ঢাকা ০৮:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রসুনের জাদুকরি গুণ!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৭:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ৭৩ বার পড়া হয়েছে

রসুন অ্যাসিড রিফ্লাক্স এবং রিগারজিটেশনের উপসর্গগুলো উপশম করতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

চমকে ওঠলেন

কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে,

এই শক্তিশালী উপাদানটি বহু শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে

রসুন অ্যাসিড রিফ্লাক্স এবং রিগারজিটেশনের উপসর্গগুলো উপশম করতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

ভয়েস হেলথ ডেস্ক

কোলেস্টেরল থেকে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে, রসুনের শক্তিশালী উপাদানটি বহু শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বেশি কথাও নয়, রসুনের গুণ সবারই কমবেশি জানা।

কিন্তু কোলেস্টেরল-ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বাইরেও রসুনের নানা জাদুকরি গুণ রয়েছে। এর গন্ধ আপনার ভালো নাও লাগতে পারে, কিন্তু এটিতে রয়েছে স্বাস্থ্য ভালো রাখার গুণ।

ডায়াবেটিস রোগীদের মূল সমস্যা হচ্ছে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া বা খুব কমে যাওয়া। রসুন এ সমস্যা সমাধানে কাজ করতে পারে।

গবেষণা বলছে, টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে রসুন। রসুনে ক্যালোরি অনেক কম, কার্বোহাইড্রেট বা শর্করার পরিমাণটাও কম। একারণে ডায়াবেটিক রোগীরা নিশ্চিন্তে রসুন খেতে পারেন।

রসুনের পুষ্টি উপাদান

রসুনে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য। সঙ্গে রয়েছে ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, আয়রন ও কপারের মতো খনিজ।

রসুনে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, আয়রন, কপার, পটাশিয়াম ও ফসফরাস পাওয়া যায়। এসব পুষ্টি উপাদানগুলো শরীরকে ভেতর থেকে পুষ্ট করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়।

নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রসুনকে অন্তর্ভুক্ত করা হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমানোসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সুবিধা দিতে পারে।

যদিও কাঁচা রসুন সবার জন্য সুস্বাদু নাও হতে পারে, রসুন খাওয়ার এবং এর উপকারিতা পেতে বেশ কয়েকটি সুস্বাদু এবং কার্যকর উপায় রয়েছে। কীভাবে আপনার খাদ্য তালিকায় রসুন যোগ করবেন-তা জেনে নেওয়া যাক-

খালি পেটে কাঁচা রসুন

খালি পেটে কাঁচা রসুন খাওয়া কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে এবং হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সাহায্য করে। অ্যালিসিন, কাঁচা রসুনে পাওয়া একটি যৌগ, এটির কোলেস্টেরল-হ্রাসকারী এবং রক্ত পাতলা করার বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত।

আপনাকে সুস্থ রাখতে সকালে এক গ্লাস জলের সঙ্গে কাঁচা রসুনের কয়েকটি কোয়া খেতে পারেন। রান্না করলে অ্যালিসিন পাতলা হয়ে যায়, তাই রসুন খাওয়ার আদর্শ উপায় হলো কাঁচা এবং খালি পেটে খাওয়া।

রসুন চা

রসুন চা একটি চমৎকার বিকল্প যারা এখনও রসুনের উপকারিতা উপভোগ করার সময় হালকা স্বাদ পছন্দ করেন। রসুনের চা প্রস্তুত করতে একটি রসুনের কোয়া থেঁতলে এক কাপ জলে যোগ করুন।

চা কয়েক মিনিট সিদ্ধ করুন এবং তারপর ১/২ চা চামচ দারুচিনি যোগ করুন। আঁচ বন্ধ করার আগে মিশ্রণটি কয়েক মিনিটের জন্য ঠান্ডা হতে দিন। সবশেষে এক চা চামচ মধু এবং আধা চা চামচ লেবুর রস যোগ করুন। সকালে এই রসুন চা আপনার রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে বহুগুণ।

রসুন ও মধু

মধুর সঙ্গে রসুনের সংমিশ্রণ আপনার দৈনন্দিন রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করার আরেকটি কার্যকর উপায়। রসুনের একটি কোয়া তিন থেকে চার টুকরো করে একটি চামচে রাখুন। চামচে কয়েক ফোঁটা মধু যোগ করুন এবং কয়েক মিনিটের জন্য সেটি রেখে দিন।

এরপর রসুন সাবধানে চিবিয়ে গিলে ফেলুন। যদি স্বাদ আপনার পছন্দ না হয়, তাহলে রসুনের সঙ্গে আপনি একটু হালকা গরম জল খেতে পারেন।

