শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:৪৪ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেওয়া ১৩০০ শিশুর অনেকের বাবা-মা আফগানে লুকিয়ে

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২১
  • ২৯ Time View

গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা সেবাবিহীন অবস্থায় লাখো শিশু

২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি সংঘাত ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৪ কোটি ১০ লাখ শিশুর জন্য ৩৯০ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তার আবেদন জানায় ইউনিসেফ। মানবিক সংকটে থাকা শিশুদের জন্য ইউনিসেফ’র কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতেই অর্থ সহায়তার আবেদন জানিয়ে ইউনিসেফ সতর্ক করেছে যে, লাখ লাখ শিশু গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা সেবা ছাড়াই সংঘাত ও দুর্যোগ আক্রান্ত দেশে বসবাস করছে। যা তাদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও ভবিষ্যতকে ঝুঁকিতে ফেলছে

১০ বছর বয়সী মনসুর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আত্মীয়দের সঙ্গে বসবাস করছে। কিন্তু বাবা-মা এখনো আফগানিস্তানে আটকা পড়ে রয়েছে। গত আগস্টে তালেবানরা আফগানিস্তান দখলের পর ৭০ হাজারেরও বেশি আফগান নাগরিক দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১৩০০ শিশু রয়েছে। যারা বাবা-মা বা অভিভাবক ছাড়াই মার্কিন মুলুকে গিয়েছে। এদের একজন ১০ বছর বয়সী মনসুর। বাবা-মার সঙ্গে আর  তার দেখা হবে কিংবা আদৌ দেখা হবে কি না, জানে না এই শিশুটি।

তার প্রশ্ন, কবে আফগানিস্তানে ফিরে যেতে পারবে? বাবা-মা ছাড়াই মার্কিন মুলুকে দিন কাটছে মনসুরের বহু শিশুর। জানা গিয়েছে, আফগানিস্তান ছেড়ে আসার সময় বাবা-মা ও সহোদরদের থেকে আলাদা হয়ে যায় মনসুর। কাবুল থেকে তাকে ওয়াশিংটনে নিয়ে এসেছে আত্মীয় শোগোফা। তারা যখন কাবুল বিমানবন্দরে প্রবেশ করে, ঠিক সেই মুহূর্তে বাইরে গোলাগুলি শুরু হয় এবং সেনারা গেইট বন্ধ করে দেয়। আর বিমানবন্দরে ঢুকতে পারেনি মনসুরের পরিবার।

সাদাম আজিজ ১৫ বছর বয়সী বালকও মনসুরের মতোই বাবা-মা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে। তার বাবা-মা তালেবানের ভয়ে আফগানিস্তানে পালিয়ে রয়েছে। তিন দিন কাবুল বিমানবন্দরে কাটানোর পর একটি মার্কিন সামরিক বিমানে করে শোগোফার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসে মনসুর। তখন আশা ছিল, হয়তো পরের ফ্লাইটে মা-বাবাও চলে আসবে। কিন্তু তারা আর যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেনি।

নিজের দুই সন্তান আর মনসুরকে সঙ্গে নিয়ে অন্য আত্মীয়দের সঙ্গে প্রথমে নিউজার্সির মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পৌঁছান শোগোফা।  কয়েক সপ্তাহ পর  বোন নিলুফারের সঙ্গে সিয়াটলে চলে যান তিনি। অন্যদিকে, মনসুরের বাবা-মা তালেবানের ভয়ে বর্তমানে আফগানিস্তানে পালিয়ে আছেন। কারণ, তারা পূর্বে নির্বাচিত আফগান সরকারের সঙ্গে কাজ করতো।

পুরো নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিলুফার জানান, মনসুর এখন দিনের অধিকাংশ সময় একা একা বসে থাকে এবং খুব কমই অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করে থাকে। মূলত পুরো নাম প্রকাশ করতে নিষেধ করার কারণ, আফগানিস্তানে পালিয়ে থাকা আত্মীয়দের তালেবানরা খুঁজে বের করে ফেলতে পারে। এই শঙ্কায় কেবল মূল নাম ব্যবহার করতে অনুরোধ করেছেন নিলুফার।

তিনি আরও জানান, যদি তালেবানরা শনাক্ত করে ফেলে, সেই ভয়ে মনসুরের বাবা-মা মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না। গত আগষ্টের পর সর্বশেষ ১ নভেম্বর বাবা-মার সঙ্গে কথা বলতে পেরেছে মনসুর।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2017 voiceekattor
কারিগরি সহযোগিতায়: সোহাগ রানা
11223