ঢাকা ০১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে  আমদানির বিদ্যুৎ গিলছে অবৈধ ব্যাটারি অটোরিকশা জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক যুদ্ধবিমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে ঢাকা-নয়াদিল্লির নতুন প্রত্যাশা খুব দ্রুত বিশ্ববাজারে কমবে জ্বালানি তেলের দাম: ট্রাম্প ইসরায়েলে বহুমুখী হামলার প্রস্তুতি, মিত্রদের একজোট করছে ইরান এলএনজি সংরক্ষণ ও গ্যাসে রূপান্তরে বিনিয়োগে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র নিউ মেক্সিকো’র নাম পরিবর্তন করে নিউ আমেরিকা রাখার প্রস্তাব ট্রাম্পের রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট : প্রধানমন্ত্রী সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটো নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতের আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার

দ্বিতীয় চেষ্টায় ইলিয়াস আলীকে অপহরণ, নেতৃত্বে ছিলেন জিয়াউল: প্রধান কৌঁসুলি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:২৪:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে

দ্বিতীয় চেষ্টায় ইলিয়াস আলীকে অপহরণ, নেতৃত্বে ছিলেন জিয়াউল: প্রধান কৌঁসুলি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেড় দশক আগে বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীকে অপহরণের প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান-এর নেতৃত্বে দ্বিতীয় চেষ্টায় তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় সেনা হেফাজতে থাকা উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছে।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ইলিয়াস আলী ও তার ব্যক্তিগত গাড়িচালককে তুলে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

বিএনপির অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশেই ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছিল।

ঘটনার সময় বিমান বাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার সাইফুর রহমান র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন। একই সময়ে র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক ছিলেন তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল আহসান।

পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জিয়াউল আহসানকে সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তিনি মেজর জেনারেল পদে ছিলেন এবং সর্বশেষ ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

ইলয়াস আলী

অন্যদিকে, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের জামাতা সাইফুর রহমান সর্বশেষ বিমান সদর দপ্তরের ডিরেক্টরেট অব এয়ার ট্রেনিংয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

গত ২১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীর গুম ও হত্যাকাণ্ডে সাইফুর রহমানের নাম উঠে আসে। এর পর ২৬ জুলাই রাতে তার বাসা থেকে তাকে আটক করে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট) এবং পরে বাহিনীর বিশেষ সেলে রাখা হয়।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণে ইলিয়াস আলীকে অপহরণের ঘটনায় উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের ভূমিকাও তদন্তাধীন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের বিষয়ে আগামী রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আদেশ পাওয়া যেতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

দ্বিতীয় চেষ্টায় ইলিয়াস আলীকে অপহরণ, নেতৃত্বে ছিলেন জিয়াউল: প্রধান কৌঁসুলি

আপডেট সময় : ০৮:২৪:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

দেড় দশক আগে বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীকে অপহরণের প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান-এর নেতৃত্বে দ্বিতীয় চেষ্টায় তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় সেনা হেফাজতে থাকা উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছে।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ইলিয়াস আলী ও তার ব্যক্তিগত গাড়িচালককে তুলে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

বিএনপির অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশেই ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছিল।

ঘটনার সময় বিমান বাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার সাইফুর রহমান র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন। একই সময়ে র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক ছিলেন তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল আহসান।

পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জিয়াউল আহসানকে সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তিনি মেজর জেনারেল পদে ছিলেন এবং সর্বশেষ ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

ইলয়াস আলী

অন্যদিকে, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের জামাতা সাইফুর রহমান সর্বশেষ বিমান সদর দপ্তরের ডিরেক্টরেট অব এয়ার ট্রেনিংয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

গত ২১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীর গুম ও হত্যাকাণ্ডে সাইফুর রহমানের নাম উঠে আসে। এর পর ২৬ জুলাই রাতে তার বাসা থেকে তাকে আটক করে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট) এবং পরে বাহিনীর বিশেষ সেলে রাখা হয়।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণে ইলিয়াস আলীকে অপহরণের ঘটনায় উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের ভূমিকাও তদন্তাধীন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের বিষয়ে আগামী রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আদেশ পাওয়া যেতে পারে।