ঢাকা ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টিকা পাবে ১ কোটি ৮০ শিশু: প্রথম দিনই পাবে প্রায় ১৯ লাখ শিশু তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি: মানবিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ জ্বালানি-বিদ্যুতের সংকটে শিল্প উৎপাদন ও কৃষি সেচে স্থবিরতা ভারতীয় হাই কমিশনের উদ্যোগে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হলো পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ হরমুজে ফি দিয়েও জাহাজ চলাচল বন্ধ করল ইরান, বাড়ছে উত্তেজনা বৈঠকের আগে ‘সমঝোতার রূপরেখা’, পরে আলোচনা: ইরান সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ৩০০ মিটার সড়ক নদীগর্ভে, দুর্ভোগে লক্ষাধিক মানুষ ভারত থেকে আসলো আরও ৫ হাজার টন ডিজেল, স্বস্তির আভাস জ্বালানি খাতে মাত্র দুই মাসেই ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তোষণ, দুর্নীতি ও স্বার্থের জালে জ্বালানি খাত ধ্বংস করেছে পতিত সরকার: দেবপ্রিয়

মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই অভ্যুত্থান গবেষণায় সরকারের বড় উদ্যোগ, গবেষকদের জন্য ৫-২৫ লাখ টাকা অনুদান

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:১৮:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে

মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই অভ্যুত্থান গবেষণায় সরকারের বড় উদ্যোগ গবেষকদের জন্য ৫-২৫ লাখ টাকা অনুদান

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মুক্তিযুদ্ধের অজানা ইতিহাস, স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং প্রামাণ্য গবেষণা বাড়াতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ লক্ষ্যে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে গবেষণা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

গবেষণার ধরন ও পরিসরের ভিত্তিতে একজন গবেষক বা গবেষণা দলকে ৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হবে। এই উদ্যোগে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-এর পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থান নিয়েও গবেষণার সুযোগ রাখা হয়েছে।

গবেষণার ক্ষেত্র

নির্দেশিকা অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গবেষণা করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও গণমানুষের অংশগ্রহণ
  • বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের তালিকা যাচাই
  • গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন
  • শহীদ বুদ্ধিজীবী, বধ্যভূমি ও শরণার্থী জীবন
  • আঞ্চলিক যুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ ও আন্তর্জাতিক সমর্থন

পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, প্রত্যাশা, শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসন, স্মৃতি সংরক্ষণ এবং বীরত্বগাথা নিয়েও গবেষণার সুযোগ থাকবে।

তিন শ্রেণির অনুদান

গবেষণা কার্যক্রম তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে—

  • ক শ্রেণি (দলীয়/প্রাতিষ্ঠানিক): ১০–২৫ লাখ টাকা, সময়সীমা ১ বছর
  • খ শ্রেণি (একক): ৫–১০ লাখ টাকা, সময়সীমা ৯ মাস
  • গ শ্রেণি (একক): ৫ লাখ টাকা, সময়সীমা ৬ মাস

প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে গবেষণার সময় একবার বাড়ানো যাবে।

কারা আবেদন করতে পারবেন

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্বীকৃত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষক, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী, অভিজ্ঞ গবেষক এবং নির্দিষ্ট শর্তে সরকারি ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আবেদন করতে পারবেন। ব্যক্তি পর্যায়েও আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

তবে একই সময়ে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে গবেষণায় নিয়োজিত থাকলে, অথবা শাস্তিমূলক কারণে অযোগ্য বিবেচিত হলে আবেদন করা যাবে না।

সময়সূচি ও প্রক্রিয়া

  • প্রতিবছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে গবেষণা প্রস্তাব আহ্বান
  • ৩১ অক্টোবরের মধ্যে প্রস্তাব জমা
  • যাচাই-বাছাই শেষে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত অনুমোদন

গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হবে, যা এডিপি, রাজস্ব বাজেট বা উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে পরিচালিত হবে।

তদারকি ও বাস্তবায়ন

গবেষণা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন)কে আহ্বায়ক করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করবে, আর চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন মন্ত্রণালয়ের সচিব।

নির্বাচিত গবেষকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গবেষণা শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। মন্ত্রণালয় নিয়মিত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং গবেষণার ফলাফল বই, প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ ও সংরক্ষণ করা হবে।

উদ্দেশ্য

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, মুক্তিযুদ্ধের অনেক অজানা তথ্য এখনো প্রামাণ্যভাবে উঠে আসেনি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেই তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি করাই মূল লক্ষ্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই অভ্যুত্থান গবেষণায় সরকারের বড় উদ্যোগ, গবেষকদের জন্য ৫-২৫ লাখ টাকা অনুদান

আপডেট সময় : ১০:১৮:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধের অজানা ইতিহাস, স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং প্রামাণ্য গবেষণা বাড়াতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ লক্ষ্যে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে গবেষণা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

গবেষণার ধরন ও পরিসরের ভিত্তিতে একজন গবেষক বা গবেষণা দলকে ৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হবে। এই উদ্যোগে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-এর পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থান নিয়েও গবেষণার সুযোগ রাখা হয়েছে।

গবেষণার ক্ষেত্র

নির্দেশিকা অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গবেষণা করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও গণমানুষের অংশগ্রহণ
  • বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের তালিকা যাচাই
  • গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন
  • শহীদ বুদ্ধিজীবী, বধ্যভূমি ও শরণার্থী জীবন
  • আঞ্চলিক যুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ ও আন্তর্জাতিক সমর্থন

পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, প্রত্যাশা, শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসন, স্মৃতি সংরক্ষণ এবং বীরত্বগাথা নিয়েও গবেষণার সুযোগ থাকবে।

তিন শ্রেণির অনুদান

গবেষণা কার্যক্রম তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে—

  • ক শ্রেণি (দলীয়/প্রাতিষ্ঠানিক): ১০–২৫ লাখ টাকা, সময়সীমা ১ বছর
  • খ শ্রেণি (একক): ৫–১০ লাখ টাকা, সময়সীমা ৯ মাস
  • গ শ্রেণি (একক): ৫ লাখ টাকা, সময়সীমা ৬ মাস

প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে গবেষণার সময় একবার বাড়ানো যাবে।

কারা আবেদন করতে পারবেন

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্বীকৃত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষক, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী, অভিজ্ঞ গবেষক এবং নির্দিষ্ট শর্তে সরকারি ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আবেদন করতে পারবেন। ব্যক্তি পর্যায়েও আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

তবে একই সময়ে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে গবেষণায় নিয়োজিত থাকলে, অথবা শাস্তিমূলক কারণে অযোগ্য বিবেচিত হলে আবেদন করা যাবে না।

সময়সূচি ও প্রক্রিয়া

  • প্রতিবছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে গবেষণা প্রস্তাব আহ্বান
  • ৩১ অক্টোবরের মধ্যে প্রস্তাব জমা
  • যাচাই-বাছাই শেষে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত অনুমোদন

গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হবে, যা এডিপি, রাজস্ব বাজেট বা উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে পরিচালিত হবে।

তদারকি ও বাস্তবায়ন

গবেষণা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন)কে আহ্বায়ক করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করবে, আর চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন মন্ত্রণালয়ের সচিব।

নির্বাচিত গবেষকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গবেষণা শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। মন্ত্রণালয় নিয়মিত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং গবেষণার ফলাফল বই, প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ ও সংরক্ষণ করা হবে।

উদ্দেশ্য

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, মুক্তিযুদ্ধের অনেক অজানা তথ্য এখনো প্রামাণ্যভাবে উঠে আসেনি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেই তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি করাই মূল লক্ষ্য।