ঢাকা ০৪:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মৎস্যসম্পদ আমাদের সামগ্রিক জীবনবোধের অংশ: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ঢাকায় বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা: ৩৮ দেশের কূটনীতিক অংশগ্রহণ এপস্টেইন ফাইল: এক বিতর্কিত কিশোরী যৌন পাচারের নথি এবং মার্কিন রাজনীতির প্রভাব হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে রবিবার জাতিসংঘে চিঠি পাঠাবে সরকার ঢাকার শাহবাগে পুলিশ-ইনকিলাব মঞ্চ সংঘর্ষ, আহত অর্ধশত জাপানের সঙ্গে প্রথম ইপিএ সই: শুল্কমুক্ত বাজারে ৭ হাজারের বেশি বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ পরিবেশ সুরক্ষায় ফটোগ্রাফি হতে পারে শক্তিশালী হাতিয়ার মানুষ দর্শক, এসেছে শুধুমাত্র ‘এআই বটদের’ জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইশতেহারে ‘জাতীয় সাংবাদিক অবসর কল্যাণ বোর্ড’ গঠনের ঘোষণা বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড থেকে রাষ্ট্র সংস্কার পাঁচ অধ্যায়ে বিএনপির  ইশতেহার, নতুন সামাজিক চুক্তির ঘোষণা

টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে রাঙামাটিতে ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৯:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫ ৩৩২ বার পড়া হয়েছে

টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে রাঙামাটিতে ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি ডুবে যাওয়ায় এলাকার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন

রাঙামাটিতে ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি, প্রস্তুত ২৪৬ আশ্রয় কেন্দ্র

তিনদিনের টানা বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাঙামাটি জেলা শহরের শান্তিনগর, রসূলপুর, ব্রাক্ষণটিলা, পৌর কলোনি, আসামবস্তি, ব্রাক্ষ্মণটিলা, পাবলিক হেলথ এলাকা এখন জলমগ্ন।

৭ উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এখন পানি বন্দি। বানের পানিতে ডুবে গেছে, ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার জনগোষ্ঠী।

স্থানীয় প্রশাসন পানিবন্দি মানুষের আশ্রয়ের জন্য ২৪৬টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত আশ্রয় কেন্দ্রে নিতে প্রশাসনের তরফে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানায়, রাঙামাটি, নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি, লংগদু উপজেলা বন্যায় ৯৮ হাজার হেক্টর ফসলি জমি, ৪৩টি পুকুর, ৬১টি সড়ক এবং নয়টি হাটবাজার হ্রদের পানিতে ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

হ্রদের পানিতে ডুবে যাওয়া জুড়াছড়ি, বিলাইছড়ি, বরকল উপজেলার নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেলেও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পারেনি প্রশাসন।

জানা গেছে, বাঘাইছড়ির উপজেলার রূপকারী ইউনিয়ন, মাস্টারপাড়া, মধ্যমপাড়া, হাজিপাড়া, মাদারাসাপাড়া, এফ ব্লক, বটতলী, আমতলী ইউনিয়নসহ রাঙামাটিতে ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি।

গত বৃহস্পতিবার থেকে সেনাবাহিনী সাজেকের বাঘাইহাট এলাকায় বন্যাদুর্গত অর্ধশতাধিক মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের তরফে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

লংগদু উপজেলার ঝরনা টিলা, ভাসাইন্যাদম ইউনিয়ন, বগাচত্বর ইউনিয়নের জালিয়া পাড়া, গুলশাখালী ইউনিয়নের সোনাগাঁও পাড়া, মাইনী ইউনিয়নের এফআইডিসি বড় কলোনি, বিলাইড়ি উপজেলা সদর, ধূপ্পারছড়, বহলতলী, বাঙ্গালকাটা এলাকাসহ নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল, জুড়াছড়ি উপজেলা, কাপ্তাই উপজেলা এবং নানিয়ারচর উপজেলার নিম্নাঞ্চল জলমগ্ন।

জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, রাঙামাটি সদর, নানিয়ারচর, লংগদু এবং বাঘাইছড়ি উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন এবং রাঙামাটি ও বাঘাইছড়ি পৌরসভা মিলে মোট ৮১টি গ্রামের বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। লংগদু এবং বাঘাইছড়ি উপজেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের এখনও পর্যন্ত ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ২ হাজার কেজি চাল বন্যার্তদের মাঝে বিতরণ করেছে।

