রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন

শেখ হাসিনার হাত ধরে রেল এখন আধুনিক ও গতিশীল : রেলপথ মন্ত্রী

উদয়ন চৌধুরী, ঢাকা
  • প্রকাশ: রবিবার, ২২ আগস্ট, ২০২১
  • ৯৮

দিন দিন বাংলাদেশ রেলপথ ও সংযোগের সংখ্যা বাড়ছে। নির্মিত হচ্ছে নতুন নতুন রেলস্টেশন। পিছিয়ে পড়া রেলকে গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলপথ মন্ত্রক করে দিয়েছে। অর্থ-সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রেলপথের উন্নয়ন কাজ এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশের

অন্যতম পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারে যুক্ত হচ্ছে রেলপথ। ঢাকা থেকে পর্যটকরা ট্রেনে চড়ে সরাসরি কক্সবাজরে পৌছে যাবে।

অন্যদিকে কানেক্টিভিটি ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ রেলপথ মন্ত্রক। এরই মধ্যে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পাঁচটি রেলসংযোগ চালু রয়েছে। সর্বশেষ রেলসংযোগ যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের উত্তর জনপদ চিলাহাটি এবং ভারতের হলদিবাড়ির মধ্যে। তাছাড়াও আখাউড়া-আগরতলা

রেলপথের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আশা করা যাচ্ছে চলতি বছর না হলেও ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই রেলপথটি উন্মুক্ত হবে।

রেলপথ মন্ত্রী বলেন, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে সারাদেশে ৫২টি স্টেশন সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এসব স্টেশনগুলোতে এ আধুনিক টয়লেটের ডিজাইন ব্যবহার করা হবে। এছাড়াও কমলাপুরের মতো ওয়াটার এইড বাংলাদেশ রেলওয়ের সহায়তায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল

ইসলাম রেলওয়ে স্টেশন, পঞ্চগড় ও ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশনে অনুরূপ আরও দুটি আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করবে।

রেলপথ মন্ত্রকের প্রকল্প সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, অনেক প্রকল্প চলমান রয়েছে। পাশাপাশি হাতে নেওয়া হয়েছে নতুন নতুন অনেক প্রকল্প। পুরনো লাইন ও ব্রীজ সংস্কার করা হচ্ছে। নতুন নতুন

কোচ এবং ইঞ্জিন যুক্ত হচ্ছে রেলবহরে। নতুন ট্রেনগুলোতে বায়ো টয়লেটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে যাতে পরিবেশ নষ্ট না হয়।

বিভিন্ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, আগামী বছর খুলনা থেকে মংলা নতুন রেললাইন চালু হবে । এছাড়া টঙ্গী-জয়দেবপুর পর্যন্ত ডাবল লাইন চালু হতে যাচ্ছে। করোনার প্রাদুর্ভাভ না থাকলে রেলের অনেক প্রকল্প কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হতো।

রেলওয়ের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কনসালটেন্সি ফার্ম গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, রেলওয়ে সেই সক্ষমতায় বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

পাবলিক টয়লেট নির্মাণ কাজের ফোকাল পার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রেলপথ মন্ত্রীর একান্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। তিনি টয়লেটের বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেন।

অভ্যন্তরীণভাবেও রেলওয়ের উন্নয়ন কর্মকান্ড থেমে নেই। একের পর এক মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে রেলওয়েতে এক নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান রেলপথ মন্ত্রী

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গতিশীল রেলপথমন্ত্রকে পরিণত হয়েছে। বেড়েছে যাত্রী পরিষেবা। প্রতিনিয়ত রেলে লাগছে উন্নয়ন ছোঁয়া। যাত্রী সেবার মান বাড়াতে যা যা করনীয় তার সবটাই চলছে

ধারাবাহিকভাবে। এরই অংশ হিসেবে ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন স্থানে ওয়াটার এইড বাংলাদেশ লিমিটেড ও বাংলাদেশ রেলওয়ে যৌথ উদ্যোগে একটি উন্নত মানের সকল সুবিধা সংবলিত আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন রবিবার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে বলেন, আগামীতে রেলকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যেতে চাই। শতভাগ আস্থা এবং নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে

রেলপথের অঙ্গিকার স্মরণ করিয়ে বলেন, রেল এখন আর আগের জায়গায় নেই। এক সময় ধীরে ধীরে রেলপথের সংখ্যা কমে আসছিলো। কিন্তু শেখ হাসিনা দেশপরিচালনার দায়িত্ব নিয়েই

সাধারণ মানুষের কল্যাণে যা যা দরকার তার ওপর বিশেষ জোড় দিয়েছেন। আজ রেল অকে গতিশীল বলে উল্লেখ করে রেলপথ মন্ত্রী। তিনি বলেন, এটি সাধারণ পাবলিক টয়লেট নয়, এখানে

সকল আধুনিক সুবিধা থাকবে। পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য আলাদা প্রবেশদ্বার ও কক্ষ এবং টয়লেটগুলো হবে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী বান্ধব। এখানে শিশুকে দুগ্ধপান কর্ণার ব্যবস্থাস নিরাপদ পানীয় জল এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রযুক্তিসহ সৌরশক্তির ব্যবহারের সুযোগ রাখা হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রেলপথ মন্ত্রকের সচিব মোঃ সেলিম রেজা, অতিরিক্ত সচিব ভুবন চন্দ্র বিশ্বাস, বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন। ওয়াটার এইড

বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2017 voiceekattor
কারিগরি সহযোগিতায়: সোহাগ রানা
11223