ঢাকা ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমারে বাড়ছে চীনবিরোধী ক্ষোভ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৮:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ মার্চ ২০২১ ১৮২ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মিয়ানমারে জান্তাবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের গুলিতে প্রতিদিন ঘটছে হতাহতের ঘটনা। ইয়াঙ্গুনে গতকালও পুলিশের গুলিতে আহত একজনকে সরিয়ে নিতে দেখা যায়। ছবি : এএফপি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলকে ‘মন্ত্রিসভায় রদবদল’ হিসেবে অভিহিত করেছিল চীন। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতি মেনে নিতে নারাজ মিয়ানমারের গণতন্ত্রকামী জনতা। একই সঙ্গে তাদের মধ্যে প্রবল হচ্ছে চীনবিরোধী মনোভাব। গত রবিবার এক ইয়াঙ্গুনেই অন্তত ৩২টি চীনা টেক্সটাইল কারখানায় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এদিকে সরকারি বাহিনীর চলমান দমন-পীড়নে প্রাণহানি বেড়েই চলেছে। এই অবস্থায় চীন উভয়সংকটে পড়েছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

তাঁরা বলছেন, চীনের সামনে এখন দুটি বিকল্প—অস্ত্রধারীদের (সরকারি বাহিনী) পক্ষাবলম্বন অথবা ক্রমবর্ধমান চীনবিরোধী জনতার পাশে দাঁড়ানো। অর্থাৎ মিয়ানমার সংকট থেকে দূরে থাকার পথ ক্রমে রুদ্ধ হচ্ছে বেইজিংয়ের।

মিয়ানমারের রাজনৈতিক বিষয়ের ওপর নজর রাখা রিচার্ড হরসে বলেন, ‘সরকারে কারা আছে না আছে, তাতে সত্যি মাথা ঘামায় না চীন। তারা চায়, এমন সরকার, যারা তাদের প্রকল্প সুরক্ষিত রাখবে, স্বার্থ রক্ষা করবে।’

বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় তেল ও গ্যাসের পাইপ স্থাপন এবং সমুদ্রবন্দর নির্মাণসহ মিয়ানমারে কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে চীনের।

গত বছরের জানুয়ারিতে মিয়ানমার সফর করেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সে সময় তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে তাঁর দেশের ‘গন্তব্য অভিন্ন’ বলে অভিহিত করেন। মিয়ানমারকে এতটা গুরুত্ব দেওয়ার লক্ষ্য ছিল মিয়ানমারকে সন্দেহাতীতভাবে চীনমুখী করা এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে রাখা।

এ অনুযায়ী একটা বছর পারও হলো। গত ১ ফেব্রুয়ারি অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনীর ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি পাল্টে গেল। কেননা জনগণ একে মেনে নিতে পারছে না। সরকারি বাহিনীর কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও জীবনবাজি রেখে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে তারা। এরই মধ্যে দুই শতাধিক বিক্ষোভকারী প্রাণ হারিয়েছে সেনা ও পুলিশের গুলিতে। পরিবর্তিত এ পরিস্থিতিতে দানা বাঁধছে জান্তা সরকারের ‘মদদদাতা’ চীনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ। চীনা মালিকাধীন কল-কারখানার ওপর চড়াও হতে শুরু করেছে বিক্ষোভকারীদের একাংশ।

যদিও চীনের দাবি, সামরিক অভ্যুত্থানের ব্যাপারে আগে থেকে তারা কিছু জানত না। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সরকারি বাহিনীর সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে গত ১১ মার্চ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ যে প্রস্তাব পাস করেছে, চীন এতে সমর্থন জানিয়েছে। একে বিরল ঘটনা বলছেন পর্যবেক্ষকরা। নিজেদের বক্তব্যের সমর্থনে তাঁরা বলছেন, এর আগে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চালানো গণহত্যার জন্য মিয়ানমারকে নিন্দা জানানোর বিরোধিতা করেছিল চীন।

থাইল্যান্ডের শুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক থিতিনান পংসুধিরাকের মতে, মিয়ানমারে চীনবিরোধী মনোভাবের তরঙ্গ পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে কম্বোডিয়া, লাওসে। কেননা এসব দেশের সঙ্গে বিআরআইয়ের সংশ্লিষ্টতা আছে। তাঁর মতে, ‘এই ভূরাজনৈতিক ধাঁধা (মিয়ানমার) থেকে চীনের বের হওয়ার সহজ পথ নেই।’ তবে বৈশ্বিক নেতৃত্বের জায়গায় থেকে চীন ‘শতভাগ স্বৈরতন্ত্র’-এর দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে রাখতেও পারবে না। এর পরও চীন কার্যকর নির্ধারকের অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করেন ইয়াঙ্গুন সেন্টার ফর ইনডিপেন্ডেন্ট রিসার্চের গবেষক সো মিন্ত অং। তাঁর ভাষ্য, ‘সমঝোতার প্রশ্নে চীন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করতে পারে।’ সূত্র : এএফপি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published.