১০টি কাটা রসুনের কোয়া ৫ টেবিল চামচ মধুর সঙ্গে একত্রিত করে মিশ্রণ তৈরি করতে পারেন। অ্যাসিড রিফ্লাক্স এবং রিগারজিটেশনের উপসর্গগুলো উপশম করতে প্রতিদিন খালি পেটে এই মিশ্রণটি এক চামচ খেতে পারেন।


রান্নায় রসুন ব্যবহার

প্রতিদিনের তালিকায় রসুনকে অন্তর্ভুক্ত করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নিয়মিত খাবারে যোগ করুন। শাকসবজি, তরকারি, ডাল, স্যুপ এবং ভাজাসহ বিভিন্ন খাবারে রসুন ভালোভাবে মিশে যায়।

রসুনের কোয়াকে সুক্ষ্মভাবে কিমা বা গুঁড়ো করে নিন এবং অন্যান্য উপাদান যোগ করার আগে সেগুলোকে সামান্য তেলে ভাজুন যাতে আপনার খাবার সুগন্ধযুক্ত থাকে।

মনে রাখবেন, রসুন রান্না করা অ্যালিসিনের ক্ষমতা কমাতে পারে, তাই আপনি যদি এর স্বাস্থ্য উপকারিতা নিশ্চিত করতে চান তা হলে পরিবেশনের আগে রান্না করা খাবারে কাঁচা রসুনের কিমা যোগ করুন।

রসুন তেল

রসুন তেল রান্নায়, সালাদ ড্রেসিংয়ে বা ভাজা শাকসবজি বা রুটির ওপর একটি স্বাদযুক্ত গুঁড়ি হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

রসুনের তেল তৈরি করতে রসুনের খোসা ছাড়িয়ে কয়েকটি কোয়া গুঁড়ো করে নিন, তারপর একটি সসপ্যানে এক কাপ উচ্চ মানের রান্নার তেল, যেমন অলিভ অয়েল বা অ্যাভোকাডো তেল দিয়ে একত্রিত করুন।

প্রায় মিনিট দশেক কম আঁচে মিশ্রণটি গরম করুন, নিশ্চিত করুন যে রসুন পুড়ে না যায়। তাপ থেকে সরান এবং এটি ঠান্ডা হতে দিন।

রসুনের টুকরোগুলো সরাতে তেলটি ছেঁকে নিন এবং এটি বাতাস না ঢোকে এমন পরিষ্কার বোতলে রাখুন। রসুনের তেল ফ্রিজে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে পাবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published.

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রসুনের জাদুকরি গুণ!

আপডেট সময় : ০৫:৪৭:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩

 

চমকে ওঠলেন

কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে,

এই শক্তিশালী উপাদানটি বহু শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে

রসুন অ্যাসিড রিফ্লাক্স এবং রিগারজিটেশনের উপসর্গগুলো উপশম করতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

ভয়েস হেলথ ডেস্ক

কোলেস্টেরল থেকে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে, রসুনের শক্তিশালী উপাদানটি বহু শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বেশি কথাও নয়, রসুনের গুণ সবারই কমবেশি জানা।

কিন্তু কোলেস্টেরল-ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বাইরেও রসুনের নানা জাদুকরি গুণ রয়েছে। এর গন্ধ আপনার ভালো নাও লাগতে পারে, কিন্তু এটিতে রয়েছে স্বাস্থ্য ভালো রাখার গুণ।

ডায়াবেটিস রোগীদের মূল সমস্যা হচ্ছে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া বা খুব কমে যাওয়া। রসুন এ সমস্যা সমাধানে কাজ করতে পারে।

গবেষণা বলছে, টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে রসুন। রসুনে ক্যালোরি অনেক কম, কার্বোহাইড্রেট বা শর্করার পরিমাণটাও কম। একারণে ডায়াবেটিক রোগীরা নিশ্চিন্তে রসুন খেতে পারেন।

রসুনের পুষ্টি উপাদান

রসুনে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য। সঙ্গে রয়েছে ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, আয়রন ও কপারের মতো খনিজ।

রসুনে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, আয়রন, কপার, পটাশিয়াম ও ফসফরাস পাওয়া যায়। এসব পুষ্টি উপাদানগুলো শরীরকে ভেতর থেকে পুষ্ট করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়।

নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রসুনকে অন্তর্ভুক্ত করা হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমানোসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সুবিধা দিতে পারে।

যদিও কাঁচা রসুন সবার জন্য সুস্বাদু নাও হতে পারে, রসুন খাওয়ার এবং এর উপকারিতা পেতে বেশ কয়েকটি সুস্বাদু এবং কার্যকর উপায় রয়েছে। কীভাবে আপনার খাদ্য তালিকায় রসুন যোগ করবেন-তা জেনে নেওয়া যাক-

