ঢাকা ০৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কোটি টাকার ৩৪ হাজার ইয়াবাসহ মা-ছেলে গ্রেপ্তার হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু নতুন আক্রান্ত ১,৩২৭ ডেঙ্গু প্রতিরোধে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নালিতাবাড়ীতে আটকে রেখে নির্যাতন ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত ভোক্তাদের ক্ষোভের মধ্যে স্বস্তি এলপিজি ব্যবসায়ীদের দু’দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহার দেশে চিনির ব্যবহার প্রায় ৩৩ শতাংশ কমেছে সক্ষমতার অর্ধেক উৎপাদনে বেসরকারি মিল টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট বিশ্বজুড়ে প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস, মূল্যস্ফীতি ৪.৭ শতাংশে ওঠার শঙ্কা আইএমএফের সৌদিগামী ৬১ ফ্লাইট বাতিল, প্রবাসীদের  ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা, ভোগান্তিতে ৯২৬৯ যাত্রী

দরিদ্র পরিবারের শিশুরা এখনও শিক্ষায় সমান সুযোগ পাচ্ছে না: ড. নাজনীন আহমেদ

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:১৮:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮৩ বার পড়া হয়েছে

দরিদ্র পরিবারের শিশুরা এখনও শিক্ষায় সমান সুযোগ পাচ্ছে না: ড. নাজনীন আহমেদ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শিক্ষায় প্রবেশাধিকার বাড়লেও দরিদ্র পরিবারের শিশুরা এখনও সমান সুযোগ পাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ। তিনি বলেন, শুধু শিক্ষায় প্রবেশাধিকার বাড়ালেই হবে না, শিক্ষা যদি অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে রূপান্তরিত না হয়, তাহলে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।

শনিবার রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলের লা ভিটা হলে ‘সরকার কতখানি এগোলো? প্রাথমিক শিক্ষার ওপর আলোকপাত’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। নাগরিক প্ল্যাটফর্ম এ সংলাপের আয়োজন করে।

ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক জেন্ডার সমতা সূচকে বাংলাদেশ শিক্ষাক্ষেত্রে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এখনও পিছিয়ে আছে দেশ। মেয়েদের স্কুলে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও সেই শিক্ষা তাদের কর্মজীবন ও অর্থনৈতিক সক্ষমতায় কতটা কাজে লাগছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় ছেলে ও মেয়েদের অংশগ্রহণে অনেকটাই সমতা এসেছে। কিন্তু ধনী ও দরিদ্র পরিবারের শিশুদের মধ্যে শিক্ষার সুযোগ ও অংশগ্রহণে এখনও বৈষম্য রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, দরিদ্র পরিবারের শিশুরা এখনও সমানভাবে শিক্ষায় অংশ নিতে পারছে না।

শিক্ষার মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, শুধু শিশুরা স্কুলে যাচ্ছে কি না, সেটি দিয়ে শিক্ষার সাফল্য পরিমাপ করা যায় না। একটি শিশু তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণিতে যে মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করার কথা, তা অর্জন করতে পারছে কি না—সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার ক্ষেত্রে শুধু ‘অ্যাক্সেস’ বা প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করলেই হবে না; শিক্ষার গুণগত মান ও অর্জিত দক্ষতাও নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা যেন ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের পথ তৈরি করে, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

অভিভাবকদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ওপরও গুরুত্ব দেন ড. নাজনীন আহমেদ। তিনি বলেন, জিপিএ কোনো শিক্ষার্থীর সক্ষমতার পূর্ণ চিত্র নয়; এটি সক্ষমতা পরিমাপের একটি মাত্র সূচক। শিক্ষাকে শুধু পরীক্ষার ফল ও জিপিএকেন্দ্রিক না রেখে বাস্তব দক্ষতা অর্জন, সৃজনশীলতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, শিশু স্কুলে যাচ্ছে, এটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি স্কুলে গিয়ে সে কী শিখছে এবং সেই শিক্ষা ভবিষ্যৎ জীবনে কীভাবে কাজে লাগাতে পারছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে প্রবেশাধিকারের পাশাপাশি শিক্ষার মান, সমতা ও বাস্তব দক্ষতা অর্জনের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

দরিদ্র পরিবারের শিশুরা এখনও শিক্ষায় সমান সুযোগ পাচ্ছে না: ড. নাজনীন আহমেদ

আপডেট সময় : ১২:১৮:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিক্ষায় প্রবেশাধিকার বাড়লেও দরিদ্র পরিবারের শিশুরা এখনও সমান সুযোগ পাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ। তিনি বলেন, শুধু শিক্ষায় প্রবেশাধিকার বাড়ালেই হবে না, শিক্ষা যদি অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে রূপান্তরিত না হয়, তাহলে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।

শনিবার রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলের লা ভিটা হলে ‘সরকার কতখানি এগোলো? প্রাথমিক শিক্ষার ওপর আলোকপাত’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। নাগরিক প্ল্যাটফর্ম এ সংলাপের আয়োজন করে।

ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক জেন্ডার সমতা সূচকে বাংলাদেশ শিক্ষাক্ষেত্রে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এখনও পিছিয়ে আছে দেশ। মেয়েদের স্কুলে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও সেই শিক্ষা তাদের কর্মজীবন ও অর্থনৈতিক সক্ষমতায় কতটা কাজে লাগছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় ছেলে ও মেয়েদের অংশগ্রহণে অনেকটাই সমতা এসেছে। কিন্তু ধনী ও দরিদ্র পরিবারের শিশুদের মধ্যে শিক্ষার সুযোগ ও অংশগ্রহণে এখনও বৈষম্য রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, দরিদ্র পরিবারের শিশুরা এখনও সমানভাবে শিক্ষায় অংশ নিতে পারছে না।

শিক্ষার মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, শুধু শিশুরা স্কুলে যাচ্ছে কি না, সেটি দিয়ে শিক্ষার সাফল্য পরিমাপ করা যায় না। একটি শিশু তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণিতে যে মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করার কথা, তা অর্জন করতে পারছে কি না—সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার ক্ষেত্রে শুধু ‘অ্যাক্সেস’ বা প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করলেই হবে না; শিক্ষার গুণগত মান ও অর্জিত দক্ষতাও নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা যেন ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের পথ তৈরি করে, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

অভিভাবকদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ওপরও গুরুত্ব দেন ড. নাজনীন আহমেদ। তিনি বলেন, জিপিএ কোনো শিক্ষার্থীর সক্ষমতার পূর্ণ চিত্র নয়; এটি সক্ষমতা পরিমাপের একটি মাত্র সূচক। শিক্ষাকে শুধু পরীক্ষার ফল ও জিপিএকেন্দ্রিক না রেখে বাস্তব দক্ষতা অর্জন, সৃজনশীলতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, শিশু স্কুলে যাচ্ছে, এটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি স্কুলে গিয়ে সে কী শিখছে এবং সেই শিক্ষা ভবিষ্যৎ জীবনে কীভাবে কাজে লাগাতে পারছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে প্রবেশাধিকারের পাশাপাশি শিক্ষার মান, সমতা ও বাস্তব দক্ষতা অর্জনের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।