ঢাকা ০৯:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করছে সরকার: শফিকুল আলম ইজারা প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা জনগণের রায়ে শেখ হাসিনার সন্তানরাও রাজনীতিতে আসতে পারেন বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো ধর্ম-বর্ণ বিবেচনা করবে না : তারেক রহমান মৎস্যসম্পদ আমাদের সামগ্রিক জীবনবোধের অংশ: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ঢাকায় বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা: ৩৮ দেশের কূটনীতিক অংশগ্রহণ এপস্টেইন ফাইল: এক বিতর্কিত কিশোরী যৌন পাচারের নথি এবং মার্কিন রাজনীতির প্রভাব হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে রবিবার জাতিসংঘে চিঠি পাঠাবে সরকার ঢাকার শাহবাগে পুলিশ-ইনকিলাব মঞ্চ সংঘর্ষ, আহত অর্ধশত জাপানের সঙ্গে প্রথম ইপিএ সই: শুল্কমুক্ত বাজারে ৭ হাজারের বেশি বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ

গণহত্যা দিবস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৮:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ মার্চ ২০২১ ৩২৫ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া উচিত

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক, ঢাকা 

গণহত্যা দিবস আজ। ১৯৭১ সালে মানবসভ্যতার ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বরতম গণহত্যার সূচনা হয়েছিল ২৫ মার্চের কালরাতে। হালাকু, চেঙ্গিস ও হিটলারের বশংবদ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ওই রাতে কাপুরুষোচিতভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঙালির ওপর। শুরু করে অপারেশন সার্চলাইট নামের পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ। ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

পাকিস্তানে প্রথমবারের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী বাঙালির ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। সে সম্ভাবনা নস্যাৎ করতে ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে সামরিক জান্তা। একাত্তরের মার্চের শুরুতেই পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের আহূত অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলন শুরু করলে পাকিস্তানিরা বাঙালিদের দমনে কৌশলী ভূমিকা নেয়।

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার আড়ালে সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান বাংলাদেশে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তাদের বৈঠকে অপারেশন সার্চলাইট শুরুর নির্দেশ দিয়ে ঢাকা ত্যাগ করেন। সেদিন মধ্যরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী রাজধানী ঢাকায় মেশিনগান, কামান বিক্যুয়লস রাইফেল, মর্টার নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসসহ রাজধানীর প্রায় সর্বত্র তারা ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সারা দেশে যে হত্যাযজ্ঞ শুরু হয় তা অব্যাহত থাকে ’৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ পর্যন্ত। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা বাংলাদেশে গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাটসহ যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল তা সুস্পষ্টভাবে যুদ্ধাপরাধ। পাকিস্তান সরকার যুদ্ধাপরাধে জড়িত সেনাদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পালন করেনি।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্বর জাতি হিসেবে পাকিস্তানিরা যে পরিচিতি গড়ে তুলেছিল তা এখনো ধারণ করে চলেছে। নিজেদের অপরাধের জন্য ক্ষমা চাওয়ার মানবিক আচরণও তারা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তানের এ ব্যর্থতা তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাভাবিক সম্পর্কে অন্তরায় সৃষ্টি করছে। নিজেদের সভ্য দেশ হিসেবে পরিচিত করতে চাইলে পাকিস্তান গণহত্যার জন্য বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইবে- এমনটিই প্রত্যাশিত।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গণহত্যা দিবস

আপডেট সময় : ১১:০৮:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ মার্চ ২০২১

পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া উচিত

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক, ঢাকা 

গণহত্যা দিবস আজ। ১৯৭১ সালে মানবসভ্যতার ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বরতম গণহত্যার সূচনা হয়েছিল ২৫ মার্চের কালরাতে। হালাকু, চেঙ্গিস ও হিটলারের বশংবদ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ওই রাতে কাপুরুষোচিতভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঙালির ওপর। শুরু করে অপারেশন সার্চলাইট নামের পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ। ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

পাকিস্তানে প্রথমবারের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী বাঙালির ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। সে সম্ভাবনা নস্যাৎ করতে ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে সামরিক জান্তা। একাত্তরের মার্চের শুরুতেই পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের আহূত অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলন শুরু করলে পাকিস্তানিরা বাঙালিদের দমনে কৌশলী ভূমিকা নেয়।

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার আড়ালে সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান বাংলাদেশে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তাদের বৈঠকে অপারেশন সার্চলাইট শুরুর নির্দেশ দিয়ে ঢাকা ত্যাগ করেন। সেদিন মধ্যরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী রাজধানী ঢাকায় মেশিনগান, কামান বিক্যুয়লস রাইফেল, মর্টার নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসসহ রাজধানীর প্রায় সর্বত্র তারা ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সারা দেশে যে হত্যাযজ্ঞ শুরু হয় তা অব্যাহত থাকে ’৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ পর্যন্ত। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা বাংলাদেশে গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাটসহ যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল তা সুস্পষ্টভাবে যুদ্ধাপরাধ। পাকিস্তান সরকার যুদ্ধাপরাধে জড়িত সেনাদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পালন করেনি।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্বর জাতি হিসেবে পাকিস্তানিরা যে পরিচিতি গড়ে তুলেছিল তা এখনো ধারণ করে চলেছে। নিজেদের অপরাধের জন্য ক্ষমা চাওয়ার মানবিক আচরণও তারা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তানের এ ব্যর্থতা তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাভাবিক সম্পর্কে অন্তরায় সৃষ্টি করছে। নিজেদের সভ্য দেশ হিসেবে পরিচিত করতে চাইলে পাকিস্তান গণহত্যার জন্য বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইবে- এমনটিই প্রত্যাশিত।