ঢাকা ১২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টিকা পাবে ১ কোটি ৮০ শিশু: প্রথম দিনই পাবে প্রায় ১৯ লাখ শিশু তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি: মানবিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ জ্বালানি-বিদ্যুতের সংকটে শিল্প উৎপাদন ও কৃষি সেচে স্থবিরতা ভারতীয় হাই কমিশনের উদ্যোগে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হলো পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ হরমুজে ফি দিয়েও জাহাজ চলাচল বন্ধ করল ইরান, বাড়ছে উত্তেজনা বৈঠকের আগে ‘সমঝোতার রূপরেখা’, পরে আলোচনা: ইরান সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ৩০০ মিটার সড়ক নদীগর্ভে, দুর্ভোগে লক্ষাধিক মানুষ ভারত থেকে আসলো আরও ৫ হাজার টন ডিজেল, স্বস্তির আভাস জ্বালানি খাতে মাত্র দুই মাসেই ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তোষণ, দুর্নীতি ও স্বার্থের জালে জ্বালানি খাত ধ্বংস করেছে পতিত সরকার: দেবপ্রিয়

ইরান যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে কাঁপছে ইসরায়েলি রাজনীতি: নেতানিয়াহুকে ‘ব্যর্থ’ বললেন লাপিদ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৫৮:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদফাইল ছবি: রয়টার্স

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরান ইস্যুতে যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে ঘিরে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ

এই সিদ্ধান্তকে সরাসরি ‘রাজনৈতিক বিপর্যয়’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু -এর কঠোর সমালোচনা করেছেন।

লাপিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর একটি হলেও যুদ্ধবিরতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ইসরায়েলকে কার্যত পাশ কাটানো হয়েছে।

তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও, সেই আলোচনায় ইসরায়েলের কোনো সক্রিয় ভূমিকা ছিল না, যা দেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করে দিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে লাপিদ আরও বলেন, নেতানিয়াহুর সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরায়েলের অবস্থান শক্তভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। তার মতে, এটি শুধু একটি কৌশলগত ভুল নয়, বরং ইসরায়েলের জন্য দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে একধরনের স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে টানা উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে এই সাময়িক বিরতি আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বড় ধরনের যুদ্ধের ঝুঁকি আপাতত কমিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে।

তবে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্পও। বিভিন্ন মহলে এটি তার কৌশলগত পিছু হটা বা রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, ইরানের কঠোর অবস্থানের মুখে যুক্তরাষ্ট্রকে আপস করতে হয়েছে, যা ওয়াশিংটনের প্রভাব কমার ইঙ্গিত দেয়।

এদিকে ইরানকে ঘিরেও ভিন্নধর্মী প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। দেশটির পক্ষ থেকে দৃঢ় অবস্থান নেওয়াকে অনেকেই “দাঁতভাঙা জবাব” হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও কিছু আন্তর্জাতিক মহলে ইরানের কৌশলগত স্থিতিশীলতা ও চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে প্রশংসা করছেন।

সব মিলিয়ে, এই যুদ্ধবিরতি একদিকে যেমন সম্ভাব্য বড় সংঘাত এড়াতে সহায়ক হয়েছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থান এবং ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব সবকিছুকেই নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ইরান যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে কাঁপছে ইসরায়েলি রাজনীতি: নেতানিয়াহুকে ‘ব্যর্থ’ বললেন লাপিদ

আপডেট সময় : ১২:৫৮:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

ইরান ইস্যুতে যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে ঘিরে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ

এই সিদ্ধান্তকে সরাসরি ‘রাজনৈতিক বিপর্যয়’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু -এর কঠোর সমালোচনা করেছেন।

লাপিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর একটি হলেও যুদ্ধবিরতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ইসরায়েলকে কার্যত পাশ কাটানো হয়েছে।

তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও, সেই আলোচনায় ইসরায়েলের কোনো সক্রিয় ভূমিকা ছিল না, যা দেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করে দিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে লাপিদ আরও বলেন, নেতানিয়াহুর সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরায়েলের অবস্থান শক্তভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। তার মতে, এটি শুধু একটি কৌশলগত ভুল নয়, বরং ইসরায়েলের জন্য দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে একধরনের স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে টানা উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে এই সাময়িক বিরতি আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বড় ধরনের যুদ্ধের ঝুঁকি আপাতত কমিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে।

তবে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্পও। বিভিন্ন মহলে এটি তার কৌশলগত পিছু হটা বা রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, ইরানের কঠোর অবস্থানের মুখে যুক্তরাষ্ট্রকে আপস করতে হয়েছে, যা ওয়াশিংটনের প্রভাব কমার ইঙ্গিত দেয়।

এদিকে ইরানকে ঘিরেও ভিন্নধর্মী প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। দেশটির পক্ষ থেকে দৃঢ় অবস্থান নেওয়াকে অনেকেই “দাঁতভাঙা জবাব” হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও কিছু আন্তর্জাতিক মহলে ইরানের কৌশলগত স্থিতিশীলতা ও চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে প্রশংসা করছেন।

সব মিলিয়ে, এই যুদ্ধবিরতি একদিকে যেমন সম্ভাব্য বড় সংঘাত এড়াতে সহায়ক হয়েছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থান এবং ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব সবকিছুকেই নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।