ঢাকা ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ফেণীর সোনাগাজীর চরে তরমুজের বাম্পার ফলনে খুশি চাষীরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল ২০২১ ২০৬ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

গ্রীষ্মকালীন ফল তরমুজ। দামও বেশ। শ’ টাকার নিচে এখনও ভালো তরমুজ মিলছে না। নাটোর, ভোলা, ফেণীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রসালো তরমুজের আবাদ হয়েছে বেশ। ফলনও ভালো, দাম পাচ্ছে চাষীরা। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকারী ব্যবসায়ীরা কাভার্ডভ্যান নিয়ে ছুটে যান। ক্ষেত থেকে তরমুজ তুলে নিয়ে আসেন আড়তে। পরে খুচরো ব্যবসায়ীরাদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে হাটবাজারে।

রাজধানীতে তরমুজের আমদানি থাকলেও এখন দাম চড়া। কেজি দরেও বিক্রি হচ্ছে তরমুজ। আড়াই তিন কেজির নিচে এখনও তরমুজ বাজারে আসেনি। বড় সাইজের তরমুজ কোনটি পাঁচ/সাত কেজিরও হয়ে থাকে। ৩০ থেকে ৪০ প্রতি কেজি হলেও দাম পড়ে যায় অনেক।

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মুহুরী প্রজেক্ট সংলগ্ন চর সোনাপুর এলাকায়। বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষক, পাইকার সবার মুখেই হাসি। অথচ এ জমিগুলোকে অকৃষি ভূমি দেখিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘সোনাগাজী সোলার পাওয়ার লিমিটেডের স্বার্থে হুকুম দখলের পাঁয়তারা চলানোর অভিযোগ রয়েছে।

দখলদারদের ভাষ্যমতে অকৃষি অনাবাদী বলা হলেও এ জমিতেই সোনা ফলাচ্ছে কৃষকরা। তরমুজের পাশাপাশি এ চরে চাষাবাদ হচ্ছে মরিচ, খেসারী, খিরা, বেলি, মুগ ডাল, শিমসহ বিভিন্ন ফসল। চলতি মৌসুমে এ চরের আড়াইশ একর জমি থেকে নূন্যতম ৫ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন স্থানীয় ও পাশের জেলা নোয়াখালীর সুবর্ণচর থেকে আসা কৃষকরা।

তরমুজ চাষি মো. ওলি উদ্দিন নামে বলেন, ৮০ একর জমিতে তারা ১০ জন মিলে ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে তরমুজের চাষাবাদ করেছিলেন। ইতোমধ্যেই ৫৫ লাখ টাকার তরমুজ তারা বিক্রি করেছেন। আরো আনুমানিক ৩০ লাখ টাকার তরমুজ মাঠে রয়েছে।

সুবর্ণচর থেকে আসা তরমুজের ব্যাপারী জসিম উদ্দিন বলেন, এ চরের তরমুজের গুণগত মান ভালো। তিনি এখানকার ২০ একর জমির তরমুজ কিনেছেন ২২ লাখ টাকায়। পরিবহনসহ সব খরচ মিলিয়ে এ তরমুজ তিনি ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি করার আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।

চট্টগ্রাম থেকে আসা আমির হোসেন নামের আরেক ব্যবসায়ী জানান, তিনি ২০ একর জমির তরমুজ কিনেছেন ২২ লাখ ৭০ হাজার টাকায়। এ তরমুজগুলো তিনি চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গিবাজার, সাতকানিয়া, লোহাগাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাবেন।

কৃষক মজিবুল হক জানালেন, তিনি ১৪ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। ঠিক মতো সেচের পানি পাওয়ায় তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে। দামও পেয়েছেন ভালো। হাজী মাবুল হক জানান, গত দুই বছরের তুলনায় এ বছর এই এলাকায় তরমুজের চাষাবাদ বেড়েছে। ফলনও হয়েছে ভালো।

ফসলি ভূমি রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন বলেন, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের স্মারকে এই মৌজার আনুমানিক ২শ একর অকৃষি জমি অধিগ্রহণের জন্য ভূমি মন্ত্রককে এড়িয়ে সরাসরি ফেনী জেলা প্রশাসকে আদেশ প্রদান করা হয়।

ভূমি মালিক ও কৃষকরা জানান, এসব জমি তিন ফসলি। এ ব্যাপারে তারা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান, কারণ প্রধানমন্ত্রী নিজে বলেছেন কোনো ফসলি জমি নষ্ট করা যাবে না। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে হলে ফসলি জমির বিকল্প নেই।

সোনাগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন মজুমদার জানান, উর্বর দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি তরমুজ চাষের জন্য সবচেয়ে উত্তম। এই এলাকার মাটি তরমুজ চাষের উপযোগী। সে জন্যই ভালো ফলন হয়েছে। আশা করি আগামী মৌসুমে তরমুজের চাষ আরো অনেক বাড়বে

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published.