খালি পেটে কাঁচা রসুন

খালি পেটে কাঁচা রসুন খাওয়া কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে এবং হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সাহায্য করে। অ্যালিসিন, কাঁচা রসুনে পাওয়া একটি যৌগ, এটির কোলেস্টেরল-হ্রাসকারী এবং রক্ত পাতলা করার বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত।

আপনাকে সুস্থ রাখতে সকালে এক গ্লাস জলের সঙ্গে কাঁচা রসুনের কয়েকটি কোয়া খেতে পারেন। রান্না করলে অ্যালিসিন পাতলা হয়ে যায়, তাই রসুন খাওয়ার আদর্শ উপায় হলো কাঁচা এবং খালি পেটে খাওয়া।

রসুন চা

রসুন চা একটি চমৎকার বিকল্প যারা এখনও রসুনের উপকারিতা উপভোগ করার সময় হালকা স্বাদ পছন্দ করেন। রসুনের চা প্রস্তুত করতে একটি রসুনের কোয়া থেঁতলে এক কাপ জলে যোগ করুন।

চা কয়েক মিনিট সিদ্ধ করুন এবং তারপর ১/২ চা চামচ দারুচিনি যোগ করুন। আঁচ বন্ধ করার আগে মিশ্রণটি কয়েক মিনিটের জন্য ঠান্ডা হতে দিন। সবশেষে এক চা চামচ মধু এবং আধা চা চামচ লেবুর রস যোগ করুন। সকালে এই রসুন চা আপনার রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে বহুগুণ।

রসুন ও মধু

মধুর সঙ্গে রসুনের সংমিশ্রণ আপনার দৈনন্দিন রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করার আরেকটি কার্যকর উপায়। রসুনের একটি কোয়া তিন থেকে চার টুকরো করে একটি চামচে রাখুন। চামচে কয়েক ফোঁটা মধু যোগ করুন এবং কয়েক মিনিটের জন্য সেটি রেখে দিন।

এরপর রসুন সাবধানে চিবিয়ে গিলে ফেলুন। যদি স্বাদ আপনার পছন্দ না হয়, তাহলে রসুনের সঙ্গে আপনি একটু হালকা গরম জল খেতে পারেন।

১০টি কাটা রসুনের কোয়া ৫ টেবিল চামচ মধুর সঙ্গে একত্রিত করে মিশ্রণ তৈরি করতে পারেন। অ্যাসিড রিফ্লাক্স এবং রিগারজিটেশনের উপসর্গগুলো উপশম করতে প্রতিদিন খালি পেটে এই মিশ্রণটি এক চামচ খেতে পারেন।


রান্নায় রসুন ব্যবহার

প্রতিদিনের তালিকায় রসুনকে অন্তর্ভুক্ত করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নিয়মিত খাবারে যোগ করুন। শাকসবজি, তরকারি, ডাল, স্যুপ এবং ভাজাসহ বিভিন্ন খাবারে রসুন ভালোভাবে মিশে যায়।

রসুনের কোয়াকে সুক্ষ্মভাবে কিমা বা গুঁড়ো করে নিন এবং অন্যান্য উপাদান যোগ করার আগে সেগুলোকে সামান্য তেলে ভাজুন যাতে আপনার খাবার সুগন্ধযুক্ত থাকে।

মনে রাখবেন, রসুন রান্না করা অ্যালিসিনের ক্ষমতা কমাতে পারে, তাই আপনি যদি এর স্বাস্থ্য উপকারিতা নিশ্চিত করতে চান তা হলে পরিবেশনের আগে রান্না করা খাবারে কাঁচা রসুনের কিমা যোগ করুন।

রসুন তেল

রসুন তেল রান্নায়, সালাদ ড্রেসিংয়ে বা ভাজা শাকসবজি বা রুটির ওপর একটি স্বাদযুক্ত গুঁড়ি হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

রসুনের তেল তৈরি করতে রসুনের খোসা ছাড়িয়ে কয়েকটি কোয়া গুঁড়ো করে নিন, তারপর একটি সসপ্যানে এক কাপ উচ্চ মানের রান্নার তেল, যেমন অলিভ অয়েল বা অ্যাভোকাডো তেল দিয়ে একত্রিত করুন।

প্রায় মিনিট দশেক কম আঁচে মিশ্রণটি গরম করুন, নিশ্চিত করুন যে রসুন পুড়ে না যায়। তাপ থেকে সরান এবং এটি ঠান্ডা হতে দিন।

রসুনের টুকরোগুলো সরাতে তেলটি ছেঁকে নিন এবং এটি বাতাস না ঢোকে এমন পরিষ্কার বোতলে রাখুন। রসুনের তেল ফ্রিজে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে পাবেন।