মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৩২ অপরাহ্ন

গণহারে টিকা কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ শেখ হাসিনার

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১
  • ৫৯ Time View

ছবি সংগ্রহ

প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গণ টিককার্যক্রম শুরু করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে ব্যাপকভাবে ভ্যাকসিন কার্যক্রম চলছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সম্মুখ সারির যোদ্ধা পরিবারই শুধু নয়, তাদের বাড়িতে যারা কাজ করে তাদেরকেও ভ্যাকসিন দেয়া হবে। তাতে সবাই সুরক্ষিত থাকবে।

শেখ হাসিনা বার বার বলে আসছেন, ভ্যাকসিন কিনতে যত টাকা প্রয়োজন দেয়া হবে। একথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আবারও বললেন, যত টাকা লাগবে, যত ভ্যাকসিন দরকার হবে, তা বাংলাদেশে ভ্যাকসিন তৈরি করবো যাতে মানুষের কোন অসুবিধা না হয়।

পুরষ্কার তুলে দিচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজ্জাম্মেল হক, পাশে জনপ্রমাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন

‘জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস’ উদযাপন এবং ‘জনপ্রশাসন পদক ২০২০ ও ২০২১’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের সাহায্যে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ গ্রহণ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় ১ কোটি ৮৭ লাখ মানুষ টিকা পেয়েছে।

বাংলাদেশের বয়স্ক কোন মানুষ টিকা প্রাপ্তি থেকে বাদ যাবে না। ছাত্র-শিক্ষক থেকে শুরু করে সকলের জন্যই টিকার ব্যবস্থা করবো। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়েই ফের উচ্চারণ করলেন সকলের মানুষের টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিত অবশ্যই করবো।

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা

তিনি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হলো, এটা আমাদের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিরা প্রত্যেকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন বলেই হয়েছে। আমরা যে পরিকল্পনাগুলো নিয়েছি সেগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছেন এবং মানুষ

তার সুফল পেয়েছে বলেই দেশের উন্নতি সম্ভব হয়েছে। এই সফলতায় সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

১৯৭৫ সালের ১০ জানুয়ারি পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে জাতির পিতার ভাষণের উদ্ধৃতি তুলে ধরে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা আন্তরিকভাবে মানুষের সেবা করতে হবে।

“জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘সমস্ত সরকারি কর্মচারিদের আমি অনুরোধ করি, যাদের অর্থে আমাদের সংসার চলে তাদের সেবা করুন, যাদের অর্থে আজকে আমরা চলছি তাদের যাতে কষ্ট

না হয় তার দিকে খেয়াল রাখুন। যারা অন্যায় করবে তাদের অবশ্যই আপনারা কঠোর হস্তে দমন করবেন। কিন্তু সাবধান একটা নিরাপরাধ লোকের ওপর যেন অত্যাচার না হয়।

তাহলে আল্লাহর আরশ পর্যন্ত কেঁপে উঠবে। আপনারা সেইদিকে খেয়াল রাখবেন। আপনারা যদি অত্যাচার করেন শেষ পর্যন্ত আমাকেও আল্লাহর কাছে তার জবাবদিহি করতে হবে। কারণ, আমি

আপনাদের নেতা আমারও সেখানে দায়িত্ব রয়েছে। আপনাদের প্রত্যেকটি কাজের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত আমার ঘাড়ে চাপে।

গ্রুপ ভিত্তিক পদক পেলেন যারা

আমার সহকর্মীদের ঘাড়েও চাপে। এজন্য আপনাদের কাছে আমার আবেদন রইল, অনুরোধ রইল, আদেশ রইল-আপনারা মানুষের সেবা করুন। মানুষের সেবার মত শান্তি দুনিয়ার আর

কিছুতে হয় না। একজন গরিব যদি হাত তুলে আপনার জন্য দোয়া করেন আল্লাহ সেটা কবুল করে নেন।”

শেখ হাসিনা করোনার মধ্যেও বাংলাদেশের অগ্রগতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি করোনা আক্রান্তদের সেবা করতে গিয়ে গত দেড় বছরে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন সরকারি কর্মচারিদের পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা রক্ষকারি বাহিনীর সদস্য, দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী,

সকলের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, ভাল কাজের যেমন পুরস্কার পাবেন তেমনি কেউ যদি খারাপ কাজে সম্পৃক্ত হন তাহলে তাদের ক্ষমা নেই। তাদের কঠোর শাস্তি পেতে হবে। এই শৃঙ্খলাটা থাকতে হবে। এই নিয়মটা থাকতে হবে এবং সেটাই আমরা করবো।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে প্রশাসনের উন্নয়নের জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গৃহীত উদ্যোগের বিষয়ে সরকারী কর্মকর্তাদের লেখা দু’টি স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক-২০২০ এবং ২০২১ সালের জন প্রশাসন পদক বিজয়ীদের মাঝে স্বর্ণ পদক, চেক, ক্রেস্ট এবং সনদ বিতরণ করেন।

জন প্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রকের সিনিয়র সচিব কে এম আলি আজম স্বাগত

বক্তৃতা করেন। জন প্রশাসন মন্ত্রকের কর্মকান্ডের ওপর অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারিও প্রচার করা হয়।

প্রধান মন্ত্রী বলেন, আমি সরকারি কর্মচারিদের বলবো, জনগণের সেবা করাই সবচেয়ে বড় কাজ। আপনারা অনেকেই চমৎকার উদ্ভাবনী কাজ করেছেন যা দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগছে

এবং আপনাদের কাজ গুলোর সুফল আগামী প্রজন্ম ভোগ করবে। এভাবেই বাংলাদেশকে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর আজকে ২০২১ এর মাঝে আমাদের অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। সেগুলো মোকাবেলা করে এগিয়ে যাওয়ার মধ্যেই এলো অদৃশ্য শত্রু করোনা। ইনশাল্লাহ এর হাত থেকেও আমরা মুক্তি পাব।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2017 voiceekattor
কারিগরি সহযোগিতায়: সোহাগ রানা
11223