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ফেণীর সোনাগাজীর চরে তরমুজের বাম্পার ফলনে খুশি চাষীরা

আপডেট সময় : ০৯:২৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল ২০২১

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

গ্রীষ্মকালীন ফল তরমুজ। দামও বেশ। শ’ টাকার নিচে এখনও ভালো তরমুজ মিলছে না। নাটোর, ভোলা, ফেণীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রসালো তরমুজের আবাদ হয়েছে বেশ। ফলনও ভালো, দাম পাচ্ছে চাষীরা। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকারী ব্যবসায়ীরা কাভার্ডভ্যান নিয়ে ছুটে যান। ক্ষেত থেকে তরমুজ তুলে নিয়ে আসেন আড়তে। পরে খুচরো ব্যবসায়ীরাদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে হাটবাজারে।

রাজধানীতে তরমুজের আমদানি থাকলেও এখন দাম চড়া। কেজি দরেও বিক্রি হচ্ছে তরমুজ। আড়াই তিন কেজির নিচে এখনও তরমুজ বাজারে আসেনি। বড় সাইজের তরমুজ কোনটি পাঁচ/সাত কেজিরও হয়ে থাকে। ৩০ থেকে ৪০ প্রতি কেজি হলেও দাম পড়ে যায় অনেক।

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মুহুরী প্রজেক্ট সংলগ্ন চর সোনাপুর এলাকায়। বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষক, পাইকার সবার মুখেই হাসি। অথচ এ জমিগুলোকে অকৃষি ভূমি দেখিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘সোনাগাজী সোলার পাওয়ার লিমিটেডের স্বার্থে হুকুম দখলের পাঁয়তারা চলানোর অভিযোগ রয়েছে।

দখলদারদের ভাষ্যমতে অকৃষি অনাবাদী বলা হলেও এ জমিতেই সোনা ফলাচ্ছে কৃষকরা। তরমুজের পাশাপাশি এ চরে চাষাবাদ হচ্ছে মরিচ, খেসারী, খিরা, বেলি, মুগ ডাল, শিমসহ বিভিন্ন ফসল। চলতি মৌসুমে এ চরের আড়াইশ একর জমি থেকে নূন্যতম ৫ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন স্থানীয় ও পাশের জেলা নোয়াখালীর সুবর্ণচর থেকে আসা কৃষকরা।

তরমুজ চাষি মো. ওলি উদ্দিন নামে বলেন, ৮০ একর জমিতে তারা ১০ জন মিলে ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে তরমুজের চাষাবাদ করেছিলেন। ইতোমধ্যেই ৫৫ লাখ টাকার তরমুজ তারা বিক্রি করেছেন। আরো আনুমানিক ৩০ লাখ টাকার তরমুজ মাঠে রয়েছে।

সুবর্ণচর থেকে আসা তরমুজের ব্যাপারী জসিম উদ্দিন বলেন, এ চরের তরমুজের গুণগত মান ভালো। তিনি এখানকার ২০ একর জমির তরমুজ কিনেছেন ২২ লাখ টাকায়। পরিবহনসহ সব খরচ মিলিয়ে এ তরমুজ তিনি ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি করার আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।

চট্টগ্রাম থেকে আসা আমির হোসেন নামের আরেক ব্যবসায়ী জানান, তিনি ২০ একর জমির তরমুজ কিনেছেন ২২ লাখ ৭০ হাজার টাকায়। এ তরমুজগুলো তিনি চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গিবাজার, সাতকানিয়া, লোহাগাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাবেন।

কৃষক মজিবুল হক জানালেন, তিনি ১৪ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। ঠিক মতো সেচের পানি পাওয়ায় তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে। দামও পেয়েছেন ভালো। হাজী মাবুল হক জানান, গত দুই বছরের তুলনায় এ বছর এই এলাকায় তরমুজের চাষাবাদ বেড়েছে। ফলনও হয়েছে ভালো।

ফসলি ভূমি রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন বলেন, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের স্মারকে এই মৌজার আনুমানিক ২শ একর অকৃষি জমি অধিগ্রহণের জন্য ভূমি মন্ত্রককে এড়িয়ে সরাসরি ফেনী জেলা প্রশাসকে আদেশ প্রদান করা হয়।

ভূমি মালিক ও কৃষকরা জানান, এসব জমি তিন ফসলি। এ ব্যাপারে তারা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান, কারণ প্রধানমন্ত্রী নিজে বলেছেন কোনো ফসলি জমি নষ্ট করা যাবে না। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে হলে ফসলি জমির বিকল্প নেই।

সোনাগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন মজুমদার জানান, উর্বর দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি তরমুজ চাষের জন্য সবচেয়ে উত্তম। এই এলাকার মাটি তরমুজ চাষের উপযোগী। সে জন্যই ভালো ফলন হয়েছে। আশা করি আগামী মৌসুমে তরমুজের চাষ আরো অনেক বাড়বে