ঢাকা ০১:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে  আমদানির বিদ্যুৎ গিলছে অবৈধ ব্যাটারি অটোরিকশা জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক যুদ্ধবিমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে ঢাকা-নয়াদিল্লির নতুন প্রত্যাশা খুব দ্রুত বিশ্ববাজারে কমবে জ্বালানি তেলের দাম: ট্রাম্প ইসরায়েলে বহুমুখী হামলার প্রস্তুতি, মিত্রদের একজোট করছে ইরান এলএনজি সংরক্ষণ ও গ্যাসে রূপান্তরে বিনিয়োগে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র নিউ মেক্সিকো’র নাম পরিবর্তন করে নিউ আমেরিকা রাখার প্রস্তাব ট্রাম্পের রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট : প্রধানমন্ত্রী সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটো নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতের আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার

ভারত হাসিনা কার্ড খেলবে, আবার বন্ধুত্বও চাইবে:সালাহউদ্দিন

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:০৮:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ : ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের নীতির সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভারত একদিকে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দিচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলছে। দুই বিপরীতমুখী অবস্থান একসঙ্গে চলতে পারে না।

তিনি বলেন, আপনারা হাসিনা কার্ড খেলবেন, আবার একই সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইবেন—তা সম্ভব নয়। সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল ও ইউট্যাব আয়োজিত ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনে শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ভারতের মাটিতে অবস্থান করে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন এবং বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। ভারত সরকার তাকে বারবার সভা, বৈঠক ও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে, যা বাংলাদেশের মতো একটি বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রাণহানির প্রসঙ্গ তুলে ধরে সালাহউদ্দিন বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার নির্দেশে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, আকাশ থেকে হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি করে শিশু ও নারীকে হত্যা করা হয়েছে। এমন একজন দণ্ডিত অপরাধী ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীকে ভারত কীভাবে একজন গণতান্ত্রিক নেতা হিসেবে আশ্রয় ও প্রশ্রয় দেয়, এটাই বাংলাদেশের মানুষের প্রশ্ন।

সালাহউদ্দিনের ভাষ্য, শেখ হাসিনা নিজেই একসময় বলেছিলেন, তিনি ভারতকে যা দিয়েছেন, ভারত তা চিরদিন মনে রাখবে। তার মতে, আজ সেই প্রতিদান হিসেবেই ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা আপনাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই। ইন্টারডিপেন্ডেন্স বা পারস্পরিক নির্ভরশীলতাকে আমরা সম্মান করি। তবে আমরা কখনোই আওয়ামী লীগ হব না। বাংলাদেশের স্বার্থকে সবার ওপরে রেখে আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই।

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা ঢাকাকে দিল্লি বানিয়ে রাজনীতি করেছেন। দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে একটি বিশেষ দেশের মদদে তারা দীর্ঘদিন ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন।

তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান মানুষের চোখ খুলে দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান মানুষকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। মানুষ এখন রক্ত দিতে শিখেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ ও সংস্কার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, কিছু মহল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ করতে চেয়েছিল। এমনকি তারা দাবি করেছিল, মানুষ নাকি তাদের আরও পাঁচ বছর ক্ষমতায় দেখতে চায়।

তিনি বলেন, তারা বিপ্লবী সরকারের কথা বলে সংবিধানকে পাশ কাটাতে চেয়েছিল। কিন্তু জনগণের আকাঙ্ক্ষা হলো একটি সুষ্ঠু নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তর।

দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পলিটিক্যাল কালচার পাল্টাতে হবে।

তিনি জানান, তারেক রহমান নির্বাচিত হয়ে শপথ নেওয়ার পর বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। ভবিষ্যতে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করতে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনার কথাও বলেন তিনি।

সালাহউদ্দিন বলেন, আমরা সংবিধানে এমন সংশোধন নিয়ে আসব, যাতে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছরের বেশি না হয়।

এ ছাড়া সংসদীয় ব্যবস্থায় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের মধ্যে ‘চেক অ্যান্ড ব্যালান্স’ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তার ভাষায়, জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার ভিত্তিতে যারা নির্বাচিত হবেন, তাদের ক্ষমতাই হবে সংবিধানের মূল শক্তি।

