ঢাকা ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমারের আপত্তি, বন্ধ নাফ ট্যুরিজম পার্কের কাজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জুন ২০২৩ ১৫০ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

মিয়ানমারের আপত্তির মুখে বন্ধ হয়ে গিয়েছে নাফ নদীর মোহনায় জালিয়ার দ্বীপে ট্যুরিজম পার্কের উন্নয়ন কাজ। নাফ নদী থেকে পার্কের জন্য বালু তোলা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে মিয়ানমার।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) যে কয়টি পর্যটনকেন্দ্র তৈরি করছে, তারই একটি নাফ ট্যুরিজম পার্ক । সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির সঙ্গে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে নাফ ট্যুরিজম পার্কের নির্ধারিত স্থান জালিয়ার দ্বীপের জমি বুঝে পায় সরকার। দ্বীপটির আয়তন ২৯১ একর।

বেজা সূত্রের খবর, ২০২২ সালের শুরুর দিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানায় মিয়ানমার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা বেজাকে জানায়। বিকল্প কোনো উপায় না পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাটি ভরাটের কাজ শেষ না করে চলে যায়।

বেজা থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, ২০২০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি নাফ ট্যুরিজম পার্কের মহাপরিকল্পনা অনুমোদন দেয় সরকার। সেখানে পর্যটকদের থাকার জন্য হোটেল ও ইকো কটেজ, যাওয়ার জন্য কেব্ল কার, ঝুলন্ত সেতু ও ভাসমান জেটি নির্মাণের কথা। দ্বীপটিতে শিশুপার্ক, জলের তলায় রেস্তোরাঁ, ভাসমান রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন পর্যটন স্থাপনার পরিকল্পনাও রয়েছে বেজার।

রবিবার বেজার চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নাফ নদী থেকে বালু তোলতে সম্ভব না হলে বিকল্প উপায়ে মাটি আনতে খরচ অনেক বেশি পড়বে।

জালিয়ার দ্বীপের এক পাশে মিয়ানমার, অপর পাশে বাংলাদেশের নেটং পাহাড়। দ্বীপটিকে একটি সম্ভাবনায় পর্যটন পার্ক হিসেবে বিবেচনা করেছিল বেজা। সংস্থাটির তথ্য বলছে, ট্যুরিজম পার্কের প্রথম পর্যায়ে ভূমি উন্নয়নের কাজ শুরু হয় ২০২০ সালে। কাজটি পেয়েছিল এম এম বিল্ডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নাফ নদী থেকে মাটি তুলে ভরাটের কাজ ৫০ শতাংশ করা হয়েছিল।

বেজার কর্মকর্তারা বলছেন, মিয়ানমার সরকার আপত্তি জানিয়ে বলেছে নাফ নদীতে খনন (ড্রেজিং) করতে হলে পারস্পরিক সম্মতি লাগবে। সে ক্ষেত্রে তারা নাফ নদীর জল প্রত্যাহার ও অন্যান্য বিষয়ে ১৯৬২ সালে সম্পাদিত একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ২০১৯ সালে টেকনাফের অপর একটি পর্যটনকেন্দ্র সাবরাংয়ের জন্য নাফ নদী থেকে মাটি তোলার সময়ও মিয়ানমার আপত্তি জানিয়েছিল। বেজা তখন শাহ পরীর দ্বীপের আশপাশ থেকে মাটি সংগ্রহ করে।

বেজা নাফ ট্যুরিজম পার্কে বিনিয়োগ পেতে চীনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। গত বছর ঢাকায় চীনা দূতাবাসকে চিঠি দিয়ে বেজা বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান খুঁজে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। এর কারণ হলো, বেজা মনে করছে চীনা বিনিয়োগকারী কাজটি পেলে নাফ নদী থেকে মাটি তোলার ক্ষেত্রে মিয়ানমারকে রাজি করাতে পারবে। এবিষয়ে এখনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published.