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মিয়ানমারে বাড়ছে চীনবিরোধী ক্ষোভ

আপডেট সময় : ১০:৪৮:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ মার্চ ২০২১

মিয়ানমারে জান্তাবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের গুলিতে প্রতিদিন ঘটছে হতাহতের ঘটনা। ইয়াঙ্গুনে গতকালও পুলিশের গুলিতে আহত একজনকে সরিয়ে নিতে দেখা যায়। ছবি : এএফপি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলকে ‘মন্ত্রিসভায় রদবদল’ হিসেবে অভিহিত করেছিল চীন। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতি মেনে নিতে নারাজ মিয়ানমারের গণতন্ত্রকামী জনতা। একই সঙ্গে তাদের মধ্যে প্রবল হচ্ছে চীনবিরোধী মনোভাব। গত রবিবার এক ইয়াঙ্গুনেই অন্তত ৩২টি চীনা টেক্সটাইল কারখানায় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এদিকে সরকারি বাহিনীর চলমান দমন-পীড়নে প্রাণহানি বেড়েই চলেছে। এই অবস্থায় চীন উভয়সংকটে পড়েছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

তাঁরা বলছেন, চীনের সামনে এখন দুটি বিকল্প—অস্ত্রধারীদের (সরকারি বাহিনী) পক্ষাবলম্বন অথবা ক্রমবর্ধমান চীনবিরোধী জনতার পাশে দাঁড়ানো। অর্থাৎ মিয়ানমার সংকট থেকে দূরে থাকার পথ ক্রমে রুদ্ধ হচ্ছে বেইজিংয়ের।

মিয়ানমারের রাজনৈতিক বিষয়ের ওপর নজর রাখা রিচার্ড হরসে বলেন, ‘সরকারে কারা আছে না আছে, তাতে সত্যি মাথা ঘামায় না চীন। তারা চায়, এমন সরকার, যারা তাদের প্রকল্প সুরক্ষিত রাখবে, স্বার্থ রক্ষা করবে।’

বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় তেল ও গ্যাসের পাইপ স্থাপন এবং সমুদ্রবন্দর নির্মাণসহ মিয়ানমারে কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে চীনের।

গত বছরের জানুয়ারিতে মিয়ানমার সফর করেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সে সময় তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে তাঁর দেশের ‘গন্তব্য অভিন্ন’ বলে অভিহিত করেন। মিয়ানমারকে এতটা গুরুত্ব দেওয়ার লক্ষ্য ছিল মিয়ানমারকে সন্দেহাতীতভাবে চীনমুখী করা এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে রাখা।

এ অনুযায়ী একটা বছর পারও হলো। গত ১ ফেব্রুয়ারি অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনীর ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি পাল্টে গেল। কেননা জনগণ একে মেনে নিতে পারছে না। সরকারি বাহিনীর কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও জীবনবাজি রেখে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে তারা। এরই মধ্যে দুই শতাধিক বিক্ষোভকারী প্রাণ হারিয়েছে সেনা ও পুলিশের গুলিতে। পরিবর্তিত এ পরিস্থিতিতে দানা বাঁধছে জান্তা সরকারের ‘মদদদাতা’ চীনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ। চীনা মালিকাধীন কল-কারখানার ওপর চড়াও হতে শুরু করেছে বিক্ষোভকারীদের একাংশ।

যদিও চীনের দাবি, সামরিক অভ্যুত্থানের ব্যাপারে আগে থেকে তারা কিছু জানত না। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সরকারি বাহিনীর সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে গত ১১ মার্চ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ যে প্রস্তাব পাস করেছে, চীন এতে সমর্থন জানিয়েছে। একে বিরল ঘটনা বলছেন পর্যবেক্ষকরা। নিজেদের বক্তব্যের সমর্থনে তাঁরা বলছেন, এর আগে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চালানো গণহত্যার জন্য মিয়ানমারকে নিন্দা জানানোর বিরোধিতা করেছিল চীন।

থাইল্যান্ডের শুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক থিতিনান পংসুধিরাকের মতে, মিয়ানমারে চীনবিরোধী মনোভাবের তরঙ্গ পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে কম্বোডিয়া, লাওসে। কেননা এসব দেশের সঙ্গে বিআরআইয়ের সংশ্লিষ্টতা আছে। তাঁর মতে, ‘এই ভূরাজনৈতিক ধাঁধা (মিয়ানমার) থেকে চীনের বের হওয়ার সহজ পথ নেই।’ তবে বৈশ্বিক নেতৃত্বের জায়গায় থেকে চীন ‘শতভাগ স্বৈরতন্ত্র’-এর দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে রাখতেও পারবে না। এর পরও চীন কার্যকর নির্ধারকের অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করেন ইয়াঙ্গুন সেন্টার ফর ইনডিপেন্ডেন্ট রিসার্চের গবেষক সো মিন্ত অং। তাঁর ভাষ্য, ‘সমঝোতার প্রশ্নে চীন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করতে পারে।’ সূত্র : এএফপি।