ঢাকা ০৬:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মায়ের ছোট্ট অনুরোধে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রে শিশুদের ‘খেলা ঘর’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা কক্মাসবাজার তারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যু এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাস ৬২.২৫ শতাংশ নদী মরছে, বিপন্ন হচ্ছে নগরসভ্যতা থেমে গেছে প্রতিদিনের হাঁটা ১১ পলিথিনে খন্ডিত মরদেহ মেলেনি মাথা-পা বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত প্রধানমন্ত্রীর উপহার সিএনজি-রিকশা পেলেন জুলাইযোদ্ধারা ভারত হাসিনা কার্ড খেলবে, আবার বন্ধুত্বও চাইবে:সালাহউদ্দিন

আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না ইরানের সঙ্গে আজই নতুন আলোচনার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৭:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬ ৫১ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে চান না। একই সঙ্গে তার মন্তব্য, তিনি মানুষ হত্যা করতে চান না এবং পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিই দেখতে চান।

এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কয়েকটি দেশ তাকে সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের বিশ্বাস, সম্ভাব্য সমঝোতার মৌলিক কাঠামো বা সীমারেখা নিয়ে ইতোমধ্যেই ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান। এর আগেও একাধিকবার তিনি আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত যুদ্ধের অবসানের আশা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু প্রতিবারই নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, চুক্তি কবে হবে তা নিয়ে তিনি কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করতে চান না। তার ভাষায়, দেখা যাক কী হয়। আমরা যখন চাই, তখনই পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত… আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।

তিনি আরও জানান, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার দেশগুলোও সপ্তাহান্তে হামলা না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, তারা মনে করছে হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি উভয় ইস্যুতেই সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর সোমবার এশিয়ার লেনদেনে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৯৮ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৭৪ ডলারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা চলছে। এর প্রধান কারণ, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা মেহর। সংস্থাটি দাবি করেছে, সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখতে তেহরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ জানায়নি। ট্রাম্পের বক্তব্যকে তারা আরেকটি নতুন মিথ্যা বলে উল্লেখ করেছে।

এর আগে রবিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। তবে সোমবারের সম্ভাব্য বৈঠক কোথায় হবে বা এতে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনো তথ্য দেননি।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প আরও বলেন, পরিকল্পিত সামরিক অভিযান বাস্তবায়িত হলে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি হতে পারত। তার মতে, এমন পদক্ষেপ কয়েক মাস ধরে চলা আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দিতে পারত।

তবে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, এ প্রশ্নের সরাসরি জবাব তিনি দেননি। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অবকাঠামোতে হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আলোকে যুদ্ধাপরাধের প্রশ্ন তুলতে পারে।

অন্যদিকে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেছেন, প্রতিপক্ষের প্রতিটি হুমকিকেই তেহরান বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে, তা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হলেও। তার ভাষায়, ‘আমরা কখনোই অপ্রস্তুত থাকব না, আবার নিষ্ক্রিয়ও থাকব না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না ইরানের সঙ্গে আজই নতুন আলোচনার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

আপডেট সময় : ০৯:৪৭:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে চান না। একই সঙ্গে তার মন্তব্য, তিনি মানুষ হত্যা করতে চান না এবং পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিই দেখতে চান।

এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কয়েকটি দেশ তাকে সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের বিশ্বাস, সম্ভাব্য সমঝোতার মৌলিক কাঠামো বা সীমারেখা নিয়ে ইতোমধ্যেই ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান। এর আগেও একাধিকবার তিনি আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত যুদ্ধের অবসানের আশা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু প্রতিবারই নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, চুক্তি কবে হবে তা নিয়ে তিনি কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করতে চান না। তার ভাষায়, দেখা যাক কী হয়। আমরা যখন চাই, তখনই পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত… আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।

তিনি আরও জানান, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার দেশগুলোও সপ্তাহান্তে হামলা না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, তারা মনে করছে হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি উভয় ইস্যুতেই সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর সোমবার এশিয়ার লেনদেনে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৯৮ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৭৪ ডলারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা চলছে। এর প্রধান কারণ, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা মেহর। সংস্থাটি দাবি করেছে, সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখতে তেহরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ জানায়নি। ট্রাম্পের বক্তব্যকে তারা আরেকটি নতুন মিথ্যা বলে উল্লেখ করেছে।

এর আগে রবিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। তবে সোমবারের সম্ভাব্য বৈঠক কোথায় হবে বা এতে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনো তথ্য দেননি।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প আরও বলেন, পরিকল্পিত সামরিক অভিযান বাস্তবায়িত হলে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি হতে পারত। তার মতে, এমন পদক্ষেপ কয়েক মাস ধরে চলা আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দিতে পারত।

তবে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, এ প্রশ্নের সরাসরি জবাব তিনি দেননি। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অবকাঠামোতে হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আলোকে যুদ্ধাপরাধের প্রশ্ন তুলতে পারে।

অন্যদিকে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেছেন, প্রতিপক্ষের প্রতিটি হুমকিকেই তেহরান বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে, তা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হলেও। তার ভাষায়, ‘আমরা কখনোই অপ্রস্তুত থাকব না, আবার নিষ্ক্রিয়ও থাকব না।