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মিয়ানমারের আপত্তি, বন্ধ নাফ ট্যুরিজম পার্কের কাজ

আপডেট সময় : ০১:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জুন ২০২৩

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

মিয়ানমারের আপত্তির মুখে বন্ধ হয়ে গিয়েছে নাফ নদীর মোহনায় জালিয়ার দ্বীপে ট্যুরিজম পার্কের উন্নয়ন কাজ। নাফ নদী থেকে পার্কের জন্য বালু তোলা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে মিয়ানমার।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) যে কয়টি পর্যটনকেন্দ্র তৈরি করছে, তারই একটি নাফ ট্যুরিজম পার্ক । সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির সঙ্গে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে নাফ ট্যুরিজম পার্কের নির্ধারিত স্থান জালিয়ার দ্বীপের জমি বুঝে পায় সরকার। দ্বীপটির আয়তন ২৯১ একর।

বেজা সূত্রের খবর, ২০২২ সালের শুরুর দিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানায় মিয়ানমার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা বেজাকে জানায়। বিকল্প কোনো উপায় না পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাটি ভরাটের কাজ শেষ না করে চলে যায়।

বেজা থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, ২০২০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি নাফ ট্যুরিজম পার্কের মহাপরিকল্পনা অনুমোদন দেয় সরকার। সেখানে পর্যটকদের থাকার জন্য হোটেল ও ইকো কটেজ, যাওয়ার জন্য কেব্ল কার, ঝুলন্ত সেতু ও ভাসমান জেটি নির্মাণের কথা। দ্বীপটিতে শিশুপার্ক, জলের তলায় রেস্তোরাঁ, ভাসমান রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন পর্যটন স্থাপনার পরিকল্পনাও রয়েছে বেজার।

রবিবার বেজার চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নাফ নদী থেকে বালু তোলতে সম্ভব না হলে বিকল্প উপায়ে মাটি আনতে খরচ অনেক বেশি পড়বে।

জালিয়ার দ্বীপের এক পাশে মিয়ানমার, অপর পাশে বাংলাদেশের নেটং পাহাড়। দ্বীপটিকে একটি সম্ভাবনায় পর্যটন পার্ক হিসেবে বিবেচনা করেছিল বেজা। সংস্থাটির তথ্য বলছে, ট্যুরিজম পার্কের প্রথম পর্যায়ে ভূমি উন্নয়নের কাজ শুরু হয় ২০২০ সালে। কাজটি পেয়েছিল এম এম বিল্ডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নাফ নদী থেকে মাটি তুলে ভরাটের কাজ ৫০ শতাংশ করা হয়েছিল।

বেজার কর্মকর্তারা বলছেন, মিয়ানমার সরকার আপত্তি জানিয়ে বলেছে নাফ নদীতে খনন (ড্রেজিং) করতে হলে পারস্পরিক সম্মতি লাগবে। সে ক্ষেত্রে তারা নাফ নদীর জল প্রত্যাহার ও অন্যান্য বিষয়ে ১৯৬২ সালে সম্পাদিত একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ২০১৯ সালে টেকনাফের অপর একটি পর্যটনকেন্দ্র সাবরাংয়ের জন্য নাফ নদী থেকে মাটি তোলার সময়ও মিয়ানমার আপত্তি জানিয়েছিল। বেজা তখন শাহ পরীর দ্বীপের আশপাশ থেকে মাটি সংগ্রহ করে।

বেজা নাফ ট্যুরিজম পার্কে বিনিয়োগ পেতে চীনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। গত বছর ঢাকায় চীনা দূতাবাসকে চিঠি দিয়ে বেজা বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান খুঁজে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। এর কারণ হলো, বেজা মনে করছে চীনা বিনিয়োগকারী কাজটি পেলে নাফ নদী থেকে মাটি তোলার ক্ষেত্রে মিয়ানমারকে রাজি করাতে পারবে। এবিষয়ে এখনো সাড়া পাওয়া যায়নি।