সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ১১:০৬ অপরাহ্ন

বিএনপি-জামায়াত সরকারের সহযোগিতা ছাড়া ২১ আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলা সম্ভব ছিলো না

ভয়েস রিপোর্ট, ঢাকা
  • প্রকাশ: শনিবার, ২১ আগস্ট, ২০২১
  • ১১০

ছবি সংগ্রহ

‘শেখ হাসিনা বলেন, বাবার পথ ধরেই এদেশের মানুষের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছি। কয়েকবার মৃত্যু সামনে এসে দাঁড়িয়েছি, আল্লাহ বাঁচিয়েছে। এত বাধা অতিক্রম করে এসেছি। এখন এদেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমার কাজ’

আগস্ট মাস বাঙালির শোকের মাস। এই মাসেই বাংলার অবিসংবাদিত নেতা জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনা ঘটে। বঙ্গবন্ধু হত্যার ২৯ বছর পর তারই

সুযোগ্য কন্যা যিনি ৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বিদেশে থাকায় বেচে গিয়েছিলেন, সেই শেখ হাসিনা ২০০৪ সালের সংসদে বিরোদী দলীয় নেতা। ক্ষমতার মসনদে বিএনপি-জামাত জোট সরকার।

 

ভিডিও রুবিনা শেখ

তাদের অব্যাহত সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ২১ আগস্ট শান্তি মিছিলের আয়োজন করে। এ উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মিছিলপূর্ব সমাবেশ শুরু হয়। ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চে সমাবেশের প্রধান অতিথি শেখ হাসিনা। তার বক্তব্য শেষে হতেই মুর্হূ

মুর্হূ গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তাদের ২২ জনের অধিক মানুষের মৃত্যু ঘটে। আহত হয় পাঁচশতাধিক।

গ্রেনেড হামলার ১৭তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয়  কার্যালয়ের সামনে শনিবার ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে তৈরি স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

শনিবার আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকারের  সহযোগিতা ছাড়া ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলা সম্ভব নয়। তিনি এই ঘটনায় তৎকালীন সরকার ও প্রশাসনকে সরাসরি দায়ী করেছেন।

গ্রেনেড হামলার ঘটনায় বিএনপি সরকার আলামত নষ্ট করে ফেলে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ভুয়া তদন্ত প্রতিবেদন দেয় এবং জজ মিয়া নাটক সাজায়। আহতরা হাসপাতালে গিয়ে

চিকিৎসা পায়নি। সেসময় সংসদেও কথা বলতে দেয়নি বিএনপি-জামায়াত। উল্টো এই ঘটনার দায় আওয়ামী লীগের ওপর চাপানোর চেষ্টা করে।

স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন : ছবি রুবিনা শেখ

একুশে আগস্টের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হওয়ার পর দিনই চারজনকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। খালেদা জিয়া ও তারেকের তত্ত্বাবধায়নে তাদের পাঠানো হয়। গ্রেনেড হামলার

ঘটনায় তখনকার পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থাসহ সবাই জড়িত ছিল বলে উল্লেখ প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, বাবার পথ ধরেই এদেশের মানুষের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছি।

কয়েকবার মৃত্যু সামনে এসে দাঁড়িয়েছি, আল্লাহ বাঁচিয়েছে। এত বাধা অতিক্রম করে এসেছি। এখন এদেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমার কাজ।

স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন : ছবি রুবিনা শেখ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন কারারক্ষী এরমধ্যে জড়িত ছিল। জেলখানার ভেতর গ্রেনেড পাওয়া গেল (২১ আগস্ট ব্যবহৃত গেনেডের ন্যায় আর্জেজ গ্রেনেড) এরা অনেকগুলো ক্রিমিনাল জোগার করেছিল তার মধ্যে কিছু জেলখানা থেকে বের করে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু প্রত্যেকের

হাতে যে গ্রেনেড ছিল, সেগুলো মারতেও পারেনি। রমনা হোটেলের সামনের গলিতে সেই গ্রেনেড পরিত্যক্ত পাওয়া যায় এবং কয়েকটি জায়গায়ও পাওয়া যায়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চারনেতা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহিদ, ১৫ আগস্টের

স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন : ছবি রুবিনা শেখ

সকল শহিদ এবং মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ এবং সম্ভ্রমহারা দু’লাখ মা-বোন স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আলোচনা সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদও অনুষ্ঠানে

বক্তৃতা করেন। আলোচনা  অংশ নেন দলের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা এবং বিএমএ মহাসচিব ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন,

সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম  কামাল হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও দক্ষিণের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মান্নাফী প্রমুখ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2017 voiceekattor
কারিগরি সহযোগিতায়: সোহাগ রানা
11223