তিনি বলেন, আমরা সেই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে চাই। ২০২৪ আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। এই গণঅভ্যুত্থান মানুষের চোখ খুলে দিয়েছে। ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন এই মাটিতে আর হবে না। সবাই মিলে অপরাজনীতি ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

এদিকে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা কীভাবে নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন ও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, সম্প্রতি দিল্লিতে একটি সংগঠনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বক্তব্য দিয়েছেন। ওই অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যের সুযোগ দেওয়ার প্রতিবাদ করা হয়েছে এবং সরকারও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

রিজভীর প্রশ্ন, ভারত সরকার যদি দাবি করে থাকে যে এটি একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান এবং এ বিষয়ে সরকারের কিছু করার নেই, তাহলে আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিষ্ঠান কীভাবে সরকারের অনুমতি ছাড়া দিল্লিতে এমন আয়োজন করতে পারে?

তিনি বলেন, পলাতক ফ্যাসিস্ট সেখানে কথা বলবে, আর সরকারের কিছু করার নেই,  এটা কীভাবে সম্ভব?

শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী লর্ড কার্লাইলের প্রসঙ্গও টানেন।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আইনি মামলার লড়াইয়ের জন্য লন্ডন থেকে আসা লর্ড কার্লাইলকে শেখ হাসিনা সরকারের সময় বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়নি। পরে তিনি দিল্লিতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলেও তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।

রিজভীর প্রশ্ন, তখন তাকে অনুমতি দেওয়া হলো না কেন? তাহলে আজকে এটা করা হলো কেন?

সম্প্রতি শেখ হাসিনার শাসনামল নিয়ে যারা তুলনামূলক নরম সুরে কথা বলছেন, তাদের নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রিজভী।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে থাকা কিছু মানুষের মধ্য থেকেই কোনো না কোনো কারণে এ ধরনের বক্তব্য আসছে।

এর উদাহরণ হিসেবে তিনি সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমিরের বাসায় অনুষ্ঠিত একটি চিত্র প্রদর্শনীর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। রিজভীর দাবি, সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন চিত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের চিত্র স্থান পেলেও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি, বক্তব্য বা পোস্টার ছিল না।

তিনি বলেন, এটা তো ভীষণ তাৎপর্যপূর্ণ। রহস্যজনক মনে হচ্ছে, ঘটনা কী? মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য বংশীবাদক, যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন, তার কোনো কথা নেই, কোনো ছবি নেই। বিষয়টি অত্যন্ত গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে দেখার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় দেশের ২৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অংশ নেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাদা দলের সদস্যসচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভারত হাসিনা কার্ড খেলবে, আবার বন্ধুত্বও চাইবে:সালাহউদ্দিন

আপডেট সময় : ০৭:০৮:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের নীতির সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভারত একদিকে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দিচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলছে। দুই বিপরীতমুখী অবস্থান একসঙ্গে চলতে পারে না।

তিনি বলেন, আপনারা হাসিনা কার্ড খেলবেন, আবার একই সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইবেন—তা সম্ভব নয়। সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল ও ইউট্যাব আয়োজিত ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনে শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ভারতের মাটিতে অবস্থান করে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন এবং বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। ভারত সরকার তাকে বারবার সভা, বৈঠক ও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে, যা বাংলাদেশের মতো একটি বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রাণহানির প্রসঙ্গ তুলে ধরে সালাহউদ্দিন বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার নির্দেশে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, আকাশ থেকে হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি করে শিশু ও নারীকে হত্যা করা হয়েছে। এমন একজন দণ্ডিত অপরাধী ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীকে ভারত কীভাবে একজন গণতান্ত্রিক নেতা হিসেবে আশ্রয় ও প্রশ্রয় দেয়, এটাই বাংলাদেশের মানুষের প্রশ্ন।

সালাহউদ্দিনের ভাষ্য, শেখ হাসিনা নিজেই একসময় বলেছিলেন, তিনি ভারতকে যা দিয়েছেন, ভারত তা চিরদিন মনে রাখবে। তার মতে, আজ সেই প্রতিদান হিসেবেই ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা আপনাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই। ইন্টারডিপেন্ডেন্স বা পারস্পরিক নির্ভরশীলতাকে আমরা সম্মান করি। তবে আমরা কখনোই আওয়ামী লীগ হব না। বাংলাদেশের স্বার্থকে সবার ওপরে রেখে আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই।

