ঢাকা ০৮:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

প্রসূতি, নবজাতক, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীরা নাজুক অবস্থায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ব্র্যাক-বিইউএইচএস সমীক্ষা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১ ১৫৮ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে করোনা পরীক্ষার জন্য মানুষের ভিড় ছবি: সংগ্রহ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

করোনা পরিস্থিতিতে প্রসূতি, নবজাতক, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীরা নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এ বিষয়ে ব্র্যাক-বিইউএইচএস’র সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গর্ভবতী মা, প্রসূতি ও নবজাতক, বিভিন্ন রোগের টিকা প্রত্যাশী পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু, জরুরি রোগী, জটিল রোগে ভুগতে থাকা ব্যক্তি, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা মহামারিকালে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নাজুক অবস্থায় রয়েছেন।

এই পরিস্থিতির প্রতিকারের জন্য এবং কোভিড পূর্ববর্তী স্বাস্থ্যখাতে অর্জিত সুফলগুলো ধরে রাখতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বহুপাক্ষিক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্যসেবায় কোভিড-১৯-এর প্রভাব: দ্রুত মূল্যায়ন শীর্ষক গবেষণার সুপারিশ প্রকাশ উপলক্ষে রবিবার ব্র্যাক অনলাইন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

দেশের ৮টি বিভাগের ১৬টি জেলায় ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত দ্রুত মূল্যায়ন পরিচালিত হয়। ২ হাজার ৪৮৩টি খানার পরিবারগুলোর গড় সদস্য ৪ দশমিক ৮৯ বেছে নেওয়া হয়।

সমীক্ষা বলছে, গবেষণা চলাকালীন গর্ভবতী নারী ছিলেন ১৬৭টি খানায় ০-২৮ দিন বয়সি শিশু ছিল ৪৯টি। পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু ছিল ৭৯৪টি যা গবেষণাধীন মোট সদস্যের ৩২ শতাংশ। বিশেষত মহিলা ও শিশুদের জন্য পরিস্থিতি আরো খারাপ ছিল। মহামারির আগে গর্ভবতী মায়েদের দেওয়া পরিষেবাগুলো গবেষণাকালীন এসব খানার ৫৪ শতাংশ নারী পাননি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০১৭-১৮র উপাত্ত অনুসারে গড়ে ৪৭ শতাংশ গর্ভবতী নারী প্রসবকালীন যত্নের (এএনসি) জন্য ৪+ সেবা পেয়েছিলেন। এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, সমীক্ষার সময়কালে ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ নারী ৪+ এএনসি পরিষেবা পেয়েছেন। যা জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম। জরিপের সময়কালে ২০ শতাংশ প্রসব হয়েছে প্রশিক্ষণহীন ধাত্রীদের দ্বারা।

মূলত উচ্চ যাতায়াত খরচ এবং কোভিড-১৯-এর ভয়ে গুরুতর অসুস্থ প্রতি সাত জনের একজন শিশুকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। শহরের তুলনায় গ্রামে সামগ্রিক পরিস্থিতি ছিলো আরও খারাপ।

জটিল রোগে ভুগতে থাকা রোগীদের ভোগান্তিও উল্লেখযোগ্য। এদের মধ্যে ৫৬ দশমিক ৩২ শতাংশ জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসের আশঙ্কায় চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং ৫৪ দশমিক ৫১ শতাংশ আর্থিক অসুবিধার কথা জানিয়েছেন। গ্রামাঞ্চলে মানসিকভাবে অসুস্থ এবং প্রতিবন্ধী দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাসেবা ছিলো আরও বেহাল।

ব্র্যাকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচি (এইচএনপিপি) এবং অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেঞ্জ বিভাগ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ হেলথ সায়েন্সেস (বিইউএইচএস) গবেষণাটি পরিচালনা করেছে।

অনলাইন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা) অধ্যাপক মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্।

অধ্যাপক মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে যে শুধু করোনা রোগী বা অন্য রোগে আক্রান্ত রোগীরা সমস্যায় পড়েছেন তা নয়। সরকারের অনেক সাফল্যজনক স্বাস্থ্য কর্মসূচি এবং রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচিতেও প্রভাব পড়েছে।

আসিফ সালেহ্ বলেন, যেহেতু এই মহামারির ঢেউ আগামী দুই বা আড়াই বছরের মধ্যে চলে যাচ্ছে না, সেদিকটা মাথায় রেখে আমাদের কমিউনিটি সিস্টেমকে শক্তিশালী করা দরকার। ব্র্যাক প্রতিরোধ, সুরক্ষা এবং ভ্যাকসিন মোবিলাইজেশন নিয়ে কাজ করতে চায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published.

