ঢাকা ০৬:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট : দূষণে বছরে ৩ লাখ মানুষের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৬:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মার্চ ২০২৪ ১৩০ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

দূষণে বছরে পৌনে ৩ লাখ বাংলাদেশির মৃত্যু

দূষণের মাত্রা কতটা ভয়ঙ্কর অবস্থায় পৌছেছে, তারই প্রমাণ মিললো বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে। তাতে বলা হয়েছে, দূষণের কারণে প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় পৌনে ৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে!

উদ্বেগজনক মাত্রার দূষণ এবং পরিবেশগত স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। যা কিনা তুলনামূলক বেশি ক্ষতি করছে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু ও বয়স্কদের।

এই দূষণের জন্য বছরে অকালে মারা যাচ্ছে, ২ লাখ ৭২ হাজারেরও বেশি মানুষ। বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিস বিজ্ঞপ্তিতে এই ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ করে।

দ্য বাংলাদেশ কান্ট্রি এনভায়রনমেন্ট অ্যানালাইসিস শীর্ষক রিপোর্টে দেখা গেছে, অকাল মৃত্যুর কারণ বায়ুদূষণ, অনিরাপদ পানি, নিম্নমানের স্যানিটেশন ও হাইজিন এবং সীসা দূষণ দায়ী।

২০১৯ সালে পরিবেশগত কারণে বাংলাদেশের জিডিপির ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। ঘর ও বাইরের বায়ুদূষণ স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সর্বাধিক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এবং যা ৫৫ শতাংশ অকাল মৃত্যুর কারণ। আর এই হার ২০১৯ সালের জিডিপির ৮ দশমিক ৩২ শতাংশের সমপরিমাণ।

বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ এবং ভুটানে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুলায়ে সেক বলেন, বাংলাদেশের জন্য পরিবেশের ঝুঁকি মোকাবিলা একসঙ্গে উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেখেছি পরিবেশের ক্ষতি করে যদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়, তা টেকসই হতে পারে না তা।

পরিবেশ দূষণ শিশুদের ওপর প্রবল প্রভাব ফেলছে। সীসা বিষক্রিয়া শিশুদের মস্তিষ্ক বিকাশে ব্যাপক ক্ষতি করছে। এ কারণে বছরে প্রাক্কলিত আইকিউ প্রায় ২০ মিলিয়ন পয়েন্ট পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে।

বায়ুদূষণের জন্য অন্যতম কারণ হচ্ছে, গৃহস্থালিতে কাঠের জ্বালানির মাধ্যমে রান্না এবং এ কারণে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছেন নারী ও শিশুরা।

শিল্পের বর্জ্য ও অনিয়ন্ত্রিত প্লাস্টিকসহ অন্যান্য সব বর্জ্য ও উৎস থেকে আসা অপরিশোধিত ময়লাযুক্ত পানির জন্য বাংলাদেশের নদী-নালার পানির গুণগত মানে ব্যাপক অবনতি হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং এই রিপোর্টের সহ-প্রণেতা আনা লুইসা গোমেজ লিমা জানিয়েছেন, সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নীতি ও কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণের ধারা বদলে ফেলতে পারে বাংলাদেশ।

পরিবেশ সুরক্ষার জন্য জোর পদক্ষেপ এবং রান্নায় সবুজ জ্বালানিতে বিনিয়োগ ও অন্যান্য প্রণোদনা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে দূষণ কমানো সম্ভব হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published.

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট : দূষণে বছরে ৩ লাখ মানুষের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৪:৫৬:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মার্চ ২০২৪

 

দূষণে বছরে পৌনে ৩ লাখ বাংলাদেশির মৃত্যু

দূষণের মাত্রা কতটা ভয়ঙ্কর অবস্থায় পৌছেছে, তারই প্রমাণ মিললো বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে। তাতে বলা হয়েছে, দূষণের কারণে প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় পৌনে ৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে!

উদ্বেগজনক মাত্রার দূষণ এবং পরিবেশগত স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। যা কিনা তুলনামূলক বেশি ক্ষতি করছে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু ও বয়স্কদের।

এই দূষণের জন্য বছরে অকালে মারা যাচ্ছে, ২ লাখ ৭২ হাজারেরও বেশি মানুষ। বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিস বিজ্ঞপ্তিতে এই ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ করে।

দ্য বাংলাদেশ কান্ট্রি এনভায়রনমেন্ট অ্যানালাইসিস শীর্ষক রিপোর্টে দেখা গেছে, অকাল মৃত্যুর কারণ বায়ুদূষণ, অনিরাপদ পানি, নিম্নমানের স্যানিটেশন ও হাইজিন এবং সীসা দূষণ দায়ী।

২০১৯ সালে পরিবেশগত কারণে বাংলাদেশের জিডিপির ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। ঘর ও বাইরের বায়ুদূষণ স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সর্বাধিক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এবং যা ৫৫ শতাংশ অকাল মৃত্যুর কারণ। আর এই হার ২০১৯ সালের জিডিপির ৮ দশমিক ৩২ শতাংশের সমপরিমাণ।

বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ এবং ভুটানে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুলায়ে সেক বলেন, বাংলাদেশের জন্য পরিবেশের ঝুঁকি মোকাবিলা একসঙ্গে উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেখেছি পরিবেশের ক্ষতি করে যদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়, তা টেকসই হতে পারে না তা।

পরিবেশ দূষণ শিশুদের ওপর প্রবল প্রভাব ফেলছে। সীসা বিষক্রিয়া শিশুদের মস্তিষ্ক বিকাশে ব্যাপক ক্ষতি করছে। এ কারণে বছরে প্রাক্কলিত আইকিউ প্রায় ২০ মিলিয়ন পয়েন্ট পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে।

বায়ুদূষণের জন্য অন্যতম কারণ হচ্ছে, গৃহস্থালিতে কাঠের জ্বালানির মাধ্যমে রান্না এবং এ কারণে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছেন নারী ও শিশুরা।

শিল্পের বর্জ্য ও অনিয়ন্ত্রিত প্লাস্টিকসহ অন্যান্য সব বর্জ্য ও উৎস থেকে আসা অপরিশোধিত ময়লাযুক্ত পানির জন্য বাংলাদেশের নদী-নালার পানির গুণগত মানে ব্যাপক অবনতি হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং এই রিপোর্টের সহ-প্রণেতা আনা লুইসা গোমেজ লিমা জানিয়েছেন, সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নীতি ও কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণের ধারা বদলে ফেলতে পারে বাংলাদেশ।

পরিবেশ সুরক্ষার জন্য জোর পদক্ষেপ এবং রান্নায় সবুজ জ্বালানিতে বিনিয়োগ ও অন্যান্য প্রণোদনা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে দূষণ কমানো সম্ভব হতে পারে।