োজনের অপেক্ষায় আছি।”

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও আর সম্মেলনে যাচ্ছেন না। আগামী ২২–২৩ নভেম্বর জোহানেসবার্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যেখানে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে “দুঃখজনক” বলে অভিহিত করেছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানাররা জাতিগত নিপীড়নের শিকার— এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং কোনো তথ্য দ্বারা সমর্থিত নয়।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আমাদের দেশের অতীতের বর্ণবৈষম্যের অভিজ্ঞতা আজ আমাদের এমন অবস্থানে এনেছে, যা দিয়ে আমরা বিশ্বকে বিভাজন মোকাবিলায় অনুপ্রাণিত করতে পারি। জি-২০ মঞ্চের মাধ্যমে আমরা প্রকৃত সংহতির ভবিষ্যতের পথে কাজ করতে চাই।”

দক্ষিণ আফ্রিকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতির প্রতি ট্রাম্পের অসন্তোষ দীর্ঘদিনের। দেশটির ভূমি সংস্কার নীতি এবং গাজার যুদ্ধে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে দায়ের করা দক্ষিণ আফ্রিকার গণহত্যা মামলাও তার এই অবস্থানের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

এর আগে চলতি বছরও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক বর্জন করেছিলেন। ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত জি-২০–এর সভাপতিত্বে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, আর এর পরবর্তী মেয়াদে সভাপতিত্ব করবে যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ঘোষণা ওয়াশিংটন ও প্রিটোরিয়ার সম্পর্ককে আরও শীতল করে তুলবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের লক্ষ্য করে ট্রাম্পের এই অবস্থান রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।