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা ঢাকাকে দিল্লি বানিয়ে রাজনীতি করেছেন। দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে একটি বিশেষ দেশের মদদে তারা দীর্ঘদিন ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন।

তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান মানুষের চোখ খুলে দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান মানুষকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। মানুষ এখন রক্ত দিতে শিখেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ ও সংস্কার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, কিছু মহল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ করতে চেয়েছিল। এমনকি তারা দাবি করেছিল, মানুষ নাকি তাদের আরও পাঁচ বছর ক্ষমতায় দেখতে চায়।

তিনি বলেন, তারা বিপ্লবী সরকারের কথা বলে সংবিধানকে পাশ কাটাতে চেয়েছিল। কিন্তু জনগণের আকাঙ্ক্ষা হলো একটি সুষ্ঠু নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তর।

দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পলিটিক্যাল কালচার পাল্টাতে হবে।

তিনি জানান, তারেক রহমান নির্বাচিত হয়ে শপথ নেওয়ার পর বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। ভবিষ্যতে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করতে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনার কথাও বলেন তিনি।

সালাহউদ্দিন বলেন, আমরা সংবিধানে এমন সংশোধন নিয়ে আসব, যাতে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছরের বেশি না হয়।

এ ছাড়া সংসদীয় ব্যবস্থায় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের মধ্যে ‘চেক অ্যান্ড ব্যালান্স’ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তার ভাষায়, জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার ভিত্তিতে যারা নির্বাচিত হবেন, তাদের ক্ষমতাই হবে সংবিধানের মূল শক্তি।

তিনি বলেন, আমরা সেই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে চাই। ২০২৪ আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। এই গণঅভ্যুত্থান মানুষের চোখ খুলে দিয়েছে। ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন এই মাটিতে আর হবে না। সবাই মিলে অপরাজনীতি ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

এদিকে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা কীভাবে নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন ও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, সম্প্রতি দিল্লিতে একটি সংগঠনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বক্তব্য দিয়েছেন। ওই অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যের সুযোগ দেওয়ার প্রতিবাদ করা হয়েছে এবং সরকারও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

রিজভীর প্রশ্ন, ভারত সরকার যদি দাবি করে থাকে যে এটি একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান এবং এ বিষয়ে সরকারের কিছু করার নেই, তাহলে আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিষ্ঠান কীভাবে সরকারের অনুমতি ছাড়া দিল্লিতে এমন আয়োজন করতে পারে?

তিনি বলেন, পলাতক ফ্যাসিস্ট সেখানে কথা বলবে, আর সরকারের কিছু করার নেই,  এটা কীভাবে সম্ভব?

শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী লর্ড কার্লাইলের প্রসঙ্গও টানেন।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আইনি মামলার লড়াইয়ের জন্য লন্ডন থেকে আসা লর্ড কার্লাইলকে শেখ হাসিনা সরকারের সময় বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়নি। পরে তিনি দিল্লিতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলেও তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।

রিজভীর প্রশ্ন, তখন তাকে অনুমতি দেওয়া হলো না কেন? তাহলে আজকে এটা করা হলো কেন?

সম্প্রতি শেখ হাসিনার শাসনামল নিয়ে যারা তুলনামূলক নরম সুরে কথা বলছেন, তাদের নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রিজভী।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে থাকা কিছু মানুষের মধ্য থেকেই কোনো না কোনো কারণে এ ধরনের বক্তব্য আসছে।

এর উদাহরণ হিসেবে তিনি সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমিরের বাসায় অনুষ্ঠিত একটি চিত্র প্রদর্শনীর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। রিজভীর দাবি, সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন চিত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের চিত্র স্থান পেলেও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি, বক্তব্য বা পোস্টার ছিল না।

তিনি বলেন, এটা তো ভীষণ তাৎপর্যপূর্ণ। রহস্যজনক মনে হচ্ছে, ঘটনা কী? মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য বংশীবাদক, যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন, তার কোনো কথা নেই, কোনো ছবি নেই। বিষয়টি অত্যন্ত গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে দেখার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় দেশের ২৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অংশ নেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাদা দলের সদস্যসচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।