ঢাকা ০৯:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

পর্দা নামলো ২২তম নবীনশিল্পী চারুকলা প্রদর্শনীর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১ ২৫৭ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভয়েস রিপোর্ট, ঢাকা

বাংলাদেশের সংস্কৃতির এক চারণভূমি শিল্পকলা একাডেমি। বছরজুড়ে নানা আয়োজনে শিল্পকলা চত্বর থাকে মুখরিত। সৃজনশীলতার বাতিঘরে পরিণত হয়েছে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের’ গড়া এই প্রতিষ্ঠানটি। সাংস্কৃতিক মন্ত্রকের অধীনে শিল্পকলা একাডেমির শাখা রয়েছে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায়। বারো মাস জুড়ে চলা নানা আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে হয় এই প্রতিষ্ঠানটিকে। কেবল যে দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ তা কিন্তু নয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গণেও বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য তুলে ধরার কাজ চালিয়ে আসছে শিল্পকলা একাডেমি। প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক নাট্যজন ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব লিয়াকত আলী লাকী দায়িত্ব পাবার পর থেকে আয়োজনে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে।

 


জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অর্থনীতির পাশাপাশি সৃজনশীল শিল্পসংস্কৃতির বিকাশের লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। একাডেমির চারুকলা বিভাগ জন্মলগ্ন থেকেই চারুকলা বিষয়ক কর্মশালা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, আর্টক্যাম্প, আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণসহ চারুকলা সংক্রান্ন নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করে আসছে। এর মধ্যে দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী, জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী, জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনীসহ দু’বছর অন্তর নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনীর আয়োজন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ নভেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত আয়োজন করা হয় মাসব্যাপী ২২তম নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনীর। কিন্তু দর্শক চাহিদার কারণে প্রদর্শনীর মেয়াদ বৃদ্ধি ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়।

প্রদর্শনীতে ২১ থেকে ৩৫ বছরের ৫১৯জন শিল্পীর ১৩৫০টি শিল্পকর্ম জমা পড়ে। চিত্রকলা, ছাপচিত্র, ভাস্কর্য, প্রাচ্যকলা, কারুশিল্প, মৃৎশিল্প, গ্রাফিকডিজাইন, আলোকচিত্র, স্থাপনাশিল্প, পারফরমেন্স আর্ট, নিউ মিডিয়া আর্টসহ চারুশিল্পের এ সকল মাধ্যম থেকে শিল্পকর্ম নির্বাচক মন্ডলী ৩৩৭ জন শিল্পীর ৩৬৮টি শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত করেন।

দ্বিবার্ষিক আন্তর্জাতিক চারুকলা প্রদর্শনীর আয়োজনও হয়ে থাকে শিল্পকলা একাডেমির হাত ধরে। এই বিশাল আয়োজনে বিশ্বের প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি দেশের চারুশিল্পী তাদের চিত্রকর্ম নিয়ে হাজির হয়ে যান বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই আসরে। মাসব্যাপী এই মহাআয়োজন অতন্ত সুচারুভাবে পালন করে থাকে শিল্পকলা একাডেমি।

 


এরই মধ্যে প্রতিবছরের ন্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় দেড়মাসব্যাপী ২২তম নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠান হয়ে গেল ১৬ জানুয়ারি। এতে শিল্পকর্ম বিষয়ে পর্যালোচনা উপস্থাপন করেন শিল্পসমালোচক মোস্তফা জামান। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডীন অধ্যাপক নিসার হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন একাডেমির চারুকলা বিভাগের পরিচালক সৈয়দা মাহবুবা করিম। আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের হাতে পুরষ্কার ও সনদপত্র তুলে দেয়া হয়।

এছাড়া পুরস্কার মনোনয়নে বিচারকমন্ডলীর মধ্যে ছিলেন, শিল্পী নাইমা হক, আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুন, শিল্পী ড. মো.ইকবাল, শিল্পী মোস্তফা জামান মিঠু, শিল্পী আনিসুজ্জামান এবং শিল্পী শেখ সাদী ভূঁইয়া। সকল মাধ্যমের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার ছিল এক লক্ষ টাকা, সনদপত্র, মেডেল ও ক্রেষ্ট। আর প্রত্যেক মাধ্যমের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার ছিল পঞ্চাশ হাজার টাকার চেক, সনদপত্র ও ক্রেষ্ট। সবশেষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিশু নৃত্যশিল্পী, নৃত্যশিল্পী এবং নৃত্য সংগঠন স্পন্দনের শিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published.