তৃতীয় দিনের মতো কর্ণফুলী নদীতে স্রোত থাকায় রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনার ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় বান্দরবান জেলা, রাঙামাটির রাজস্থলী, কাপ্তাই উপজেলা এবং চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। যে কারণে ওসব অঞ্চলের মানুষেরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জানানো হয়, বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদে পানি রয়েছে ১০৮ দশমিক ৭০ ফুট মিন সি লেভেল। ১৬টি জলকপাট সাড়ে তিন ফুট খুলে সেকেন্ডে ছাড়া হচ্ছে ৬৮ হাজার কিউসেক পানি।

স্থানীয় সরকার বিভাগ রাঙামাটির উপ-পরিচালক মো. মোবারক হোসেন বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত। জলমগ্ন এলাকাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে রাঙামাটিতে ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি

আপডেট সময় : ০৭:৩৯:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ অগাস্ট ২০২৫

ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি ডুবে যাওয়ায় এলাকার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন

রাঙামাটিতে ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি, প্রস্তুত ২৪৬ আশ্রয় কেন্দ্র

তিনদিনের টানা বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাঙামাটি জেলা শহরের শান্তিনগর, রসূলপুর, ব্রাক্ষণটিলা, পৌর কলোনি, আসামবস্তি, ব্রাক্ষ্মণটিলা, পাবলিক হেলথ এলাকা এখন জলমগ্ন।

৭ উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এখন পানি বন্দি। বানের পানিতে ডুবে গেছে, ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার জনগোষ্ঠী।

স্থানীয় প্রশাসন পানিবন্দি মানুষের আশ্রয়ের জন্য ২৪৬টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত আশ্রয় কেন্দ্রে নিতে প্রশাসনের তরফে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানায়, রাঙামাটি, নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি, লংগদু উপজেলা বন্যায় ৯৮ হাজার হেক্টর ফসলি জমি, ৪৩টি পুকুর, ৬১টি সড়ক এবং নয়টি হাটবাজার হ্রদের পানিতে ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

হ্রদের পানিতে ডুবে যাওয়া জুড়াছড়ি, বিলাইছড়ি, বরকল উপজেলার নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেলেও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পারেনি প্রশাসন।

জানা গেছে, বাঘাইছড়ির উপজেলার রূপকারী ইউনিয়ন, মাস্টারপাড়া, মধ্যমপাড়া, হাজিপাড়া, মাদারাসাপাড়া, এফ ব্লক, বটতলী, আমতলী ইউনিয়নসহ রাঙামাটিতে ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি।

গত বৃহস্পতিবার থেকে সেনাবাহিনী সাজেকের বাঘাইহাট এলাকায় বন্যাদুর্গত অর্ধশতাধিক মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের তরফে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

লংগদু উপজেলার ঝরনা টিলা, ভাসাইন্যাদম ইউনিয়ন, বগাচত্বর ইউনিয়নের জালিয়া পাড়া, গুলশাখালী ইউনিয়নের সোনাগাঁও পাড়া, মাইনী ইউনিয়নের এফআইডিসি বড় কলোনি, বিলাইড়ি উপজেলা সদর, ধূপ্পারছড়, বহলতলী, বাঙ্গালকাটা এলাকাসহ নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল, জুড়াছড়ি উপজেলা, কাপ্তাই উপজেলা এবং নানিয়ারচর উপজেলার নিম্নাঞ্চল জলমগ্ন।

জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, রাঙামাটি সদর, নানিয়ারচর, লংগদু এবং বাঘাইছড়ি উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন এবং রাঙামাটি ও বাঘাইছড়ি পৌরসভা মিলে মোট ৮১টি গ্রামের বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। লংগদু এবং বাঘাইছড়ি উপজেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের এখনও পর্যন্ত ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ২ হাজার কেজি চাল বন্যার্তদের মাঝে বিতরণ করেছে।

তৃতীয় দিনের মতো কর্ণফুলী নদীতে স্রোত থাকায় রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনার ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় বান্দরবান জেলা, রাঙামাটির রাজস্থলী, কাপ্তাই উপজেলা এবং চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। যে কারণে ওসব অঞ্চলের মানুষেরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জানানো হয়, বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদে পানি রয়েছে ১০৮ দশমিক ৭০ ফুট মিন সি লেভেল। ১৬টি জলকপাট সাড়ে তিন ফুট খুলে সেকেন্ডে ছাড়া হচ্ছে ৬৮ হাজার কিউসেক পানি।

স্থানীয় সরকার বিভাগ রাঙামাটির উপ-পরিচালক মো. মোবারক হোসেন বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত। জলমগ্ন এলাকাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।