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

প্রসূতি, নবজাতক, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীরা নাজুক অবস্থায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ব্র্যাক-বিইউএইচএস সমীক্ষা

আপডেট সময় : ১১:৫৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে করোনা পরীক্ষার জন্য মানুষের ভিড় ছবি: সংগ্রহ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

করোনা পরিস্থিতিতে প্রসূতি, নবজাতক, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীরা নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এ বিষয়ে ব্র্যাক-বিইউএইচএস’র সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গর্ভবতী মা, প্রসূতি ও নবজাতক, বিভিন্ন রোগের টিকা প্রত্যাশী পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু, জরুরি রোগী, জটিল রোগে ভুগতে থাকা ব্যক্তি, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা মহামারিকালে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নাজুক অবস্থায় রয়েছেন।

এই পরিস্থিতির প্রতিকারের জন্য এবং কোভিড পূর্ববর্তী স্বাস্থ্যখাতে অর্জিত সুফলগুলো ধরে রাখতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বহুপাক্ষিক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্যসেবায় কোভিড-১৯-এর প্রভাব: দ্রুত মূল্যায়ন শীর্ষক গবেষণার সুপারিশ প্রকাশ উপলক্ষে রবিবার ব্র্যাক অনলাইন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

দেশের ৮টি বিভাগের ১৬টি জেলায় ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত দ্রুত মূল্যায়ন পরিচালিত হয়। ২ হাজার ৪৮৩টি খানার পরিবারগুলোর গড় সদস্য ৪ দশমিক ৮৯ বেছে নেওয়া হয়।

সমীক্ষা বলছে, গবেষণা চলাকালীন গর্ভবতী নারী ছিলেন ১৬৭টি খানায় ০-২৮ দিন বয়সি শিশু ছিল ৪৯টি। পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু ছিল ৭৯৪টি যা গবেষণাধীন মোট সদস্যের ৩২ শতাংশ। বিশেষত মহিলা ও শিশুদের জন্য পরিস্থিতি আরো খারাপ ছিল। মহামারির আগে গর্ভবতী মায়েদের দেওয়া পরিষেবাগুলো গবেষণাকালীন এসব খানার ৫৪ শতাংশ নারী পাননি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০১৭-১৮র উপাত্ত অনুসারে গড়ে ৪৭ শতাংশ গর্ভবতী নারী প্রসবকালীন যত্নের (এএনসি) জন্য ৪+ সেবা পেয়েছিলেন। এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, সমীক্ষার সময়কালে ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ নারী ৪+ এএনসি পরিষেবা পেয়েছেন। যা জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম। জরিপের সময়কালে ২০ শতাংশ প্রসব হয়েছে প্রশিক্ষণহীন ধাত্রীদের দ্বারা।

মূলত উচ্চ যাতায়াত খরচ এবং কোভিড-১৯-এর ভয়ে গুরুতর অসুস্থ প্রতি সাত জনের একজন শিশুকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। শহরের তুলনায় গ্রামে সামগ্রিক পরিস্থিতি ছিলো আরও খারাপ।

জটিল রোগে ভুগতে থাকা রোগীদের ভোগান্তিও উল্লেখযোগ্য। এদের মধ্যে ৫৬ দশমিক ৩২ শতাংশ জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসের আশঙ্কায় চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং ৫৪ দশমিক ৫১ শতাংশ আর্থিক অসুবিধার কথা জানিয়েছেন। গ্রামাঞ্চলে মানসিকভাবে অসুস্থ এবং প্রতিবন্ধী দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাসেবা ছিলো আরও বেহাল।

ব্র্যাকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচি (এইচএনপিপি) এবং অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেঞ্জ বিভাগ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ হেলথ সায়েন্সেস (বিইউএইচএস) গবেষণাটি পরিচালনা করেছে।

অনলাইন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা) অধ্যাপক মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্।

অধ্যাপক মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে যে শুধু করোনা রোগী বা অন্য রোগে আক্রান্ত রোগীরা সমস্যায় পড়েছেন তা নয়। সরকারের অনেক সাফল্যজনক স্বাস্থ্য কর্মসূচি এবং রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচিতেও প্রভাব পড়েছে।

আসিফ সালেহ্ বলেন, যেহেতু এই মহামারির ঢেউ আগামী দুই বা আড়াই বছরের মধ্যে চলে যাচ্ছে না, সেদিকটা মাথায় রেখে আমাদের কমিউনিটি সিস্টেমকে শক্তিশালী করা দরকার। ব্র্যাক প্রতিরোধ, সুরক্ষা এবং ভ্যাকসিন মোবিলাইজেশন নিয়ে কাজ করতে চায়।