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পর্দা নামলো ২২তম নবীনশিল্পী চারুকলা প্রদর্শনীর

আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১

ভয়েস রিপোর্ট, ঢাকা

বাংলাদেশের সংস্কৃতির এক চারণভূমি শিল্পকলা একাডেমি। বছরজুড়ে নানা আয়োজনে শিল্পকলা চত্বর থাকে মুখরিত। সৃজনশীলতার বাতিঘরে পরিণত হয়েছে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের’ গড়া এই প্রতিষ্ঠানটি। সাংস্কৃতিক মন্ত্রকের অধীনে শিল্পকলা একাডেমির শাখা রয়েছে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায়। বারো মাস জুড়ে চলা নানা আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে হয় এই প্রতিষ্ঠানটিকে। কেবল যে দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ তা কিন্তু নয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গণেও বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য তুলে ধরার কাজ চালিয়ে আসছে শিল্পকলা একাডেমি। প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক নাট্যজন ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব লিয়াকত আলী লাকী দায়িত্ব পাবার পর থেকে আয়োজনে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে।

 


জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অর্থনীতির পাশাপাশি সৃজনশীল শিল্পসংস্কৃতির বিকাশের লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। একাডেমির চারুকলা বিভাগ জন্মলগ্ন থেকেই চারুকলা বিষয়ক কর্মশালা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, আর্টক্যাম্প, আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণসহ চারুকলা সংক্রান্ন নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করে আসছে। এর মধ্যে দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী, জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী, জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনীসহ দু’বছর অন্তর নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনীর আয়োজন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ নভেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত আয়োজন করা হয় মাসব্যাপী ২২তম নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনীর। কিন্তু দর্শক চাহিদার কারণে প্রদর্শনীর মেয়াদ বৃদ্ধি ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়।

প্রদর্শনীতে ২১ থেকে ৩৫ বছরের ৫১৯জন শিল্পীর ১৩৫০টি শিল্পকর্ম জমা পড়ে। চিত্রকলা, ছাপচিত্র, ভাস্কর্য, প্রাচ্যকলা, কারুশিল্প, মৃৎশিল্প, গ্রাফিকডিজাইন, আলোকচিত্র, স্থাপনাশিল্প, পারফরমেন্স আর্ট, নিউ মিডিয়া আর্টসহ চারুশিল্পের এ সকল মাধ্যম থেকে শিল্পকর্ম নির্বাচক মন্ডলী ৩৩৭ জন শিল্পীর ৩৬৮টি শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত করেন।

দ্বিবার্ষিক আন্তর্জাতিক চারুকলা প্রদর্শনীর আয়োজনও হয়ে থাকে শিল্পকলা একাডেমির হাত ধরে। এই বিশাল আয়োজনে বিশ্বের প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি দেশের চারুশিল্পী তাদের চিত্রকর্ম নিয়ে হাজির হয়ে যান বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই আসরে। মাসব্যাপী এই মহাআয়োজন অতন্ত সুচারুভাবে পালন করে থাকে শিল্পকলা একাডেমি।

 


এরই মধ্যে প্রতিবছরের ন্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় দেড়মাসব্যাপী ২২তম নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠান হয়ে গেল ১৬ জানুয়ারি। এতে শিল্পকর্ম বিষয়ে পর্যালোচনা উপস্থাপন করেন শিল্পসমালোচক মোস্তফা জামান। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডীন অধ্যাপক নিসার হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন একাডেমির চারুকলা বিভাগের পরিচালক সৈয়দা মাহবুবা করিম। আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের হাতে পুরষ্কার ও সনদপত্র তুলে দেয়া হয়।

এছাড়া পুরস্কার মনোনয়নে বিচারকমন্ডলীর মধ্যে ছিলেন, শিল্পী নাইমা হক, আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুন, শিল্পী ড. মো.ইকবাল, শিল্পী মোস্তফা জামান মিঠু, শিল্পী আনিসুজ্জামান এবং শিল্পী শেখ সাদী ভূঁইয়া। সকল মাধ্যমের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার ছিল এক লক্ষ টাকা, সনদপত্র, মেডেল ও ক্রেষ্ট। আর প্রত্যেক মাধ্যমের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার ছিল পঞ্চাশ হাজার টাকার চেক, সনদপত্র ও ক্রেষ্ট। সবশেষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিশু নৃত্যশিল্পী, নৃত্যশিল্পী এবং নৃত্য সংগঠন স্পন্দনের শিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।